মো: মাসুদ রানা, খুলনা: অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ধুঁকছে খুলনা মহানগর বিএনপি। রাজনৈতিক ও নৈতিক শক্তি হারিয়ে দলটি বর্তমানে ছন্নছাড়া দলে পরিণত হয়েছে। নিজেদের মধ্যে কোন্দল থাকার কারণে অনেকে দল ছাড়ছেন। ফলে প্রায় এক যুগ ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হচ্ছে দলটি।
সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি কর্মসূচি ও ফেসবুকে এক নেতার লেখাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বাগযুদ্ধ। নগর, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির শতাধিক নেতা বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিজেও। দলীয় রাজনীতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন হৈচৈ আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে নগরবাসীর মাঝে।
দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৫ সাল থেকে নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী আজগর লবীর অনুসারীদের সঙ্গে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কিন্তু এবার বিরোধ তৈরি হয়েছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর হাত ধরে রাজনীতিতে উঠে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গেই।
সূত্রটি জানায়, কয়েক মাস ধরে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা দলের মধ্যে পৃথক আরেকটি বলয় তৈরি করেছেন। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন নগর ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম তুহিন। তার সঙ্গে রয়েছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আজিজুল হাসান দুলু, নগর যুবদলের বর্তমান সভাপতি মাহাবুব হাসান পিয়ারু, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক।
দলের বিভেদ নিয়ে গত ২৩ আগস্ট শফিকুল আলম তুহিন ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এর পরই মূলত ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। গত কয়েক দিন বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতা বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, যা এখনও চলছে।
নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম তুহিন পাঞ্জেরীকে বলেন, সভাপতি কিছু অনুগত লোক দিয়ে দল পরিচালনা করতে চান। ৩৮ বছরের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতিনিয়ত আমরা বঞ্চিত ও অবহেলিত হচ্ছি।
নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, কয়েক মাস ধরে তারা ফেসবুকে অসম্মানজনক অনেক লেখা লিখেছে। যাতে বিএনপি কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। দলের স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে চুপ ছিলাম। পরে ছোট করে জবাব দিয়েছি। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারও ওপর কোনো অন্যায়-অবিচার করিনি। তাদের অভিযোগগুলো সঠিক নয়।
সূত্রমতে, খুলনা মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি প্রায় ১১ বছর আগের। নতুন কমিটি এখনো গঠন করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রায় নেতৃত্বশূন্য মহানগর বিএনপি। তবে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, কয়েক দফা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েও দলীয় কোন্দলসহ নানা কারণে কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর খুলনার সার্কিট হাউস চত্বরে মহানগর বিএনপির সবশেষ সম্মেলন হয়েছিল। ওই সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সভাপতি, মনিরুজ্জামান মনিকে সাধারণ সম্পাদক ও ফকরুল আলমকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর ১৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া গঠন করা হয় ১৩ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রথম দফা সম্মেলনের তারিখ ছিল ২০১৬ সালের ৫ মার্চ। কিন্তু ইউপি নির্বাচনের কারণে সম্মেলন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্মেলন নিয়ে দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিলে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়।

