ঢাকাSunday , 27 January 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এই শীতেও কাজিপুরে যমুনা অশান্ত

Link Copied!

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : হঠাৎ যেন অশান্ত হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী যমুনা ।
গত এক সপ্তাহের ভাঙনে এখানে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি। সর্ম্পূণভাবে বিলীন হয়ে গেছে তেকানী নৌঘাট। ভাঙনের মুখে পড়েছে ডিগ্রি তেকানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তেকানী ইউনিয়নের যমুনার তীরবর্তী গ্রামে ব্যাপক আকারে ভাঙন শুরু হয়েছে।
এই ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীরে গিয়ে দেখা গেছে, নিজের জমিতে লকলকিয়ে বেড়ে ওঠা বাড়ন্ত ভূট্টা ও গম ক্ষেতের সতেজ গাছগুলো কাটছেন নতুন তেকানী গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন ও কুরবান আলী। ভূট্টা-গম গাছ নয়, যেন নিজের ভাগ্যকেই কাঁচি দিয়ে কাটছিলেন মধ্যবয়সী দুই কৃষক। চোখ দুটো ছলছল করছিল অশ্রুজলে। এমনই চিত্র এখন এখানের ৪টি গ্রামের।
তিন-চার বছর হয় কৃষক আবুল হোসেন ও কুরবান আলী এসে আশ্রয় নেন তেকানী গ্রামের চরে। এ নিয়ে পাঁচবার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছেন তারা। এক সময় পৈতৃক বসতবাড়ি আর কিছু জমি থাকলেও এখন তিনি উদ্বাস্ত। তাদের ভাগ্যকে যেন গ্রাস করেছে যমুনা।
এ ব্যাপারে তেকানী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীর এমন তাণ্ডব এলাকাবাসী আগে কখনো দেখেনি। দুর্গত মানুষের আহাজারি এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং সরকারি দপ্তরে পৌঁছাচ্ছেনা। কর্তৃপক্ষ ধরেই নিয়েছে, বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্য সময় নদী ভাঙে না।’
তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের পশ্চিমদিকে যমুনার মাঝখানে বিশাল চর জেগে ওঠায় ভাঙনের তীব্রতা এত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।’
উত্তর বুরুঙ্গী ও চরপানাগাড়ীর হামিদ মিয়া, জহের মন্ডল ও আলী জানান, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে কৃষকরা দিন দিন আরো নিঃস্ব হবে। এসময় তারা আক্ষেপ করেন, ‘এইচরে আশ্রিত এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা এক সময় বিঘা বিঘা জমির মালিক ছিল। অথচ এখন তারা অন্যের জমিতে মজুরি খেটে সংসার চালাচ্ছে। টাকার অভাবে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছে না। নদী ভাঙন রোধে ব্র‏হ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সংস্কারকাজে শত কোটি টাকা খচর করা হলেও যমুনা নদীর পূর্বদিকের আগ্রাসন বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবছর পূর্বপাড়ের ফসলি জমি আর জনপদ গ্রাস করছে যমুনা।
এ বিষয়ে তেকানী ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ জানান, যমুনা নদী শুকিয়ে ছোট-বড় চরের সৃষ্টি হয়েছে। নদীটি এখন ছোট খালে পরিণত হয়েছে। জেগে ওঠা চরে এখন চাষ হচ্ছে বিভিন্ন ফসলের। ড্রেজিং করে স্রোতধারা চালু করলে নদীটি রক্ষার সাথে সাথে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের ভাঙন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, যমুনা নদীর ভাঙন রক্ষায় অর্থ বরাদ্দ হলে কাজ শুরু করা হবে।