নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘গুম-খুন’ হওয়া ও দলের নির্যাতিত নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ঈদ পূর্ব শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় নির্যাতিত পরিবারের শিশুদের কথা শুনে অঝরে কাঁদেন মির্জা ফখরুল। সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুভেচ্ছো বিনিময়কালে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বিএনপি সব সময় দাবি করে আসছে বিভিন্ন সময় দলের ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মীকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাদের কারো কারো হদিস পাওয়া যায়নি। আর কারো কারো মরদেহ পাওয়া গেছে।
তবে বিএনপির দাবি অস্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব, প্রেম ঘটিত ব্যাপারসহ নানান কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেরাই আত্মগোপনে গেছেন বা মারা গেছেন।
ঈদ পূর্ব শুভেচ্ছা শুভেচ্ছো বিনিময়কালে বিএনপির নিহত ও নিখোঁজ নেতাকর্মীদের সন্তানদের কথায় বাবাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি শুনে মহাসচিব সহ উপস্থিত সকলে কান্না করেন৷
এ সময় ফখরুল বলেন, আমরা এমন এক দেশে বাস করছি যেখানে শিশুর আর্তনাদও কারো কানে গিয়ে পৌঁছে না। ভয়াবহ এক কারাগারে বসবাস করছি আমরা। যে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নাগরিকদের রক্ষা করা তারাই মানুষ তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ এখন সত্যিকার অর্থেই একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। যেখানে জনগণের কোনো কথা বলার অধিকার নেই, নিরাপত্তা নেই৷ তারাই নির্ধারণ করে কারা বেঁচে থাকবে আর কারা মরে যাবে। বাবাকে ফিরে পাবার জন্য শিশুদের আর্তনাদ তাদের কানে পৌঁছবে কিনা জানি না। কিন্তু আল্লাহর কাছে পৌঁছাবে ঠিকই। আল্লাহ বিচার করবেন।
অসহায় পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের ম্যাডাম কারাগার থেকে আপনাদের খবর নেন৷ লন্ডন থেকে তারেক রহমান অনক বেশি খবর নেন। আপনারা নিজেদেরকে অসহায় ভাববেন না। এ দেশের মানুষ আপনাদের সাথে আছেন। আপনাদের কষ্ট জাতির কষ্ট। আপনাদের সাহস রাখতে হবে৷ এই ভয়াবহ দানবের পতন ঘটাতে হবে।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমরা দীর্ঘদিন সংগ্রামে আছি। আমরা ত্যাগ স্বীকার করছি। এই ত্যাগ বৃথা যাবে না। শিশুরা কাঁদছে, মায়েরা কাঁদছে। নিঃসন্দেহে মানুষ জেগে উঠবে। পরিবর্তন আসবে। এই দানব সরকারের পতন ঘটবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
এ সময় নির্যাতিত পরিবারের কাছে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।

