ঢাকাSunday , 15 December 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিজয়ের স্বপ্ন পূরণ হোক এটাই প্রত্যাশা

তালুকদার রুমী
December 15, 2024 8:07 pm
Link Copied!

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালে এই দিনে বিজয়ের হাসি হেসেছিল বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ওই বিজয়ে বাঙালি জাতির ইতিহাসে রচিত হয়েছিল এক চিরস্মরণীয় যুগান্তকারী কালজয়ী অধ্যায়ের। যে বিজয়ের হাত ধরেই এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল লাখো শহিদের রক্তে কেনা লাল সবুজে আচ্ছাদিত শিল্পীর তুলিতে আঁকা অপরূপ দেশটির। কিন্তু বারবার লাল সবুজের এই বিজয়ের সব স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা বুকে নিয়ে ৫৩ বছর পার করেছে এদেশের মানুষ। কত শত স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে লড়াই করে বিজয় এনেছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা। বিজয়ের এই দিনে তাদেরক আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাদের অতুলনীয় আত্মত্যাগে আজ আমরা বাংলার সবুজ শ্যামলে ঘেরা স্বাধীন সুন্দর এই ভূখ- পেয়েছি। লাল-সবুজের এক গর্বিত পতাকা পেয়েছি। তাদেরই স্বপ্ন ছিল এই দেশ একদিন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে এবং বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।থাকবে না ক্ষুধা, দারিদ্র, দুর্নীতি। বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক একটি সোনার বাংলাদেশ গঠিত হবে। কিন্তু তা হয়নি। এদেশের শাসক গোষ্ঠী বারবার ৩০ লাখ শহিদের রক্তের সাথে বেঈমানি করেছে। অতীতে যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারই লুটপাট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। শহীদদের সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন তা স্বপ্নই রয়ে গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে অনিয়ম দুর্নীতি আর মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। মানুষের বাক স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার সব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচারের কোন কিছুই ছিল না। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দেশে গত পনের বছরে ‘চামচা পুঁজিবাদ থেকেই চোরতন্ত্র’ তৈরি হয়েছিলো, যাতে রাজনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক আমলা, বিচার বিভাগসহ সবাই অংশ নিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৮ উপায়ে দুর্নীতির মাধ্যমে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।এতে দেখা যায় গড়ে প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন বা এক হাজার ৬০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। টাকার অংকে যা প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। তবে এই অনিয়ম ও দু:শাসনের বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছে আমাদের তরুণরা। মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্ন, প্রত্যয় এবং দেশপ্রেম নিয়ে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেটারই ধারাবাহিকতা ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান। আমাদের তরুণরা, ছাত্ররা জীবনের মায়া উপেক্ষা করে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে। অকাতরে তারা জীব দিয়েছে। প্রায় ২ হাজার ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে, অনেকের পঙ্গুত্ব বা অন্ধত্বের বিনিময়ে দেশ আবার দ্বিতীয় বিজয় অর্জন করেছে। ১৯৭১ সালে বহু মানুষের আত্মত্যাগের পর, বহু বুদ্ধিজীবীর আত্মত্যাগের পর আমরা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু এবারের এই দ্বিতীয় বিজয় কোনোভাবেই যেন ব্যর্থ না হয় সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। সকল ষড়যন্ত্রকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করে বিজয়ের স্বপ্নকে পূরণ করতে হবে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতি, অর্থপাচার অর্থনীতিকে ফোকলা করে দিয়েছে। তার পতনের পর এর পুরো বোঝা এসে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপর। বিগত সরকারের দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি জানিয়েছে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরে দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকার বেশি পাচার করা হয়েছে। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, দেশের অর্থনীতিকে কীভাবে হাসিনা সরকারের দুর্নীতিবাজরা লুটেপুটে খেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দ্রুত কিছু উদ্যোগ নিয়ে তা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে লুটপাট হয়ে যাওয়া ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে স্বল্প সময়ে পুনরুদ্ধার করা সহজ কাজ নয়। এজন্য সময় প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রে, সাধারণ মানুষ যে কষ্টের জীবন অতিবাহিত করছে, সবার আগে তা দূর করার উদ্যোগ নেয়া জরুরি। এ জন্য একটি সৎ যোগ্য এবং নৈতিকতাসম্পন্ন নেতৃত্ব প্রয়োজন। আর এটা তরুণ প্রজন্ম থেকেই গড়ে উঠা সম্ভব। বর্তমান প্রজন্ম আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শিক্ষিত, প্রযুক্তিসচেতন এবং ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার। সমাজের উন্নয়ন এবং দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে শুধু ব্যক্তিক উন্নয়ন নয়, প্রয়োজন দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের একটি জোরালো অবস্থান। হোক সেটি রাজনৈতিক পছন্দ বা নেতৃত্বের সাপোর্ট, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এই সিদ্ধান্তগুলো যেন আমরা নৈতিকতা, সততা এবং দেশের স্বার্থ মাথায় রেখে নেই। নিজেদের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতিমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়ার এখনই উপযুক্ত সময়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আজ গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছে। বাংলাদেশেও দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের একটি জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে যদি দেশপ্রেম, সততা এবং সাহসিকতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ একদিন দুর্নীতিমুক্ত এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।দায়িত্ববান নাগরিক হতে হলে নৈতিকতা এবং সততাই হতে হবে প্রথম ও প্রধান গুণ। দেশপ্রেমিক নাগরিক হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি প্রয়োজন, তা হলো নৈতিক মূল্যবোধের উপর অটল থাকা। ভোটের মাধ্যমে আমরা দেশের নেতৃত্ব নির্বাচন করি, যা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। সামান্য অর্থের বিনিময়ে ভোট বিক্রি করে দেয়া মানে নিজের এবং দেশের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া। দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত দায়িত্ব নিয়ে সঠিক মানুষকে ভোট দেয়া। অনেকেই সুবিধা পাওয়ার জন্য ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ‘তেল’ মারেন, যা সমাজের ন্যায়ের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে। সঠিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক কখনো তোষামোদ করে কারও আশীর্বাদ পেতে চায় না, বরং সে সত্য ও সঠিক পথে থাকতে আগ্রহী।আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের অন্যায় ও দুর্নীতি রয়েছে, যা সমাজ এবং দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই একটি সৎ এবং প্রগতিশীল সমাজ গড়তে হলে প্রতিটি অন্যায় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদী হতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে সত্যের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার। তাই, ভয় বা চাপের কারণে কারও কথা শুনে নীরব থাকার পরিবর্তে, সাহস নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।সৎ নাগরিক কখনো নিজের স্বার্থের জন্য কাউকে তোষামোদ করে না কিংবা নিজের নৈতিকতা বিক্রি করে না। নিজের এবং দেশের উন্নতির জন্য সবসময় সঠিক ও ন্যায়ের পথে থাকে।গণতন্ত্র মানে কেবল ভোট দেয়া নয়, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা ন্যায়, সমতা এবং সবার মতামতকে সমানভাবে সম্মান জানায়। তাই, তরুণ প্রজন্মকে শুধু ভোটের সময় নয়, প্রতিদিনই গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। দেশ এবং সমাজে যখনই কোনো অন্যায় হবে, তখনই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে তার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, যা সত্যিকার অর্থে প্রশংসনীয়। এটি সত্যিকারের গণতন্ত্রের এক নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব ইত্যাদিতে আমরা প্রতিদিন নানা ধরনের অন্যায় এবং দুর্নীতির খবর দেখতে পাই, যা সহজেই সবার সামনে তুলে ধরা যায় এবং প্রতিকার চাওয়া যায়। প্রযুক্তির এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের দুর্নীতিমুক্ত একটি ইমেজ তৈরি করার জন্য এক হয়ে কাজ করতে হবে।দুর্নীতি মানে কেবল অর্থের অপচয় নয়, এটি একটি জাতির সম্মান এবং জনগণের আস্থাকেও নষ্ট করে দেয়। সমাজে সঠিক নেতৃত্ব আনতে হলে দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি প্রয়োজন, যা একটি নিরাপদ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের ভিত্তি। তরুণ প্রজন্মের উচিত নিজেদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৎ এবং যোগ্য নেতৃত্বকে নির্বাচিত করা, যারা জাতিকে গর্বিত করতে পারবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।আজকের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সাহস, যুক্তি এবং নতুন ধারণা। তারা জানে, সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে কেবল সৎ এবং ন্যায়নিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাই, নিজেদের সিদ্ধান্তে এবং আচরণে সদা সত্যের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে এবং কোনো প্রলোভনে নিজের বিবেক এবং নৈতিকতা বিক্রি করা যাবে না। নৈতিকতার ভিত্তিতে পরিবর্তনের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।নতুন প্রজন্মের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, এবং গর্বের একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে, একটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত এবং মানবিক মূল্যবোধে পরিপূর্ণ সমাজ গঠন করা। নিজেদের দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে আমরা যেন কারো প্রলোভনের শিকার না হই।সামান্য অর্থ বা প্রলোভনের কারণে যেন আমাদের নৈতিকতা এবং মানবতাকে কখনো বিক্রি করতে না হয়। আমাদের জন্ম হয়েছে সঠিক পথে সাহস নিয়ে চলার জন্য, কারো গোলামি করার জন্য নয়। আসুন, আমাদের দায়িত্ব নিজেরাই বুঝে নিয়ে সৎ ও দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা আমাদের আশু ও সার্বক্ষণিক কর্তব্য হোক।