ঢাকাSunday , 2 September 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তফসিলের আগে খালেদার মুক্তি চায় বিএনপি

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিএনপি।শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে আয়োজিত জনসভায় বিএনপি নেতারা এ দাবি জানান। দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের নামে ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ জনসভার আয়োজন করে বিএনপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ডিসেম্বরে নির্বাচনের কথা শোনা যাচ্ছে। আমরা বলে দিতে চাই, তফসিল ঘোষণার আগে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।
তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত হতে দিবো না। বিএনপি হতে দিবে না। সিভিল প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার রক্ত চক্ষু দেখিয়ে আপনাদের খারাপ কাজ করতে বাধ্য করছে। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে অতীতের কথা ভুলে গিয়ে ভালো হয়ে যান।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা লুট করেছে, সোনা চুরি করেছে, কয়লা চুরি করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করুন। তারা যেন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে না যেতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে আইনীভাবে মুক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। যখন মুক্তির দ্বারপ্রান্তে আসি তখনই সরকার অন্য মামলায় আটক দেখিয়ে জামিন বিলম্বিত করছে। তাই তাকে মুক্তির একমাত্র পথ রাজপথ।
তিনি বলেন, আইনী প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। একমাত্র পথ হলো রাজপথ। সেই জন্য রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। একদিকে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন আরেক দিকে নেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হবে।
নিরপেক্ষ নির্বাচনে এত ভয় কেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তাকে নির্বাচনের বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্যও হবে না।
সাবেক এই স্পিকার বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে সফল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। বাংলার ইতিহাস থেকে জিয়ার ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।
তারেক রহমান প্রসঙ্গে জমির উদ্দিন সরকার বলেন, তিনি দেশে ফিরে এলে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত মানুষ জেগে ওঠবে।
ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারের কিসের এত ভয়? এত জনপ্রিয়তা আছে তারপরও কেন মিছিল মিটিং দেখলে ভয় পায়। মিছিল মিটিং ষড়যন্ত্র নয়। আপনারা দুই নম্বর লাইলে ক্ষমতায় যেতে চান। ইভিএম দিয়ে টিকতে পারবেন না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় দেশের জনগণ জেলের তালা ভেঙে তাকে মুক্ত করে আনবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। কাল তাকে মুক্তি দিলে পুরশু নির্বাচন এটা ভাবলে ভুল হবে। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে নিয়েছে। তাকে মুক্তি দিতে হবে। কালবিলম্ব না করে তাকে মুক্তি দিন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ ইভিএম’র মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। জনগণের উপর আস্থা না থাকলে ইভিএম কি বাঁচাতে পারবে?।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তিনি নির্বাচনে লড়বেন এই জন্য তাকে এত ভয়। দেশনেত্রীকে জেলে রেখে বাঁচা যাবে না।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমীগেরর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, জয়নাল আবেদীন, বরকত উল্লা বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, মশিউর রহমান, ফজলুল রহমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, মহিলাদলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম।
এর আগে সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নেতাকর্মীদের নয়াপল্টনমুখী স্রোত তৈরি হয়েছে।
‘খালেদা জিয়া ভয় নেই রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘আজকের এই দিনে জিয়া তোমায় মনে,’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত করে তোলে নয়াপল্টনের আশপাশ এলাকা।