বৈষম্য অবসানের দাবিতে এবার রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে ৬ দফা দাবি পূরণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার বেলা ১১টা থেকে তারা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে কল্যাণ ট্রাস্ট্রের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আলম ভূইয়াসহ তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর কল্যাণ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলম ভূঁইয়া মানবজমিনকে বলেন, আমরা এর আগেও কয়েকবার রেজিস্টার জেনারেল বরাবর চিঠি দিয়ে আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বৈষম্যের নানা বিষয় তুলে ধরেছি। গত ৮ই আগস্ট আমরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছি। আজও দিয়েছি। রেজিস্টার জেনারেল আমাদের দাবি সমূহ প্রধান বিচারপতির কাছে তুলে ধরবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে:
১. বিভিন্ন বাসা বাড়িতে দাসপ্রথা প্রচলন রয়েছে। বাসাবাড়ি থেকে দাসপ্রথা বিলুপ্তির লক্ষ্যে সেখান থেকে রোববারের মধ্যে সকল কর্মচারীকে withdraw করে অফিসে পোস্টিং দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো কর্মচারীকে বাসাবাড়িতে পোস্টিং দেয়া যাবে না।
২. প্রশাসনে জুডিশিয়াল অফিসার কমিয়ে ৫ (পাঁচ) জন করতে হবে এবং প্রমোটি অফিসার পদ বাড়াতে হবে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থাকা অফিসার ও কর্মচারীদের দ্রুত পদোন্নতি দিতে হবে। এছাড়া প্রমোটিদের জন্য নতুন অতিরিক্ত রেজিস্টার পদ সৃষ্টিসহ ডেপুটি রেজিস্টার, সহকারী রেজিস্ট্রার, মুপারিনটেনডেন্ট, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, কোর্ট কিপার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ সংখ্যা অতি দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধি করে উক্ত পদসহ সকল পদে সিনিয়রিটি প্রদানসহ বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান বা নির্বাচিত প্রতিনিধি রেখে পদোন্নতির বিধিবিধান দ্রুত সময়ের মধ্যে সমযোপযোগি করতে হবে।
৩. প্রধান বিচারপতির সচিব পদে কবির আহমেদের দায়িত্ব পালনের পর থেকে যারা যারা বিধির বাহিরে প্রধান বিচারপতির সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং বর্তমানে প্রমোশন পেয়ে যারা অন্যান্য পদে বহাল আছেন তাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হোক ।
৪. উভয় বিভাগে অফিসার ও কর্মচারীদের জন্য গাড়ীর ব্যবস্থাসহ প্রাধিকার অনুযায়ী যার যার প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
জুডিশিয়াল এবং প্রমোটিদের অফিসারদের সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে কোনোরকম বৈষম্য করা যাবে না।
৫. অফিস উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতি যেহেতু সকল কর্মচারী-কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না, সেহেতু এই ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতি থেকে সবাইকে অব্যাহতি দিয়ে সমভাবে পূর্বের Attendance পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। কোনমতেই বৈষম্যমূলক পদ্ধতি বহাল রাখা যাবে না।
৬. ছুটি -ছাটার বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত একটি উদ্যোগ নীতিমালা করে প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ছুটি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনোরকম বৈষম্য ও হয়রানি করা যাবে না।

