ঢাকাMonday , 18 February 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝুঁকিপূর্ণ তিস্তা রেলসেতুর পাশে আরেকটি সেতুর পরিকল্পনা

Link Copied!

রংপুর প্রতিনিধি : মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮৫ বছর পরও ঝুঁকিপূর্ণ তিস্তা রেলসেতুতে চলছে ২০ ট্রেন। ফলে সেতুটির পাশে আরেকটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা হতে নিয়েছে রেল বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রংপুরের সাথে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের রেল যোগাযোগের জন্য তিস্তা রেলসেতু নির্মিত হয়েছিল ১৮৩৪ সালে। বর্তমানে এই সেতুর বয়স ১৮৫ বছর। নির্মাণের সময় সেতুটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল একশ’ বছর।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১৮৩৪ সালে ২১১০ ফুট লম্বা রেলসেতুটি নির্মাণ করে। তখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেলসেতু হিসেবে এটির পরিচিত ছিল। সেতুটির একাংশ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা এবং অপর অংশে পড়েছে লালমনিরহাট সদর উপজেলা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেতুটিতে মিত্রবাহিনী বোমবিং করায় একটি গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে সেতুটি পুনরায় চালু করা হয়।
১৯৭৭ সালে রেলওয়ে ও সওজ বিভাগ যৌথভাবে রেলসেতুতে মিটারগেজ লাইনের পাশে ২৬০টি স্টিলের টাইফ প্লেট ও কাঠের পাটাতন স্থাপন করে। ১৯৭৮ সালে ট্রেনের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ শুরু করা হয়। তখন থেকেই সেতু দিয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতো। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক পারাপারের ফলে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। আর এটি একমুখী সেতু হওয়ায় উভয় পাশে একই সঙ্গে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। যখন ট্রেন আসে তখন সেতুতে যানচলাচল বন্ধ থাকতো।
২০০১ সালে রেলসেতুর পাশে তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তিতে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে বতর্মান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধনের পর তা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। আর সড়ক সেতু চালু হওয়ার পর মেয়াদোত্তীর্ণ রেল সেতুর যানবাহন চলাচল বন্ধ হলেও রেল সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন ২০টির বেশি ট্রেন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে চলাচল করছে। সেতুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে এই সেতুতে। ফলে যে কোন মুহুর্তে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ এই সেতু নিয়ে সরকারের কি পরিকল্পনা। এমন প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘বর্তমান সরকার রেলের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিস্তায় আরেকটি রেল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুরাতন সেতুর পাশেই আরেকটি সেতু নির্মাণে খুব দ্রুত কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।’
মন্ত্রী জানান, সারাদেশের রেলপথ ব্রডগেজে রুপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের রেলপথ মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রুপান্তরের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রংপুরে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে।
তিস্তা রেল সেতু প্রসঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, ‘তিস্তা রেল সেতুর পাশে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা হতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সমীক্ষা করা হবে।’
ঝুঁকিপূর্ণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হলেও সেতুটিতে কোন ঝুঁকি নেই। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে সেতুটি মেরামত করা হয়েছে। আগে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার বেগে সেতু দিয়ে ট্রন চলতো। এখন এই সেতু দিয়ে ৪০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করছে। তাই সেতু নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।’