ঢাকাTuesday , 2 July 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৩৮ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের মামলায় এএসআই জাহিদুলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Link Copied!

রাজধানীর গাবতলীতে ৩৮ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের মামলার অন্যতম আসামি পলাশ শেখ পুলিশের সোর্স ছিলেন। রূপনগর থানার তৎকালীন সহকারী এএসআই জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে কাজ করতেন তিনি। সোর্সের সঙ্গে মিলে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করতেন জাহিদুল। ২০২২ সালের জুলাইয়ে ৩৮ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন। সম্প্রতি তাঁকেসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
অভিযুক্ত অপর ৫ জন হলেন পলাশ শেখ, মাসুদ রানা, সোহেল আহম্মেদ পল্লব, মিরাজ চৌধুরী ও সন্তোষ ঘোষ। আরেক আসামি সাইজুদ্দিন রিপন গ্রেফতারের পর কারাগারে মারা যাওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সব আসামিই গ্রেফতার আছেন। জাহিদুলকে গ্রেফতারের পর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মামলার বাদী টিটু প্রধানীয়া তাঁতীবাজারের ‘গহনা ধানসিঁড়ি চেইন অ্যান্ড বল হাউস’র কর্মচারী। তাঁর কাছ থেকে ৩৮ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় মামলা করেন তিনি। মামলাটি তদন্ত করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মিরপুর বিভাগের এসআই মোহাম্মদ কামাল পাশা।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার বলেন, ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, পলাশ ৭-৮ বছর আগে বাসচালকের সহকারী (হেলপার) ছিলেন। মিরপুরে একটি হোটেলে কাজ করতেন মিরাজ। এর পাশের ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করতেন মাসুদ। ঘটনার প্রায় দেড় মাস আগে তিনি পলাশকে জানান, স্বর্ণের একটি চালান যাবে, এটি লুট করতে পুলিশ লাগবে। এর পর এএসআই জাহিদুলকে বিষয়টি জানান পলাশ। ২০২২ সালের ১৬ জুলাই রিপন ফোনে পলাশকে জানান পরদিন সকালে তাঁতীবাজার থেকে স্বর্ণ নিয়ে একজন গাবতলীর দিকে যাবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ জুলাই সকালে এএসআই জাহিদুল নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে গাবতলীতে অপেক্ষা করেন।
এদিকে মাসুদ, পলাশ, মিরাজ, বশির ও সোহেল গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের পাশে অবস্থান নেন। তাঁতীবাজার থেকে টিটু স্বর্ণালংকার নিয়ে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে রওনা দেন। গাবতলী হয়ে টাঙ্গাইলে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। রিপন মোটরসাইকেল নিয়ে টিটুকে অনুসরণ করেন। গোলাপ শাহ মাজারের কাছ থেকে অপর আসামিরাও টিটুর পিছু নেন। তিনি গাবতলীর পর্বতা সিনেমা হলের বিপরীত পাশে মোটরসাইকেল থেকে নেমে টাঙ্গাইলগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় পলাশ ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে টিটুকে বলেন, ‘ব্যাগে অবৈধ স্বর্ণ রয়েছে, তল্লাশি করতে হবে।’
টিটু জানান, এগুলো বৈধ স্বর্ণালংকার। প্রমাণ হিসেবে সব কাগজপত্র আছে। এর পর তাঁকে পাশে মোটরসাইকেলে বসে থাকা এএসআই জাহিদুলের কাছে নেওয়া হয়। ব্যাগ তল্লাশির পর জাহিদুলের মোটরসাইকেলে উঠানো হয় টিটুকে। পেছনে বসেন পলাশ। জাহিদুল মোটরসাইকেল চালিয়ে বেড়িবাঁধের দিকে যেতে থাকেন। অন্যদিকে স্বর্ণের ব্যাগ নিয়ে রিপন ও বশির মোটরসাইকেলে জাহিদুলের পেছনে না গিয়ে ফার্মগেটের দিকে রওনা দেন। পলাশ ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বেড়িবাঁধে যেতে পারবেন না বলে জানান। পরে টিটুকে নিয়ে অটোরিকশায় ফার্মগেটের উদ্দেশে রওনা দেন পলাশ। অটোরিকশাটি বিজয়সরণি ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে পলাশ পালিয়ে যান। এর পর আসামিরা স্বর্ণগুলো বিক্রি করে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। টিটু প্রধানীয় মোটরসাইকেলের নম্বর টুকে রেখেছিলেন। ওই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করেন এএসআই জাহিদুল ইসলাম। তাঁর হেফাজত থেকে মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। এটি তাঁর ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বলে দাবি করেছেন।