ঢাকাSunday , 10 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গণহত্যাকারী হাসিনার দুর্নীতি দুঃশাসন দেশবাসী ভোলেনি

তালুকদার রুমী
November 10, 2024 9:49 pm
Link Copied!

শহীদদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা যে গণহত্যা করেছে, ছাত্র-জনতার যে রক্ত ঝরিয়েছেন, সে ভয়ঙ্কর স্মৃতি এখনো মুষকে তাড়িয়ে বেড়ায়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মহানগরীর সড়ক ও বিল্ডিংয়ের দেয়ালে দেয়ালে এখনো ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লেগে আছে। আহতরা হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। সেই গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নিয়ে একের পর এক হুমকি দিচ্ছে। হাসিনা ও তার দল অন্তর্বর্তী সরকারকে বিতাড়িত করার হুমকি দিচ্ছে। গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ভারতের নরেন্দ্র মোদির সাথে পরামর্শ করে দেশের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। তবে দেশের মানুষ জুলাই আগস্ট বিল্পবে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা পঙ্গু হয়ে, চোখ হারিয়ে হাসপাতালে শুয়ে কাতরাচ্ছে তাদের দুঃসহ স্মৃতি এখনো ভোলেনি। মানুষ ভোলে যায়নি বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ যেসব গুম, খুন, অত্যাচার নির্যাতন করেছে তার কথা। ভুলে যায়নি তাদের সীমাহীন লুপপাট ও দুর্নীতির কথা। তাই আওয়ামী লীগ বা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে ফেলে দেওয়ার অথবা দেশে ফিরে আসার যতই হম্বিতম্বি করুক না কেন, এদেশের মানুষ আর তাদের গ্রহণ করবে না। শেখ হাসিনা আর এদেশে ফিরতে পারবেনা। ফিরলে তাকে গণহত্যার দায়ে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করতে হবে। গতকাল ১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবসকে কেন্দ্র করে ফ্যাসিস্ট হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের পতনের হুমকি দিয়েছিল। কথায় বলে ‘ছাগল নাচের খুঁটির জোরে’। হিন্দুত্ববাদী ভারতের খুঁটির জোরে শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। হাসিনার ষড়যন্ত্র এবং হুমকিতেও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা ‘নাকে সর্ষের তেল’ দিয়ে ঘুমাবেন এমনটা ভাবার কারণ নেই। নরেন্দ্র মোদির ‘নাচের পুতুল’ হাসিনা কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে কোনো অঘটন ঘটাতে চেয়েছিলেন? কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া শেখ হাসিনার অডিও বার্তায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হলে অস্ত্র রয়েছে সে খোঁজখবর নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। হাসিনা বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হলের কোথায় অস্ত্র রাখে খবর নাও। অস্ত্র উদ্ধারে হলে হলে সার্চ করানো হবে। আমি সেনাবাহিনী দিয়ে সার্চ করাব। দু-একটি অস্ত্র পেলেই হয়। হাসিনার এসব আবোল-তাবোল কথা সোশ্যাল মিডিয়াতে সুড়সুড়ি জাগালেও বাস্তবে এর কোন কার্যকারিতা নেই। এসব হম্বিতম্বি যে শুধু ফাঁকা বুলি সেটা গতকাল আবারও প্রমাণ হয়েছে। লাখ লাখ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী মাঠে নামার যে কাল্পনিক বয়ান সেটা দেশের মানুষ বোঝে গেছে। গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোথাও আওয়ামী লীগের কাউকে দেখা যায়নি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছেড়ে শেখ হাসিনা বোন রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। আগে থেকেই বিদেশে নিরাপদে ছিল তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। কয়েকশ সাবেক মন্ত্রী এমপি ও হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকে বিপদে ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় বিপদগ্রস্ত নেতারা হাসিনাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দিয়েছেন। গণহত্যার মাধ্যমে ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে পালিয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের কার্যত রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটে গেছে। কিন্তু শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের চাঙ্গা করতে নানা কথাবার্তা বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভারতের সহায়তায় হাসিনার অলিগার্করা এ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসিনা এ কাজে গত প্রায় ১৬ বছরের তৈরি প্রশাসনে দলদাস কর্মকর্তাদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা যেন ‘ক্ষমতার চেয়ার’ পেয়ে দিবানিদ্রায় গেছেন তা কিন্তু নয়। হাসিনা একের পর এক ষড়যন্ত্র করছেন, বিভিন্ন এঙ্গেলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী কালীন সরকার ছাত্র-জনতার সমর্থনে সেগুলো সফলতার সাথে মোকাবেলা করছেন। তবে তাদের চলার গতি এখনো এই বিপ্লবের যে চেতনা ও গতি তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হচ্ছে না। পুলিশ-প্রশাসন থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী, সিভিল প্রশাসন, র‌্যাব, বিজিবি সর্বত্রই হাসিনার সেবাদাস কর্মকর্তারা এখনো বকধার্মিক সেজে বসে আছে। ছাত্র-জনতার চাপে হাসিনার ‘একান্ত অনুগত দলদাস’ কিছু কর্মকর্তাকে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর দিলেও প্রশাসনযন্ত্রের চাবি এখনো হাসিনা অনুগত আমলাদের হাতেই। ভারতে থেকে হাসিনা তাদের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করতে চাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা লিখেছেন, সিভিল প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী, র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তাকে ‘নির্বাচনী সার্কাসে’ ব্যবহার করে বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বানিয়েছেন। বৈধ-অবৈধভাবে তাদের টাকা কামানোর ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছিলো। তারা শেখ হাসিনাকে প্রতিদান দেয়ার লক্ষ্যে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরও সজাগ ও সতর্ক হতে হবে। তাদেরকে জুলাই আগস্টের বিপ্লবের চেতনার আলোকে কাজ করতে হবে।৮ আগস্ট অন্তর্র্বতী সরকার গঠনের পরপরই দাবি উঠেছিল শেখ হাসিনার অনুগত সরকারি আমলা-পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য বাহিনীর হাসিনা অনুগতদের বাধ্যতামূলক অবসর দিয়ে তাদের অপকর্ম জনসম্মুখে উন্মোচন করার। পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে এবং যারা ১৬ বছর হাসিনার দাস-দাসী হিসেবে অনৈতিকতা ও মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন করেছে তাদের গ্রেফতার করা হোক। এ দাবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা আন্দোলনও করেছে। তখন যদি অন্তর্বর্তী সরকার বিপ্লবী চেতনায় সর্বত্র পরিবর্তন ঘটাতো তাহলে সরকার এখন এতটা দুঃশ্চিন্তায় থাকতো না। বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও দুঃশাসন এমন পর্যায়ে পৌছেছিল যা এদেশের মানুষ কখনো ভুলতে পারবে না। টিঅইবির হিসাব অনুযায়ী আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রতিবছর ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অর্থাৎ তাদের দুর্নীতি ও লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতি চরম দুরাবস্থায় পৌঁছেছে। বর্তমান সরকার পাচার হওয়া এসব অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসন মানে গুম, খুন, নিপিড়ন, নির্যাতন। সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তথ্য মতে, এ সরকারের আমলে সুশাসন ও জবাবদিহির অভাবে দেশবাসী এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতিতে বাস করছে।২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে গুমের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে। ২০১৩ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গুমের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করে।২০১৩ সালের পর থেকে ব্যাপকভাবে গুমের ঘটনা ঘটতে থাকে। এর মাধ্যমে একটা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়, যাতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনে যোগ না দেন। এই অপকর্মে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাসহ অনেক নেতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা মিলিতভাবে গুমের ঘটনাগুলো ঘটিয়েছেন। আমাদের সংগঠনের কাছে এই মুহূর্তে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৭০৯ জনকে গুম করার তথ্য রয়েছে। এরপরও ৫ আগস্ট পর্যন্ত অনেক গুম ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলার সময় অনেককে গুম করা হয়। আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদকে গুম করা হয়। বিএনপিসহ ভিন্নমতের অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পিলখানায় ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়। শাপলা চত্বরে শত শত শিশু, আলেম ওলামাকে হত্যা করা হয়েছে। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী পিলখানায় সেনা হত্যাকা- ও শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের নতুন তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করবে এ সরকার। এসব হত্যাকান্ডের বিচার হবে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তাই আওয়ামী লীগকে দেশে আসতে হলে এসব বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধে তাদের সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে আইনজ্ঞরা এমনটাই বলছেন। তাই দিল্লিতে বসে মাদার অব মাফিয়া শেখ হাসিনা একের পর এক ষড়যন্ত্র করলেও দেশের মানুষ এ ব্যাপার সজাগ এবং সতর্ক রয়েছে। ভারতের একজন ছিঁচকে চোর বাংলাদেশের আশ্রয়ে থাকলে ভারত অভিযোগ তোলে বাংলাদেশ সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অথচ হাসিনার মতো খুনি, গণহত্যাকারীকে দিল্লি আশ্রয় দিয়েছে। বিশ্ববাসী সেটা অবলোকন করছে। বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের গণমাধ্যম ও হাসিনা বিদেশে বাংলাদেশ-বিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে আইন বিচার ও সংসদ-বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে আওয়ামী চক্রের হাতে হেনস্তা হতে হয়েছে। এসবই ভারতের খুঁটির জোরে ফ্যাসিস্ট হাসিনা করাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সর্বশেষ যে অডিও বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি নিয়ে কর্মীদের মাঠ নামতে বলেছে, পুলিশ পেটালে যাতে ট্রাম্পের ছবির ওপর পেটায় এবং ভিডিও করে ছবি তুলে মার্কিন প্রশাসনের পাঠানোর কথা বলেছে। হাসিনা সেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে স্বৈরাচার হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ড. ইউনূস জুলাই-আগস্ট গণহত্যা করেছে এবং কয়েকশ পুলিশ হত্যা করেছে। শেখ হাসিনার এইসব কাল্পনিক গল্প ভারতে বসে যতই ছড়াক তা বিশ্ববাসী বিশ্বাস করে না। আর দেশের মানুষ তো কখনোই এই মিথ্যুক হাসিনার কোন কথাকেই আর বিশ্বাস করবে না। তারপরও তার এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে আরও তৎপর হতে হবে। হাসিনার দোসরদের ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।