ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় দুর্গম এলাকায় এক সংঘর্ষে অন্তত ১০ সন্দেহভাজন কমিউনিস্ট গেরিলাকে হত্যা করেছে দেশটির সেনা সদস্যরা।
শুক্রবার (২৮ জুন) এ কথা জানিয়েছেন সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
মাত্র এক হাজার গেরিলা অবশিষ্ট থাকায় বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে কয়েক দশক ধরে চলা এ বিদ্রোহ।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত সপ্তাহে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ থেকে পিছু হটতে থাকা প্রায় ২০ জন নিউ পিপলস আর্মির গেরিলাকে ধরে ফেলে সেনাসদস্যরা। বুধবার নুয়েভা এসিজা প্রদেশের পান্তাবাঙ্গান শহরের একটি গ্রামের কাছে তিন কমান্ডারসহ ১০ বিদ্রোহী নিহত হয়।
সংঘর্ষস্থল থেকে ১৩টি রাইফেল ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। আঞ্চলিক সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জিমসন মাসাংকে টেলিফোনে জানান, দুর্গম এলাকা থেকে সরে আসা আরও ১০ জন গেরিলাকে সেনারা ধাওয়া করছিল।
সেনাবাহিনীর পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নরউইন জোসেফ পাসামোন্তে সৈন্যদের প্রশংসা করলেও বিদ্রোহীদের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে পাসামোন্তে বলেন, সরকার তাদের আত্মসমর্পণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়ে হাল ছাড়েনি। এসব মৃত্যু বাকিদের আত্মসমর্পণ করতে রাজি করাতেও পারে।
মাসাংকে বলেন, উত্তরাঞ্চলের ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল নুয়েভা এসিজা কয়েক দশক আগেও কমিউনিস্ট বিদ্রোহের কেন্দ্রস্থল ছিল, কিন্তু এখন ওই এলাকায় ৫০ জনেরও কম মাওবাদী গেরিলা আছে।
রওয়ের মধ্যস্থতাকারীদের মতে, গত নভেম্বরে সরকার ও কমিউনিস্ট বিদ্রোহীরা নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বৈঠকের পরে এশিয়ার অন্যতম দীর্ঘতম সশস্ত্র বিদ্রোহের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছিল।
তবে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের অধীনে প্রকৃত শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হয়নি।
ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে বিদ্রোহীদের বিপর্যয়, আত্মসমর্পণ ও দলাদলির কারণে এখন মাত্র এক হাজার কমিউনিস্ট যোদ্ধা টিকে আছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের শাসনামলে নরওয়ের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায় কারণ উভয় পক্ষই আলোচনার বদলে একে অপরকে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে।

