ঢাকাThursday , 21 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সব চ্যালেঞ্জ জয় করতে হবে

তালুকদার রুমী
November 21, 2024 7:49 pm
Link Copied!

এক অবিস্বরণীয় ছাত্র-গণআন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত সফল বিপ্লবের মধ্যদিয়ে নতুন এক বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটছে। আর এই নতুন বাংলাদেশ বির্নিমাণের যে স্বপ্ন তা বাস্তবায়নে হাল ধরেছেন বিশ্ব বরেণ্য অর্থনীতিবিদ নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার নেতৃত্বে গত ৮ আগস্ট নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ছাত্র-জনতার এই যে বিপ্লব তার মূল চেতনা হলো বৈষ্যম্যের অবসান। একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এই ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ অর্জিত হয়েছে। এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে লক্ষে যে যাত্রা শুরু হয়েছে তাতে যেমন মানুষের অনেকপ্রত্যাশা রয়েছে তেমনি চ্যালেঞ্জও আছে। তবে এ সরকার সব চ্যালেঞ্জ জয় করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, দেশকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ হিসাবে গড়ে তুলবে এমন প্রত্যাশা সবার।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও গন্তব্য নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যে নতুন নতুন আশঙ্কা ব্যক্ত করা হচ্ছে। এ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতো বৈশ্বিক থিংকট্যাংক থেকে শুরু করে বিবিসি আলজাজিরা ইকোনমিস্টের মতো খ্যাতনামা মিডিয়া বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিনের সাফল্য ও পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মূল্যায়নও আসছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ভাষণ দিয়েছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আলজাজিরাসহ কিছু দেশী বিদেশী গণমাধ্যমে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ে যে বিতর্ক এবং এ বিষয়ে যে আশঙ্কা ও তার সমাধানের বিষয়ে একটি মতপার্থক্য থেকেই যাচ্ছে।প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা কার্যকর রয়েছে। এই পরিকল্পনার পেছনে কারা রয়েছে এবং কারা এতে মদদ দিচ্ছে তা একবারে অস্পষ্ট তা নয়। কারণ এটি তো অজানা নয় যে যারা ব্যাংকব্যবস্থা থেকে চার লাখ কোটি টাকা বের করে পাচার করেছে তারা কারা। আর সেই টাকা উদ্ধার এবং এর জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রচেষ্টাকে তারা কী সফল হতে দিতে চাইবে?প্রফেসর ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এটি জেনে বুঝেই রাষ্ট্রকে সংস্কার করে সামনে অগ্রসর হবার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে বলে মনে হয়। এ চ্যালেঞ্জ জয় করা গেলে একটি নতুন যুগের অভিযাত্রার স্বপ্ন সফল হবে এমনটা মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিপ্লব সফল হওয়ার পর অর্থাৎ শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের মানুষ এটাকে ‘দ্বিতীয় মুক্তি’ হিসাবে অনুভব করছে। তারা এক বড় পরিবর্তনের ব্যাপক আকাক্সক্ষার কথা ভাবছে। কিন্তু আকাক্সক্ষা লালন করা যতটা সহজ তা বাস্তবায়ন করা তারচেয়েও বেশি কঠিন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে দুটি। এর প্রথমটি হচ্ছে সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন আর দ্বিতীয়টি হলো বিপ্লবের স্টেকহোল্ডার ও অধিকাংশ জনগণের সরকারের পাশে থাকা। দু’টি বিষয়ই সহজ কোনো কিছু নয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে শক্তি বাংলাদেশকে তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি দেশ করে রাখতে চেয়েছিল তারা এখন এদেশকে স্বাধীনভাবে পথ চলতে দেবে তা আশা করা যায় না। তারা নিজেদের শক্তি এবং কূটনৈতিক ও ইন্টেল নেটওয়ার্ক দিয়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতার অভিযাত্রা বন্ধ করতে চাইতেই পারে। সরকার হয়তোবা সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বিষয়ে বেশ সচেতন ও আস্থাশীল। প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেয়া সর্বশেষ ভাষণে সেটিই মনে হয়।তবে কিছু বাস্তবতা এরপরও উপেক্ষার মতো নয়। আগামী ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রশাসনে পরিবর্তন হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসছেন। ট্রাম্পের বাছাই করা নীতিপ্রণেতাদের পটভূমি ও ভাবনা সংযোগগুলোর ব্যাপারেও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষত পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা প্রধান ও গোয়েন্দা প্রধানের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসছে। এ সবের প্রভাবও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো বিপ্লবের স্টেকহোল্ডার ও সমর্থক সাধারণ জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জনের বিষয়টি। সরকারের বাইরে থাকা স্টেকহোল্ডার হিসাব করা হলে তাতে মোটা দাগে তিনটি শক্তি দেখতে পাই। যার মধ্যে রয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী শক্তি-বিএনপি, ইসলামিক শক্তি বিশেষত জামায়াত ও হেফাজত এবং সেক্যুলার ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি।
জাতীয়তাবাদী শক্তি তথা বিএনপি বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক শক্তি, যাদের আগস্ট বিপ্লবে জনগণ পর্যায়ে ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। তিনবার সরকার গঠন করার কারণে প্রশাসন, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। উদার গণতান্ত্রিক দল হিসাবে পশ্চিমা অংশীদারদের কাছে এটি বেশ গ্রহণযোগ্য।এরপর আন্দোলনের নেটওয়ার্ক তৈরি এবং সেটিকে সংগঠিত করে সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবার পেছনে বড় রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল ইসলামিক শক্তির। আগস্ট বিপ্লবে নিহতদের একটি বড় অংশ হলো এই ঘরানার। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে ইসলামপন্থী শক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করে। জুলাইয়ের শেষের দিকে যখন বিক্ষোভ বেড়ে যায়, তখন জামায়াতের সদস্যরা হেফাজতে ইসলাম এবং অন্যান্য ইসলামপন্থী কর্মীদের সাথে ছাত্র বিক্ষোভে যোগ দেয়। এই জোটের মধ্যে জামায়াত ভাবমূর্তি কিছুটা পুনরুদ্ধার করেছে। দলটি তার নিবন্ধন পুনরুদ্ধারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে এবং এটি স্পষ্টতই ইউনূসের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তি হবে। আইসিটিতে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের নিয়োগ এবং স্কুলের পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনার দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি কমিটি ভেঙে দেওয়াসহ ইসলামপন্থীদের স্থান দেওয়ার জন্য তাকে ইতিমধ্যেই আপস করতে হয়েছে। আইসিজির প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হাসিনা শাসনের একটি শিক্ষা হলো যে দেশের রাজনৈতিক ফ্যাব্রিক থেকে ইসলামপন্থী দলগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা ফলপ্রসূ হতে পারে না।’ ইসলামিস্টদের বিষয়ে আইসিজির এই মূল্যায়নকে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ট বলে মনে হয়। আগস্ট বিপ্লবের তৃতীয় স্টেকহোল্ডার হলো, কর্তৃত্ববাদবিরোধী সেক্যুলার শক্তি, যেটাকে সাধারণভাবে টিআইবি-সিপিডি-প্রথম আলো-স্টার ঘরানা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। জনগণ পর্যায়ে এই শক্তির বিপ্লবে উল্লেখযোগ্য কোনো অংশ সেভাবে ছিল না। তবে বিপ্লব যখন প্রবলভাবে শক্তি অর্জন করে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তখন সেক্যুলারদের পৃষ্ঠপোষক বৈশ্বিক শক্তি এর পেছনে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনীগুলোর গণহত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখায় সরকারকে সমর্থন যোগাতে অস্বীকৃতির পেছনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা ছিল এই বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক শক্তির। জাতীয়তাবাদী ও ইসলামিস্টদের প্রভাবিত মাঠ কমান্ডারদের অবস্থান নেবার পাশাপাশি এটিও অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক ছিল। এই তিন শক্তির সুসমন্বয়ে অন্তর্বর্তী সরকার হলে সে সরকারের শক্তিমত্তা নিঃসন্দেহে প্রবল হতো; কিন্তু ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক শক্তির জাতীয় সরকারে অংশ নিতে অস্বীকৃতিতে সে প্রচেষ্টা সামনে অগ্রসর হয়নি। তবে অন্তর্বর্তী অরাজনৈতিক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এসব অংশীজনের পরামর্শ নোবেল জয়ী প্রফেসর ইউনূস ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নিয়েছেন। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারে বিপ্লবের স্টেকহোল্ডারদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও বিপ্লবপন্থীরা সেটিকে মেনে নিয়েছে। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে প্রশাসনিক ও অন্যবিধ শাসন বিন্যাসে বিপ্লবের তৃতীয় স্টেকহোল্ডার সেক্যুলারদের প্রভাব প্রবল হয়ে ওঠে। বিএনপি ও ইসলামিস্টদের প্রভাব কমিয়ে রেখে সেক্যুলারদের সামনে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় স্পষ্ট হয়ে ওঠার পর বিপ্লব বেহাত হবার আশঙ্কা পরিবর্তনের প্রথম দুই স্টেক হোল্ডারের মধ্যে দানা বাঁধতে থাকে। সেক্যুলারিস্ট পক্ষের ‘নিরপেক্ষদের’ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার প্রচেষ্টায় প্রকারান্তরে ফ্যাসিবাদের বেনিফিশিয়ারিরা সামনে চলে আসে। ফলে ফ্যাসিবাদের মুখ্যব্যক্তিরা নানা ধরনের আশ্রয়প্রাপ্তি ও অর্থকড়ি নিয়ে বিদেশের পালানোর সুযোগ পেয়ে যায়। আর বঞ্চনাবোধ থেকে বিপ্লবের প্রধান দুই স্টেকহোল্ডার অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে। এর সাথে আরেকটি বাস্তবতা যুক্ত হয়। সেটি হলো ফ্যাসিবাদী শক্তি তাদের লুটপাটের রাজত্বকে এমন এক অবস্থায় রেখে দেশ ছাড়ে যে, পরবর্তী সরকারকে এখন রাষ্ট্র চালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। দেশের রিজার্ভ প্রায় শূন্য, ব্যাংকগুলো থেকে নগদ অর্থ সরিয়ে অচলাবস্থার মুখে ঠেলে দেয়া হয় প্রাক আগস্টে। প্রতিবেশী দেশের আকস্মিক বাঁধ খুলে দেয়ায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা সরকারের জন্য নিত্যপণ্য ও সেবা সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ অব্যাহত রাখা কঠিন করে তুলে।এ ধরনের বৈরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের অধিকাংশ উপদেষ্টাই যথেষ্ট যোগ্য ও নিবেদিত। তাদের কারো বিষয়ে এখনো পর্যন্ত দুর্নীতি বা নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠেনি। এর পরও ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে অবস্থার অবনতি ঘটেছে। যার প্রভাব পড়ছে সরকারের প্রতি জনসমর্থনে।এ অবস্থায় কী করা উচিত সে সম্পর্কে আইসিজির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়েছে, ‘অন্তর্র্বতী সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত আরো উচ্চাভিলাষী সংস্কারের জন্য জনসমর্থন বজায় রাখতে দ্রুত ফলাফল তৈরি করা। তাকে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা এড়িয়ে চলতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।ইতোমধ্যে খারাপ অবস্থায় থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ এবং উত্তরণের অনিশ্চয়তার কারণে আরো আঘাত পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করছে, মূলত এমন একটি পুলিশ বাহিনীর ওপর নির্ভর করে যা ব্যাপকভাবে প্রতিবাদবিরোধী দমন-পীড়নে জড়িত ছিল। এ অবস্থায় জনসমর্থন বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।