নিজস্ব প্রতিবেদক : নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠেয় প্রাদেশিক নির্বাচনের দিনক্ষণ ধার্য হতে চলেছে। ১২ জানুয়ারি বিকেল নাগাদ সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারবে বলে আশা করছে দিল্লী নির্বাচন কমিশন। আগামি ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের অনুমিত সময়। বিজেপি, কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি সরকার গঠনে অসমর্থতা জানানোর পর থেকে, গত বছরের নভেম্বর থেকে দিল্লীর বিধানসভা নিষ্ক্রীয় হয়ে আছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ৪৯দিন দিল্লীর প্রাদেশিক সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পিছিয়ে আসেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মূলত ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে দিল্লীর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই অস্থিতিশীলতার সূত্রপাত। আম আদমি পার্টি আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ব্যতীত বিজেপি ছিল একমাত্র বড় দল। কিন্তু জয়লাভ করতে পারেনি তারা, যদিও অল্প কয়েক আসন ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল মাত্র। তারপরও প্রাদেশিক সরকার গঠনে দলীয় অংশগ্রহণের আবেদন নাকচ করে দিয়ে বিজেপি অপারগতা জানিয়েছিল। তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূলে চলে গিয়েছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। আম আদমি পার্টি সে নির্বাচনে ৭০ আসনের ২৭ আসন লাভ করেছিল এবং সাত আসন লাভকারী কংগ্রেস তাদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিয়ে চলেছিল। উল্লেখ্য, কংগ্রেস বিগত ১৫ বছর টানা দিল্লীর মসনদে আসীন থাকলেও ২০১৩র নির্বাচনে ধস নেমেছিল তাদের সমর্থকগোষ্ঠিতে।
কংগ্রেসের সমর্থন নিয়েও আম আদমি পার্টি কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের ‘অসহযোগিতার’ কারণে শাসন অবিরত রাখতে ব্যর্থ হয়। মূলত লোকপাল বিল ১ পাস নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন কেজরিওয়াল। তিনি এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিলেন কেন্দ্রকে, ঐ সময়ের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী লোকপাল ১ বিল পাস না হলে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন। সময়সীমার মধ্যে বিল পাস না হওয়ার পর তিনি তার কথা পদত্যাগ করে তার কথা রাখেন।
গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রাদেশিক বিধানসভা বাতিল হওয়ার পর থেকে, পরবর্তী বছরের নভেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো আবারও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। শনিবার, ১০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে বিশাল র্যালির মাধ্যমে বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। নরেন্দ্র মোদি তার বিবৃতির এক ফাঁকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিকেও পরোক্ষভাবে একহাত নেন। তিনি বলেন, ‘তারা শুধু ধর্ণা দিতে পারদর্শী, আর আমরা পারদর্শী সরকার চালাতে।’
বিজেপি বিশেষ কোন নেতাকে প্রার্থী আখ্যা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে না। ঠিক এই কৌশল এবারকার কেন্দ্রীয় নির্বাচনের সময়ও তারা প্রয়োগ করেছে। মোদির উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোকে প্রচারণার প্রধান বিষয়বস্তু করে তুলছে তারা। এ কৌশল নিয়ে আশাবাদী বিজেপি।

