ঢাকাTuesday , 12 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরকারের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্র রুখতে হবে

তালুকদার রুমী
November 12, 2024 11:13 pm
Link Copied!

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যায়। এরপর ৮ আগস্ট ছাত্র-জনতার সমর্থিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তারা দেশের এক ক্রান্তিকাল এবং ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়েই দেশ পরিচালনার কাজ শুরু করেছেন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনে ভারত যে অত্যন্ত হতাশ, মর্মাহত এবং শোকেকাতর তা বাংলাদেশের প্রতি তাদের আচার-আচরণে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতন হয়নি, ভারতের পতন হয়েছে। ভারত কিছুতেই শেখ হাসিনার পতনকে যেন মেনে নিতে পারছে না। তাই তো শুরু থেকেই মোদি এবং স্বৈরাচার শেখ হাসিনা মিলে নানা ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তথ্য উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে এই দেশি বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দেশের সংবাদপত্রকে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে আওয়ামী সমর্থকদের ট্রাম্প সমর্থক হিসেবে চিত্রায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সংবাদমাধ্যম এ ব্যাপারে তেমন কিছু করেনি। দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার গুজব সিন্ডিকেট ভাঙতে সত্যটা তুলে ধরতে হবে। দেশি বিদেশী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে ভূমিকা পালন করারও তিনি আহ্বান জানান। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এক আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে সবাইকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। মাফিয়া সরকার বিনা ভোটে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার সময় বিশ্বে বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। ক্ষমতা হারিয়ে পরাজিত অপশক্তি এখন আবার বিশ্বে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। অপশক্তির ষড়যন্ত্র রুখে দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ পক্ষের সব শক্তিকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ১০ নভেম্বর খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েও বিদেশে বসে নানা ষড়যন্ত্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। কথায় আছে যে, ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন’। শেখ হাসিনার পতনের মধ্যদিয়ে জাতি আবার যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে তা রক্ষা করা এখন অনেকটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে দিল্লীতে বসে নানা রকম ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা চালাচ্ছেন। তিনি তার ভারতীয় দোসরদের নীলনকশায় দেশের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা দলীয় সন্ত্রাসী এবং সংখ্যালঘুদের নিয়ে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণঅভ্যুত্থান ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করে দিতে চাইছেন। ফের চাইছেন ভারতীয় আধিপত্যবাদ পুষ্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের ক্ষমতায় পুর্নবাসিত করার নানাবিধ চক্রান্ত একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রতিবিপ্লব, গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা, জুডিশিয়ারি ক্যু, সচিবালয়ে স্বৈরাচারের দোসরদের দিয়ে আন্দোলন, ভারতের ডম্বু বাঁধ খুলে দিয়ে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি, শাহবাগে বিভিন্ন দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়কে দিয়ে বিক্ষোভ, ১৫ আগস্ট ঢাকায় লাখ লাখ লোক জড়ো করা, ২১ আগস্ট একই ধরনের অপচেষ্টা, তার ৩-৪ দিন পর আনসারদের আন্দোলন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের দিয়ে আন্দোলন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সনাতন অধিকার মঞ্চের ব্যানারে পুনরায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বন্ধ ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন, ৫ অক্টোবর লংমার্চ করে ঢাকা অবরোধের ঘোষণা, ইসকন দিয়ে আন্দোলনের পাঁয়তারা, সর্বশেষ ট্রাম্পের ছবি নিয়ে সমাবেশ ও মিছিলের চেষ্টা এসবই যে মোদি ও তার আশ্রয়ে থাকা পলাতক হাসিনার যৌথ প্রযোজনার ষড়যন্ত্র তা দেশের মানুষের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। এসব আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা আওয়ামী লীগেরই নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসী। অন্তর্বর্তী সরকার এসব ষড়যন্ত্র সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে চলেছে। তাদের এ ষড়যন্ত্র কোনো কাজে আসেনি। সব ষড়যন্ত্র ছাত্র জনতাকে সাথে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ করে দিয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত ৫ সেপ্টেম্বর উত্তর প্রদেশের লক্ষ‌্য সশস্র বাহিনীর কমান্ডারদের প্রথম যৌথ সম্মেলনে রাশিয়া-ইউক্রেন, ইসরাইল-হামাস সংঘাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা এবং ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণের পরামর্শ দিয়েছেন। রাশিয়া ইউক্রেন এবং ইসরাইল-হামাসের যুদ্ধের সাথে বাংলাদেশের নাম জুড়ে দেয়ার অর্থই হচ্ছে, প্রচ্ছন্নভাবে বাংলাদেশকে হুমকি দেয়া। এটা যে মোদি-হাসিনার নতুন ষড়যন্ত্র, তা সহজেই বোঝা যায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, তিনি নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর মতো এমন দার্শনিক, চিন্তাবিদ, যাকে সারাবিশ্ব সম্মান ও শ্রদ্ধা করে, যার জনপ্রিয়তা অপরিসীম, বিশ্বজুড়ে যার সুনাম-সুখ্যাতি, বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি। তিনি অশতিপর হলেও তাঁর কণ্ঠস্বর, চলনবলন, আচরণ তরুণদের মতো। তিনি তরুণদের অনুপ্রেরণা এবং তাদের মনমানসিকতা ধারন করেন। তাঁকে কেবল ভারতেরই অপছন্দ। কারণ, তিনি দেশের স্বাধীনতার ৫৩ বছরের মধ্যে ভারতের অন্যায্য আচরণের কথা মুখের উপর বলে দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার আগেই প্যারিস থেকে ভারতের এনডিটিভি চ্যানেলের এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতকে স্পষ্ট করে বলে দেন, বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে তার সেভেন সিস্টার্সও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। ভারতের মুখের উপর এমন সাহসী বক্তব্য এর আগে কখনো কোন নেতার কন্ঠে শোনা যায়নি। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েই তিনি সীমান্ত হত্যা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ভারতের অনাগ্রহে অচল হয়ে থাকা সার্ককে সচল করার গুরুত্বের কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন। এসব কথা ভারতের পছন্দ না হওয়ারই কথা। ড. ইউনূসের মতো সারাবিশ্বে গ্রহণযোগ্য এমন একজনকে ভারতের অপছন্দ করা তার হীনমন্যতা এবং কূটনৈতিক অপরিপক্কতার পরিচায়ক। ভারত এখন বাংলাদেশে তার সেবাদাসী শেখ হাসিনাকে হারিয়ে পাগলপারা হয়ে গেছে। এটা যে, মোদির জ্ঞানের পরিধির সীমাবদ্ধতা, তা বুঝতে বাকি থাকে না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তার আচরণের কারণে ভারত তার সব প্রতিবেশীকে হারিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সে একা হয়ে গেছে। বিষয়টি উপলব্ধি করে যে, প্রতিবেশীর সাথে সমতা ও সমমর্যাদাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে, সেদিকে তার মন নেই। এটা তার জন্য আত্মঘাতী। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা শুধু ভারতকে সন্তুষ্ট করে ক্ষমতায় থাকতে শেষ দিনও ছাত্র জনতার আন্দোলন দমাতে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। ভারতের মানুষের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। তবে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধী যে মনোভাব গড়ে উঠেছে, তার জন্য ভারতের মোদির খবরদারি ও আধিপত্যবাদী আচরণই দায়ী। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে যে নানা ধরনের ‘মিথ’ সৃষ্টি করেছিল, তা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক ফুৎকারেই চুরমার হয়ে গেছে। ভারতকে বাংলাদেশের জনগণের এই মানসিকতা বুঝতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান এবং মর্যাদার সাথে দেখতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে, দ্বিতীয় স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে, তা তার সেবাদাসী শেখ হাসিনার সময়ের বাংলাদেশ নয় যে, তার কথায় উঠাবসা করবে। বাংলাদেশের নেতৃত্ব এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন বিশ্বনন্দিত ব্যক্তির হাতে। তাঁর এবং বাংলাদেশের জনগণের সাথে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক সকল দেশের সমর্থন রয়েছে। ভারত ছাড়া সকল দেশের কাছেই বাংলাদেশ গ্রহণযোগ্য এবং সম্মানের দৃষ্টিতে দেখছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা যে অর্থনীতিকে তলানিতে রেখে গেছে, তা পুনরুদ্ধারে নানামুখী প্রচেষ্টা চলছে। শেখ হাসিনার মতো কপট কৃচ্ছ্রতা নয়, উপদেষ্টা পরিষদের সকলে প্রকৃত কৃচ্ছ্রতা অবলম্বন করে চলেছেন। মিডিয়া সাথে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বক্তৃতা দিচ্ছেন না। এ মাসে জাতিসংঘের ৭৯তম যে সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অংশগ্রহণ করবেন। তাঁর সফরসঙ্গী থাকবেন মাত্র ৭ জন। অন্যদিকে, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা যখন বিদেশ ভ্রমণে বের হতেন, তার সফরসঙ্গী থাকত দেড় থেকে দুইশ’। সর্বশেষ চীন সফরেও ছিল দেড়শ’র বেশি। তার এই বিলাসী ভ্রমণে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা অপচয় হয়েছে। অন্তর্বর্তী এই সরকার যখন অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দেশকে বিশ্বের কাছে প্রকৃত রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে সচেষ্ট, তখন পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও মোদি মিলে তাদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে ক্রমাগত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে যাচ্ছে। এ সব ষড়যন্ত্র সবাই মিলে প্রতিহত করে দেশকে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।