ঢাকাTuesday , 7 September 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বায়েজিদে চোরের উপদ্রব: মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক

Link Copied!

মানব জীবন কখনো নিরঙ্কুশ বিপদমুক্ত ছিল না, এখনো নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই মানুষকে চলতে হয়। মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা, ধারা-৩ মতে, “প্রত্যোকের জীবন ধারন-স্বাধিনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে”। তৎমতে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা হয়। এরপর যা দাঁড়ায়, তা হলো মালের নিরাপত্তা। অর্থাৎ প্রথমে মানুষের জানের নিরাপত্তা এবং পরে মালের নিরাপত্তা। বলাবাহুল্য যে, জীবনের নিরাপত্তার কথা বলতে গেলে, আমরা নিয়ত অন্ধকারে প্রতিনিয়ত হাবুডুবুু খাচ্ছি। এর সাথে এখন যুক্ত হলো চুরির উপদ্রব। এক কথায় ঘরের মালামালের নিরাপত্তা অনেকটা উধাও হয়ে যাচ্ছে। অন্তহীন সমস্যার এ দেশে একদিকে অভাব-অনটন আর অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যবস্থা-অব্যবস্থা মানুষকে নিত্যনতুন সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চারদিকে শুধু সমস্যা আর সমস্যা। যাক বলতে চাচ্ছিলাম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় চোরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার কথা। গত কয়েক মাস ধরে থানার শীতল ঝর্ণা আবাসিক এলাকা, কুলগাঁও মাইজপাড়া, তামান্না আবাসিক সংলগ্ন বায়তুল সালাম মসজিদের পাশের বিল্ডিং, কয়লার ঘর এলাকা, নয়ারহাট, কালারপোল ও আশপাশের এলাকার বাসা-বাড়ি, অফিস ও দোকানে চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই ঘটছে চুরির ঘটনা। কুলগাঁও মাইজপাড়া এলাকার বিভিন্ন বিল্ডিং ও বাসা থেকে চোরের দল সুকৌশলে জানালার লক কিংবা কাঁচ খুলে মোবাইল, টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। শীতল ঝর্ণা ও আশপাশের এলাকার বাসা-বাড়িতেও ঘটছে একই রকম চুরি। এরমধ্যে সাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর তামান্না আবাসিক সংলগ্ন বায়তুল সালাম মসজিদের পাশের বিল্ডিংয়ে অবস্থিত প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরামের কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল অত্যন্ত সুকৌশলে অফিসের তালা খুলে চুরি করে আবারো তালাবদ্ধ করে চলে যায়। বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। বাকিটা দেখার বিষয়। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের। সরকারের পক্ষ থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই এই নিরাপত্তা দেয়ার কথা। আমাদের সমাজে থানা পুলিশের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, প্রতিনিয়ত প্রতিটি ক্ষেত্রে পুলিশের প্রয়োজন পড়ে। চোর-ডাকাতের হানা, স্বামী-স্ত্রীতে বিবাদ, মহল্লায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা সবকিছুতে পুলিশ ডাকতে হয়। এক্ষেত্রে কাজের কাজ কতটুকু হচ্ছে, তা বলা মুশকিল। তবে এ কথা অনস্বীকার্য সত্য যে, আইনশৃংখলা বাহিনী এই নিরাপত্তা আমাদের দিতে পারছেন না। খুন-খারাবি, সন্ত্রাস-রাহাজানি, ছিনতাই-ডাকাতি দমনে পুলিশকে এমনভাবে নিয়োজিত রাখা হয়েছে যে, মানুষের মালের নিরাপত্তা রক্ষায় সেই কাঙ্খিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না। এ অবস্থাই যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। আমরা মনে করি, উল্লেখিত এলাকাগুলোর পাড়া-মহল্লায় পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার, চুরির মামলার দ্রুত তদন্ত ও বিচার এবং থানা পুলিশের কাছে এসব চোরদের যে তালিকা আছে, তা ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চালালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
লেখক : সাহেনা আক্তার, চট্টগ্রাম-০৬ সেপ্টেম্বর’২১।