ঢাকাWednesday , 20 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা দূর করতে হবে

তালুকদার রুমী
November 20, 2024 9:38 pm
Link Copied!

দেশের শিক্ষার মান, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার মান তলানিতে নেমেছে। আমাদের উচ্চশিক্ষার দুর্গতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ অবস্থায় শিক্ষাঙ্গনের সর্বত্র এক অন্থিরতা বিরাজ করছে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামতে না থামতেই তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলন শুরু করেছে। এটি নতুন কোন ষড়যন্ত্র কিনা সে বিষয়ে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে। শিক্ষাঙ্গণের অস্থিরতা যে ভাবেই হোক দূর করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি পদত্যাগ করেন।তাঁরা এসব দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের মূল পদ শিক্ষকতায় ফিরে গেছেন।রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এসব শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও আলটিমেটাম দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। গণহারে পদত্যাগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়। এরপর এক মাসেরও বেশি সময় পর ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরোদমে খুলে দেয়া হয়।পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় গত ১৫ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাতে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৮ আগস্ট থেকে রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় যথারীতি ক্লাস শুরু হয়। তবে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাশাসনিক শূন্যতার কারণে ক্লাস শুরু করতে আরও দেরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি, প্রক্টরসহ নানা পদ শূন্য। এ অবস্থায় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধসহ শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানান দাবি-দাওয়া। নতুন ভিসি ও প্রো-ভিসি কারা হচ্ছেন, তা নিয়েও এক ধরনের সতর্ক শিক্ষকরা। সব মিলিয়ে সহসাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে সংশয়ের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যত কোনো প্রশাসন না থাকায় কার্যক্রম চালানো কতটা সম্ভব সেটা ভাবতে হবে। নতুন প্রশাসন আসা পর্যন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা কঠিন। নতুন প্রশাসন নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। রাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক তারিকুল হাসান বলেন, এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো উপাচার্য নেই। ভারপ্রাপ্ত কাউকে দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। তাই শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপাচার্য না থাকায় এ মুহূর্তে সিন্ডিকেট সভা ডাকাও সম্ভব নয়। অন্যদিকে গত ৭ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়। উপাচার্য পদত্যাগ করলেও ১১ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়। এ অবস্থায় ক্যাম্পাসে দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে, দূর করতে হবে প্রশাসনিক শূন্যতা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি, প্রক্টরসহ অনেকে পদত্যাগ করায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরী হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গণপদত্যাগকে পদত্যাগ না বলে পদত্যাগের মহামারি বলা যেতে পারে। সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শূন্য হওয়ার কথা নয়। তবু হয়েছে। এর কারণ মেধা ও যোগ্যতার বদলে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ। যারা দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। কেবল বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সরকারি প্রশাসনেও ব্যাপকভাবে এসব ঘটনা ঘটছে। সমস্যা হলো ১ জুলাই থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এইচএসসি পরীক্ষাও মাঝপথে থেমে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সময়ে শিক্ষকেরাও কর্মবিরতি পালন করেছিলেন বাধ্যতামূলক পেনশন স্কিমে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে। সেই আন্দোলনে তারা সফল হয়েছেন। বিদায়ী সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়ে বাধ্যতামূলক পেনশন স্কিম থেকে তাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের যে ক্ষতি হলো, তা পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। অনেক বছরের চেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট অনেকটাই কমে গিয়েছিল। নতুন করে শিক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়তে হবে। তাই এ অবস্থায় অবিলম্বে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার বিকল্প নেই। যেসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও অন্যান্য পদাধিকারী পদত্যাগ করেছিলেন, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন নিয়োগ দিয়ে সরকার প্রাথমিকভাবে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করেছে। তারপরও শিক্ষাঙ্গণে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাতটি কলেজকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষার্থী প্রতিনিধি রেখে ‘বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন’ গঠন না করা হলে তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সর্বশেষে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর আগে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই সাতটি সরকারি কলেজ দেখভালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই পুরোপুরি আলাদা একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে আলাদা রেজিস্ট্রারসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন। তবে এ কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তই থাকবে।গত ৩১ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে তো বটেই, সেই সঙ্গে তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের ‘অবিবেচক বক্তব্য’ প্রত্যাহার করার দাবিও তুলেছেন। স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের এই দাবি কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রায় প্রতিদিন সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হয় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সে সব এলাকাসহ আশপাশের সব সড়কে দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। তবে শহরের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা আপাতত সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসভিত্তিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাইছেন। তবে সরকার যদি যথাযথ কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে, সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা তাদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেবে বলে জানিয়েছে ‘সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিম’। ২০১৭ সালে যখন সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিলো, তখন অনেকেই সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন আসে যে সেইসময় কোনও আপত্তিতে কর্ণপাত না করে সাত কলেজকে ঢাবি’র অধীনে কেন নিয়ে আসা হয়েছিলো? এরপর গত সাত বছর ধরে এই কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন ঠিক-ই। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থেকে বের হয়ে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবি তারা কখনোই এভাবে সরাসরি তোলেননি এবং কঠোর অবস্থানে যাননি। হঠাৎ তারা কেন এই দাবি করছেন এবং এই দাবির বাস্তবায়ন কি আদৌ সম্ভব? সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যখন এমন অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা যখন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তখনই তিতুমীর সরকারী কলেজের শিক্ষার্থীরা আবার পৃথকভাবে তাদের কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে। গত কয়েকদিন যাবৎ তারা মহাখালি এলাকায় রাস্তা ও রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলন করছে। সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালানোর সময় চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে শিশুসহ কয়েকজনকে আহত করেছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর তারা মহাখালী রেলগেট অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। তখন তারা একটি চলন্ত ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করায় শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় আহত ও রক্তাক্তদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ফেসবুকে অনেকেই এখন হ্যাশট্যাগ দিয়ে ‘বয়কট তিতুমীর কলেজ’ লিখছেন। কেউ কেউ আবার এও ঘোষণা দিয়েছেন যে তিতুমীর কলেজের কোনও শিক্ষার্থী যদি চাকরির জন্য সিভি জমা দেয়, তাহলে তাকে চাকরি দেওয়া তো পরের বিষয়, সেই সিভি গ্রহণই করা হবে না।তবে ১৯ নভেম্বর এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বঘোষিত ‘কলেজ শাটডাউন’ কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রধান ফটকের কাছে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। সর্বশেষ জানা যায় যে, তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা সম্ভব কিনা খতিয়ে দেখতে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ১৯ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছে শিক্ষার্থীরা। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গত ৮ আগস্ট বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে বসে সে দেশের প্রত্যক্ষ মদদে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। পোশাক শিল্পে অস্থিরতা তৈরী করেও তাতে সফল হতে না পেরে এবার শিক্ষাঙ্গণকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র করছে। অনেকের মতে, শিক্ষা প্রশাসন এখনো ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়নি। ফলে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায়ও তেমন পরিবর্তন আসেনি। যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে সেই ছাত্রদেরকেই সে আবার ফিরে আসার সিঁড়ি বানাতে চাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সরকারসহ সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষাঙ্গণে যাতে কোন অবস্থাতেই অস্থিরতা সৃষ্টি না হয় সে দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।