ঢাকাMonday , 25 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অরাজকতা থামাতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

তালুকদার রুমী
November 25, 2024 8:52 pm
Link Copied!

দেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ লেগেই আছে। আগস্টে শুরু হওয়া এ অরাজকতা, নৈরাজ্যের সঠিক কারণও বের করতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। দাবি মানার পরও আন্দোলন-ভাঙচুর চলছে। পোশাক খাতের মতো অন্যান্য সেক্টরেও অরাজকতা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ নভেম্বর পুরো রাজধানী জুড়ে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের নামে ছিল বিক্ষোভ, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ, অবস্থান কর্মসূচি। এতে রাজধানীবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ভয়াবহ যানজটে নগরবাসীর নাকাল অবস্থা। এসব অরজাকতা থামাতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদীরা এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে। ২৪ নভেম্বর পুরান ঢাকায় হাসপাতালে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জেরে ওই এলাকায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। হাসপাতালসহ ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে ৩ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পরীক্ষা চলাকালে সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজে হামলা হলে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। কলেজটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটেরও অভিযোগ করা হয়। কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। হামলা-সংঘর্ষের সময় ওই এলাকায় এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক ও মালিকদের বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় অনেক এলাকায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। উচ্চ আদালত থেকে অটোরিকশা বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার দাবিতে অটোরিকশা চালকরা কয়েকদিন থেকেই এই আন্দোলন করছেন। গত ২৪ নভেম্বর বিকালে সরকারের আশ্বাস পেয়ে অবশ্য চালকরা আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। ওদিকে কাওরান বাজারে একটি পত্রিকা অফিসের সামনে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন একদল লোক। তারা পত্রিকাটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলে এই কর্মসূচি পালন করেন। পত্রিকা কার্যালয়ের সামনে গরু জবাই করে ‘জিয়াফত’ এর আয়োজন করা হয়। দুপুর থেকে চলা এই অবস্থান ও বিক্ষোভ সন্ধ্যা পর্যন্ত গড়ায়। আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বারবার অনুরোধ করেও সাড়া না পেয়ে সন্ধ্যার পর কঠোর অবস্থানে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা আন্দোলনকারীদের সরাতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা অলিগলিতে সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মাদার অফ মাফিয়া শেখ হাসিনার হেলমেট বাহিনী, লাঠিয়াল বাহিনী ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশির ভাগ নেতাই পলাতক এবং অনেক নেতা কারাগারে। কিছু নেতার বিচার চলছে। শীর্ষ নেতাদের কাঁপনি চললেও এখন মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা। তারা কার্যত এখনো বেপরোয়া। শেখ হাসিনা পালালেও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা এখন রিকশা শ্রমিক লীগের হয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকের নামে রাজধানী ঢাকায় কয়েকদিন ধরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধের নামে তাণ্ডব চালাচ্ছে। হাইকোর্টের দেয়া আদেশ অমান্য করে তারা প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে, পথচারীদের হয়রানি করছে। কোথাও কোথাও লাঠি হাতে কোথাও দেশীয় অস্ত্র হাতে তারা বেপরোয়া হয়ে ত্রাস করছে। সাধারণ রিকশা চালক যারা রিকশা চালাচ্ছেন তাদের রিকশা আটকে দিয়ে চালকদের মারধোর করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও রিকশার যাত্রীদের হয়রানিও করা হচ্ছে। সড়ক অবরোধ করায় একদিকে যানজটে লাখ লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে অন্যদিকে লাঠি-অস্ত্র এবং মারমুখি ভাঙচুরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারি চালিত রিকশা চালাতে দেয়ার দাবিতে ত্রাস সৃষ্টিকারী শ্রমিক লীগের নেতারা সুকৌশলে ব্যানারে বিএনপির নেতাদের ছবি ব্যবহার করছে। গত ২৪ নভেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ী, জাতীয় প্রেসক্লাব, মিরপুর, মালিবাগ, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, আগারগাঁও, নাখালপাড়া, রামপুরা, খিলগাঁও মহাখালীতে সড়ক অবরোধ করে রেখে বিক্ষোভ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক নামধারী শ্রমিক লীগের সন্ত্রাসীরা। মূলত ঢাকা মহানগর এলাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল ৩ দিনের মধ্যে বন্ধ বা বিধিনিষেধ আরোপে হাইকোর্টের নির্দেশের প্রতিবাদে চালকের নামে শ্রমিক লীগ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। টানা কয়েকদিন ধরে চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকের নামে শ্রমিক লীগ ও রিকশা শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের ভয়াবহ তাণ্ডব। রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালনের নামে রাজধানীকে অচল করে দেয়ার চেষ্টা করছে। রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত সড়ক সকাল বিকাল অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছেন তারা। দেশি অস্ত্র ও লাঠি হাতে মহড়া দিচ্ছেন এবং ভাঙচুর করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেকটা অনুনয় বিনয় করে তাদের সড়ক থেকে তুলে দেয়ার চেষ্টা করছে। অবরোধের কারণে যানজটে ভুক্তোভোগীদের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হলে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা রিকশা চালকের বেশ ধরে রাস্তায় তাণ্ডব চালাতে পারতো না। শর্ষের ভিতরে ভুতের মতোই শ্রমিক লীগ নেতারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যকে হয়তো ম্যানেজ করেছে। জানা যায়, ১৯৬৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। হাসিনা রেজিমের ১৫ বছরে শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত বেসিক ইউনিয়ন হয় ৩৩৩টি। এর মধ্যে ওয়াসা, রাজউক, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ডিপিডিসি, এফডিসি, ডেসকো, গণপূর্ত যান্ত্রিক কারখানা, ট্যানারি, জাতীয় জাদুঘর, কম্পিউটার কাউন্সিল, এনটিআরসিএ, ঢাকা ঘাট, হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাওরান বাজার রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগ প্রমূখ। এ ছাড়া শ্রমিক লীগের ১২টি সিটি কমিটি, একটি মহিলা কমিটি, একটি যুবক কমিটি, ৬৪টি জেলা কমিটি, ৩০টি আঞ্চলিক কমিটি, ১৫টি বিদেশি কমিটি, ৪৯১টি থানা/উপজেলা কমিটি ও ৩২৭টি মিউনিসিপালসহ মোট ১ হাজার ৩৬৯টি কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির সবগুলোতে একশ্রেণির নেতা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে চাঁদাবাজিতে জড়িত। শ্রমিক লীগের ৭ লাখ সদস্যের মধ্যে ৫ লাখই চাঁদাবাজিতে জড়িত। বিগত সরকারের সময় প্রতিবছর ৪২৬ খাতে ২১৬০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেছিল। হাসিনার পালানোর পর ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগের অনেকেই এখন শ্রমিক লীগের ব্যানারে সক্রিয় হচ্ছেন। এদের মূল দল আওয়ামী লীগের পলাতক কেন্দ্রীয় কিছু নেতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা টাকা দিয়ে রিকশা শ্রমিক লীগের নামে ব্যাটারি চালিত রিকশাচালক বেশে আন্দোলনে নামিয়েছেন। তারাই মূলত রাজধানীর মূল সড়কে ব্যাটারি চালিত রিকশা চালাতে দেয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে ত্রাস সৃষ্টি করছে। সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পর্কে উচ্চ আদালত থেকে একটি ভালো নির্দেশনা আসবে বলে আশা করছি। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করবো। এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান হবে। এর আগে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচির আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যদিকে হাসপাতালে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর পুরান ঢাকা এলাকায়। বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থী মিলে ন্যাশনাল হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কাজী নজরুল ইসলাম কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন। এই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের প্রথম বর্ষের ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। পরীক্ষা চলার সময়েই এই হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।ঘটনার সূত্রপাত ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে অবস্থিত ড. মাহাবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কলেজটির শিক্ষার্থী অভিজিতের মৃত্যু ভুল চিকিৎসার কারণে হয়েছে। এমন দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের ওপর শনিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের কিছু শিক্ষার্থী হামলা চালায়। এরই প্রেক্ষিতে আশপাশের কয়েকটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এক হয়ে কলেজ ২ টিতে ভাঙচুর চালায় ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন।বুধবার থেকে ডিএমআরসি কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘ভুল চিকিৎসায় শিক্ষার্থী মৃত্যুর’ অভিযোগে হাসপাতালটির সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি করছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের বিরুদ্ধে যেহেতু আমাদের আন্দোলন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ২ কলেজের ছাত্রদল নেতাদের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন। গত ২৩ নভেম্বর কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর নেতৃত্বে আন্দোলনরতদের ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২৪ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে ডিএমআরসি কলেজের নেতৃত্বে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী হাসপাতালটি ঘেরাও করে। এতে ছিলেন ডিএমআরসি, নটর ডেম কলেজ, সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ, নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, নারায়ণগঞ্জ সরকারি কলেজ, খিলগাঁও সরকারি কলেজসহ অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা হাসপাতালটির নামফলক ভেঙে ফেলেন এবং হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। শনিবারের হামলার প্রতিবাদে কবি নজরুল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও আন্দোলনকারীরা সংঘর্ষে জড়ায়। বলতে গেলে পুরো ঢাকা ছিল এক অরাজকতার নগরী। এই অরাজকতা প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।