আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এয়ার এশিয়ার নিখোঁজ বিমানের তল্লাশি অভিযান মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। বিমানটির চলাচলের প্রধান পথের বাইরে তল্লাশি এলাকার পরিধি বাড়ানো্ হয়েছে। জাভা সাগরে চলানো অভিযানে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের অনুসন্ধানী দলের সঙ্গে আরো যোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়া।
রোববার সকালে ইন্দোনেশিযার সুরাবায়া থেকে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই নিখোঁজ হয় এয়িার এশিযার কিউজেড৮৫০১ বিমানটি। গত দু’দিন ধরে চালানো অভিযানে এর কোনোই হদিস মেলেনি।
ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির প্রধান বামবাং সোইলিস্তয়ো স্থানীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, বিমানের তল্লাশি এলাকার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার সুমাত্রা এবং বর্নেও দ্বীপের মধ্যবর্তী অঞ্চলেও তল্লাশি চালানো হবে। দেশটির বিমান বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার তারা তেল ছিটকে পড়া যে স্থানের সন্ধান পেয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।
এর আগে সোইলিস্তয়ো বলেছিলেন, তাদের ধারণা বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং সাগরের তলদেশে চলে গেছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,‘সমন্বয়কারী ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হতে পারে। সে হিসাবে একটি ধারণা করা যায়, বিমানটি সম্ভবত সাগরতলে চলে গিয়েছে।’
তবে গত দুদিন ধরে জাভা সাগরে অনুসন্ধান চালিয়ে এয়ারবাসটির (এ৩২০-২০০) কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মেঘের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচুতে চলতে থাকা বিমানটির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো রহস্য হয়েই রয়েছে।
ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তারা বলছেন, মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ৩০টি জাহাজ এবং ২১টি বিমান তল্লাশিতে অংশ নেবে। তারা জাভা সাগরে ১০ হাজার স্কয়ার নটিক্যাল মাইলের মধ্যে তল্লাশি চালাবে।
মঙ্গলবার আরো পরের দিকে তল্লাশিতে যোগ দেবে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী জাহাজ ইউএসএস সেম্পসন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ বিমানটি খুঁজে বের করতে ইন্দোনেশিয়াকে আরো
সহায়তা দেবে। পেন্টগনের মুখপাত্র মার্ক রাইট এক বিবৃতিতে বলেছেন,‘আমরা সম্ভাব্য যে কোনো ধরেনের সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’ এছাড়া একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।
উল্লেখ্য, এয়ার এশিয়া নিখোঁজ বিমানে সবমিলিয়ে ১৫৫ জন যাত্রী এবং সাত ক্রু ছিলেন যাদের সিংহভাগই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাজ্যের সাত যাত্রী ছিলেন। বিমানটির সহকারী চালক ছিলেন একজন ফরাসি।

