ঢাকাWednesday , 27 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এত নৈরাজ্যের পরও সরকার নিরব কেন

তালুকদার রুমী
November 27, 2024 9:54 pm
Link Copied!

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থনে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তা নস্যাৎ করতে সর্বত্র চলছে গভীর ষড়যন্ত্র। পুলিশ, র‌্যাব, প্রশাসন, আদালতসহ সকল সেক্টরে পালিয়ে যাওয়া হাসিনা সরকারের দোসররা বিভিন্নভাবে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। দেশজুড়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গত ২-৩ দিন ধরে ইসকনের নেতা-কর্মীরাবাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের ব্যানারে ব্যাপক আন্দোলনের নামে অরজাকতা চালাচ্ছে। এ সংগঠনের মুখপাত্র ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারে প্রতিবাদে সনাতনীরা ২৫ নভেম্বর ডিবি কার্যালয় ঘেরাও করে। ২৬ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে তার সমর্থকরা প্রিজনভ্যান ঘিরে রাখে। পুলিশ তাদের সরাতে গেলে ইসকন নেতাকর্মীরা সেখানে ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর চালায়। তারা চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়া ওই এলাকায় অনেক গাড়ি ভাংচুর করেছে, মসজিদে হামলা চালিয়েছে। চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সংঘর্ষে সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবী নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ২৬ নভেম্বর রাতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান। অন্যদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনকারীদের হামলায় নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে জামায়াতের কর্মী দাবি করে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তা অত্যন্ত জঘন্য এবং নিন্দনীয় অপরাধ। একটি গোষ্ঠী পতিত স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশকে অস্থির করার জন্য ক্রমাগতভাবে দুরভিসন্ধি ও অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলতে চায়। দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের দুরভিসন্ধির ব্যাপারে পরিপূর্ণ সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। তাদের অপচেষ্টা অতীতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, আগামীতেও ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ।সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্থিতিশীল হয়ে একটা শান্ত. সুন্দর পরিবেশে যাতে কাজ শুরু করতে না পারে সে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সদ্য পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সরকারের প্রেতাত্মারা। প্রায় ১৮ বছর ধরে হাসিনা সরকার সারাদেশে তার দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী ও সংগঠন দিয়ে মানুষকে হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তা স্বল্প সময়ে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। ঢাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই। সরকারের সাড়ে ৩ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে ইতোমধ্যেই। এই গোটা সময়টাতে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনের নামে সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর এবং গণদুর্ভোগ চরমে নেয়ার অপপ্রয়াস চলেছে পূর্বাপর। এখনো এর অবসান ঘটেনি। গত ক’দিন ধরে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের বেপরোয়া তাণ্ডব প্রত্যক্ষ করছে নগরবাসী। তারা সড়ক দখল ও অবরোধ করে রাখছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। গাড়ি ভাংচুর করছে। কোথাও কোথাও বাসাবাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা করছে। পুলিশ, এমনকি সেনাসদস্যদের ওপর হামলা করতেও তারা পিছপা হচ্ছে না। পরিকল্পিত এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নাশক তৎপরতা প্রকৃতপক্ষে কারা চালাচ্ছে তা নিয়ে জনমনে বিরাট প্রশ্ন রয়েছে। ইতোপূর্বে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে শাহবাগে সমাবেশ, আনসারদের আন্দোলন ও সচিবালয়ে অনুপ্রবেশ, গার্মেন্ট শ্রমিকদের নামে আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ ইত্যাদি ঘটনায় পতিত স্বৈরাচারের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্ররোচণা ও অংশগ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। পত্রপত্রিকায় এ সম্পর্কে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের রাস্তা অবরোধ ও তাণ্ডবের পেছনেও পতিত স্বৈরাচারের অনুসারী অনুগামীরাই যুক্ত বলে তথ্য আছে। দৈনিক ইনকিলাবে ২৫ নভেম্বর প্রকাশিত এক খবরে স্পষ্টতই বলা হয়েছে, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা রিকশা শ্রমিক লীগের হয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের নামে ঢাকায় কয়েকদিন যাবত সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে তাণ্ডব করছে। বলা বাহুল্য, ঢাকার মতো জনবহুল ও ব্যস্ত নগরীতে এভাবে সড়ক অবরোধ ও সন্ত্রাসের কারণে জনমনে ভীতি আতংক সৃষ্টি ছাড়াও যাতায়াতে দারুণ বিঘ্ন ঘটছে। সড়ক যান ও জন চলাচলের জন্য নির্মিত ও উন্মুক্ত। অবরোধ ও বাধা সৃষ্টি করে তাকে অচল করে দেয়ার অধিকার কারো নেই। অথচ, কারণে অকারণে সড়ক অবরোধ, ভাংচুর ও নাশকতা চলছে। দুঃখজনক হলেও লক্ষ করা যাচ্ছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ তেমন কোনো ভূমিকাই রাখছে না। পুলিশের এই ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। স্বৈরাচারের দোসর হিসাবে পুলিশ গত সাড়ে ১৫ বছর যে বেপরোয়া ত্রাস প্রদর্শন করেছে এবং সর্বশেষ জুলাই আগস্ট আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি করে গণহত্যা করেছে, তার নজির বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। বিপ্লবোত্তর কালে পুলিশের অনেক সদস্যই পালিয়ে গেছে। বাহিনী হিসাবে পুলিশ বিশৃঙ্খল, ট্রমাক্রান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের মধ্যে এখনো স্বৈরাচারের বংশবদদের থাকা অসম্ভব নয়, যারা দায়িত্ব পালনে গড়িমসি বা অবহেলা প্রদর্শন করছে। পুলিশ সক্রিয় ও তৎপর হলে সড়কে বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস ও অচলাবস্থা এতটা উদ্বেগজনক হতে পারতো না। গত ২৪ ও ২৫ নভেম্বর পুরনো ঢাকায় চরম অরাজকতা প্রত্যক্ষ করা গেছে। বিক্ষোভ, হামলা, ভাংচুর, সড়ক অবরোধ অবস্থান কর্মসূচি কী হয়নি? একজন কলেজ শিক্ষার্থী ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে, এমন অভিযোগের সূত্র ধরে এই তুলকালাম কাণ্ড হয়েছে। শিক্ষার্থীটি ছিল যাত্রাবাড়ীর ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) সাবেক। তার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের ছাত্ররা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাংচুর করে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ডিএমআরসি কলেজের বিক্ষোভরত ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। এরই প্রেক্ষিতে আশপাশের কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে সোহরাওয়ার্দী ও নজরুল কলেজে হামলা, ভাংচুর, অগ্নি সংযোগের চেষ্টা চালায়। এতে পুরনো ঢাকার একটা বড় এলাকায় ভীতি ত্রাস ছড়িয়ে পড়ে। কলেজ দুটির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং ওইদিনের পরীক্ষা কলেজ কর্তৃপক্ষকে বাতিল করে দিতে হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৫ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী ও নজরুল কলেজসহ অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা ডিএমআরসি কলেজে চড়াও হয় ও ভাংচুর করে। ২৪ ও ২৫ তারিখ হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হযেছে। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু আমাদের দেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়। ভুল চিকিৎসা যেমন অকাম্য, তেমনি তাতে মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু এ ধরনের অভিযোগ তুলে চিকিৎসক অথবা হাসপাতালের ওপর হামলা চালানো মোটেই সমীচীন নয়, যদিও এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যে শিক্ষার্থী মারা গেছে সে ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে, তা কি প্রমাণিত? প্রমাণিত হলেও চিকিৎসক বা হাসপাতালের ওপর হামলা বৈধ নয়। এজন্য আইন-আদালত আছে। আলোচ্য ক্ষেত্রে তিল তালে পরিণত হয়েছে। অনেকেরই এতে ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা অত্যন্ত অনভিপ্রেত, এটা কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি জনতার সঙ্গে মিলে যে অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান ঘটিয়ে স্বৈরাচার বিতাড়িত করে অনন্য ইতিহাস রচনা করেছে। তাদের একাংশের এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত। প্রসঙ্গত আবারও পুলিশের ভূমিকার কথা ওঠে। পুরনো ঢাকার অনাকাঙ্খিত ঘটনাবলী রোধে পুলিশ নিষ্ক্রিয় থেকেছে। এ মূর্হূতে পুলিশকে সক্রিয় ও উজ্জীবিত করা জরুরি। এ ব্যাপারে নতুন আইজিপি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করি। এ ছাড়া ম্যাজিট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে সেনাবাহিনী নিরব দর্শকের ভূমিকায় না থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এটাও সবার প্রত্যাশা। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, পতিত স্বৈরাচারের সঙ্গী সাথী, অনুসারী, দলীয় ও সহযোগী সংগঠন সমূহের পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা মুখ বের করতে শুরু করেছে। সরকার সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। অথচ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, এমন কি লাঠিমিছিল পর্যন্ত করেছে। ছাত্রলীগই নয়, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, রিকশালীগ, হিন্দুলীগ ইত্যাদিও নানাভাবে তাদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। এসব লীগ গত সাড়ে ১৫ বছরে এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা করেনি। মানুষকে মানুষ বলে মনে করেনি। এসব অপরাধী ও জুলুমবাজ ‘লীগে’র নাম নিশানা দেশের মানুষ দেখতে চায় না। ভারতে বসে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা টেলিফোনের মাধ্যমে তার ফেলে যাওয়া নেতাকর্মীদের প্ররোচণা ও উসকানি দিচ্ছেন মাঠে নামতে, অরাজকতা ও নাশকতা করতে। ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে ও পরিকল্পনা মোতাবেক তিনি এ কাজ করছেন। তাতে সন্দেহ নেই। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুরুতেই শেখ হাসিনার কথা বলার ব্যাপারে সর্তক করে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা তার কথায় গুরুত্ব দেননি। ভারতও তাতে কর্ণপাত করেনি। বিষয়টি সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. ইউনূসের সরকার এত নৈরাজ্যের পরও নিরব কেন এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র।