নিজস্ব প্রতিবেদক : সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আরও প্রায় চার মাস বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনের আগে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান এলে একে ঘিরে তারা বাড়তি প্রচারণার সুযোগ পান। ঈদুল আজহা আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে শেষ ঈদ। তাই কোরবানির এই ঈদ উদযাপনের সুযোগে গণসংযোগের কাজ সারতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরেছেন ক্ষমতাসীন দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। এমনকি, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যারা আগে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতেন না, নিবার্চনকে সামনে রেখে তারাও নিজ নিজ এলাকায় ফিরেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে এলাকায় অবস্থান করে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নেতাকর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছুতোয় ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সূত্রমতে, এবার চট্টগ্রামের অধিকাংশ সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। এই তালিকায় রয়েছেন মিরসরাই আসনের সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আনোয়ারা আসনের সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পটিয়ার সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, সাবেক মন্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য আফসারুল আমিন, বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ঈদ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তার ব্যক্তিগত সহকারী নুর খান বলেন, ‘এবার স্যার নিজ বাড়িতে ঈদ করবেন। ঈদের আগের দিন রাতে বাড়িতে যাবেন। সকালে নিজ এলাকায় শান্তিরহাট ঈদগাতে নামাজ আদায় করে ওই দিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাড়িতেই কাটাবেন। পরদিন মিরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত বছর স্যার দু’টি গরু কোরবানি দিয়েছিলেন। একই রকমভাবে এবারও কোরবানি করবেন। এবার চারটি গরু কোরবানি করা হবে।’
ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘আমি প্রতিবছর গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করি। এবারও আনোয়ারায় ঈদ করবো। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঈদের নামাজে যাবো, সেখান থেকে এসে সবাইকে নিয়ে গরু জবাই দিয়ে ওই দিন এলাকায় কাটাবো।’
রাউজান-রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য এবি এম ফজলে করিম। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের মতো এবারও একইভাবে ঈদ উদযাপন করবো। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নেতাকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবো। এর বাইরে তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই।’
তিনি দাবি করেন, ‘সারা বছর আমি আমার নির্বাচনি এলাকা ঘুরে বেড়াই। তাই ঈদকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়ানোর কিছু নেই। ঈদকে ঘিরে অনেকেই নিজেকে শো-আপ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমরা যারা সবসময় এলাকাবাসীর পাশে থাকি, তাদের এটি করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’
পটিয়ার সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী জানান, এবার তিনি গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করবেন। ঈদের দিন সকালে বাড়ির পাশের ঈদগায় নামাজ আদায় করে গরু কোরবানি দিবেন। দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে অবস্থান করার পর বিকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য বের হবেন। প্রতিটি ইউনিয়নে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির ঈদের সময় প্রতিবছর আমি মেজবানি দিয়ে থাকি। এবারও ছয়টি গরু কোরবানি দিয়ে মেজবানির ব্যবস্থা করবো। ঈদের ২৪ মণ ওজনের দু’টি গরু কোরবানি দিয়ে মেজবানির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ওই দিন গরিবদের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হবে। এর পরবর্তী দুইদিনও এটা অব্যাহত থাকবে।’
চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ। ঈদ উদযাপন নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে স্পেশাল কোনও পরিকল্পনা নেই। অন্যান্য বছর যেভাবে কাটতো, এবারও ওইভাবে ঈদ উদযাপন করবো। নির্বাচন আসছে বলে নিজেকে জাহির করার জন্য নানা কর্মসূচি রাখার পক্ষে আমি নই। যারা সারাবছর নিজ এলাকায় থাকেন না। তারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঈদে প্রচারণা চালাতে পারেন। কিন্তু আমি সবসময় আমার এলাকায় থাকি। তাই ঈদ উদযাপন নিয়ে বাড়তি মাতামাতি করার কিছু নেই।’
একই ধরনের কথা জানান সাবেক মন্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য আফসারুল আমিন। তিনি বলেন, ‘অতীতের মতো নগরীর কাট্টলী এলাকায় নিজ বাড়িতে ঈদ উদযাপন করবো। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন বাড়িতেই থাকবো, যাতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং নেতাকর্মীরা বাসায় আসলে আমার সাক্ষাৎ পান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এলাকার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে তাদের বাড়িতে যেতে পারি। কিন্তু আমি যদি বাসা থেকে বের হই, তখন অনেকে বাসায় এসে ফিরে যাবেন। তাই তিন দিনই আমি বাড়িতেই থাকবো।’
আফসারুল আমিন আরও বলেন, ‘ঈদ একটা ধর্মীয় উৎসব। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সর্ম্পক নেই। ধর্মীয় দিক থেকেই আমি ঈদ উদযাপন করবো। গরিব ও দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ করতে চাইলে সারা বছরই করা যায়। আমি ধর্মীয় দিক থেকে কোরবানি করি।’
বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঈদের দিন বাড়িতে কাটাবো। দ্বিতীয় দিন এলাকাবাসীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে বের হওয়ার পরিকল্পনা আছে।’
ঈদকে ঘিরে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর আমার চাচাতো ভাইয়েরাসহ আমরা একসঙ্গে কোরবানি দিই। এবারও আমরা একসঙ্গে কোরবানি করবো। এবার ৫টি গরু এবং ২টি মহিষ কোরবানি করবো।’
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে পরের দুই দিন বাসায় আসা নেতাকর্মীদের আপ্যায়নের করাবে। গরুর মাংস দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করা হবে। যেসব নেতাকর্মী বাসায় আসেন, তাদের বিরিয়ানি খাওয়ানো হবে।’

