ঢাকাTuesday , 20 August 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধান শিক্ষক শাম্মী আক্তার সুমির বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি এবং শিষ্টাচারিতার অভিযোগ

Link Copied!

রাজধানীর কাফরুলস্থ উত্তর কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয় সোমবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাম্মী আক্তার সুমি এবং স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতি এবং শিষ্টাচারিতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে স্কুলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর সাথে সমর্থন জানিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি চুক্তি পত্র প্রদান করে এবং স্কুলের কমিটি শিক্ষার্থীদের দেওয়া চুক্তিটি মেনে নিয়ে স্বাক্ষর করে বলেছেন আজকে থেকেই চুক্তিতে উল্লেখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হবে। স্কুলের একজন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে দৈনিক পাঞ্জেরী প্রতিবেদককে জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বিগত স্বৈরাচার সরকার আমলের আওয়ামী লীগের মন্ত্রী কর্নেল ফারুক খান এবং এমপি কামাল আহমেদ মজুমদারের আশ্রয় নিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে স্কুলে প্রধান শিক্ষিকার পদে নিয়োগপত্র পান। এরপর থেকেই স্কুলে শুরু হয় নানা অনিয়ম। বিনা অপরাধে কয়েকজন শিক্ষককে জোরপূর্বক স্কুল থেকে বিতাড়িত করেন তিনি। তাছাড়া এমপিও ভুক্ত কনফার্ম করার জন্য প্রধান শিক্ষিকা ঘুষ বাণিজ্যের সাথেও জড়িত ছিল।স্কুলে যোগদানের পর থেকেই স্টুডেন্ট আর শিক্ষিক / শিক্ষিকাদের সাথে তিনি দাপট দেখান। গরিব শিক্ষার্থীরা উনার কাছ থেকে কোনো প্রকার সুযোগ সুবিধা পেতনা। তাছাড়াও তিনি অভিভাবকদের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করতেন। তিনি সব সময় দাপটে থাকতেন। কিছু হলেই প্রশাসনের ভয় দেখাতেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, স্কুল সবার জন্য কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক ভয়ে সবাই চুপ করে থাকতে হতো। শিক্ষিক / শিক্ষিকাদের চাকরি হারানোর ভয়ে কিছু বলতেও পারতেন না। দুর্নীতির কারনে পূর্ববতী স্কুল হতে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল এবং শাম্মী আক্তার সুমির নামে বনানীতে একটি দুদকের মামলা চলমান আছে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘স্কুলের ২ জন কম্পিউটার অপারেটার প্রধান শিক্ষিকাকে দুর্নীতির সহযোগিতা করার কারণে চুক্তিপএে তারা কম্পিউটার অপারেটার মোরশেদ ও নুর আলমের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আসে তাহলে স্কুল কমিটি তাকে বহিঃস্কার করে দিতে হবে। সিনিয়র শিক্ষকগণ জুনিয়র শিক্ষকদের সাথে দাপট দেখাবেন না বরং তাদেরকে স্নেহ করবেন জুনিয়র শিক্ষকগণ সিনিয়রদের সম্মান দিয়ে কথা বলবেন। আমরা মনে করি বাবা-মা এর পরে শিক্ষকগণ জাতির অভিভাবক তাই কমিটি বা স্কুলের কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে কোনো রকম খারাপ ব্যবহার করতে পারবেন না। শিক্ষকগণ স্বাধীনভাবে স্কুলে কথা বলতে পারবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমান ছাড়া কেও মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভয়ভীতি দেখাতে পারবেন না। স্কুলের মধ্যে থাকে যেসকল শিক্ষকগন কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া হয়েছে তাদেরকে স্কুলের পক্ষ থেকে সব টাকা ফেরত দিতে হবে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে যতদ্রুত সম্ভব এবং সঠিক পদ্ধতির মাধ্যমে বাহিরে থেকে একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। যিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকবেন না। আমাদের স্কুল একটি মহল্লার মধ্যে অবস্থিত যেখানে বেশীরভাগ মানুষ নিম্ন-মধ্যবিত্ত। সাবেক প্রধান শিক্ষক জুলফিকার স্যার থাকাকালীল সময়ে গরীবদের যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হত। কিন্তু এই স্বৈরাচার প্রধান শিক্ষক শাম্মী আক্তার সুমি আসার পর থেকে গরীব শিক্ষার্থীরা কোনো সুযোগ-সুবিধা পেত না। ফলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিমান দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। আবার অনেকেই পড়া-লেখার খরচ বহন করতে না পারায় শিক্ষার মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই স্কুল থেকে গরীব শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে’।
চুক্তিতে উল্লেখিত বিষয় মানা না হলে , চুক্তি ভঙ্গনের অভিযোগে স্কুলের পরিচালনা কমিটি ও তাদের সাথে যুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন অপরাধী হিসাবে বিবেচিত হবেন বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।তারা আরো বলেন, যদি আমরা দেখি চুক্তিতে দেওয়া বিষয় গুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না , তাহলে ছাত্র সমাজ আবার মাঠে নামবে এবং কঠিন আন্দোলন চলবে।