ঢাকাTuesday , 7 August 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশুদের ওপর হামলা হয়নি, মার্কিন বিবৃতি শিষ্টাচারবিরোধী

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল, কলেজের শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো হামলা হয়নি দাবি করে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও নাক গলানোর অপপ্রয়াস হিসেবে দেখছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বিবৃতি প্রত্যাহারেও আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে চলমান ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে এই প্রতিক্রিয়া জানান তথ্যমন্ত্রী। গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে মাঠে নামে স্কুল কলেজের ছাত্ররা। এর মধ্যে চতুর্থ দিনের পর আন্দোলনে স্কুল পোশাক পরে অছাত্রদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও প্রকাশ পায় আর গত শনিবার থেকে শুরু হয় বিভিন্ন পর্যায়ের সহিংসতা।
সেদিন ফেসবুকে ছড়ানো হয় ছাত্র হত্যা, ধর্ষণের গুজব। আর উত্তেজিত হয়ে শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি ৩/এতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলার জন্য ছুটে আসে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, ছাত্রের পোশাকধারী অছাত্ররাই এই হামলা করেছে। আবার রবিবার থেকে ছোটরা রাস্তায় না থাকলেও বরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে এবং তাদেরকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে হটিয়ে দেয়া হয়।
সেদিন এবং তার পরদিন রামপুরা এলাকায় ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বসুন্ধরা পরদিন সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। রবিবার ফেসবুকে মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল পেজে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী চলমান ছাত্র আন্দোলনে সহিংস হামলা কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।’
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা ‘শান্তিপূর্ণ’ যে আন্দোলনে কথা উল্লেখ করে কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে সম্পত্তি বিনষ্ট করা, বাস ও অন্যান্য যানবাহন ধ্বংসেরও সমালোচনা করা হয়।
বিবৃতিও এও বলা হয়, ‘তবে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করতে থাকা হাজার হাজার তরুণের ওপর নৃশংস হামলা ও হিংস্রতাকে সমর্থন করা যায় না।’
ইনু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘মার্কিন দূতাবাস যে বক্তব্য দিয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখনজনক। তারা বলেছে, ‘শিশুদের আন্দোলনকে বর্বোরোচিত হামলার মধ্য দিয়ে দমন করা হয়েছে। অথচ এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। কোন গণমাধ্যমে এমন কোন রিপোর্ট নেই। শিশুরা আন্দোলন করেছে অনেক স্থানে তারা সমাবেশ করেছে তাদের উপর কোন হামলা করা হয়নি।’
‘মার্কিন দূতাবাস মনগড়া প্রতিবেদন করেছে। এটা অত্যন্ত দুঃজনক। তাদেরও দেয়া বিবৃতির মধ্যে দিয়ে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে শিষ্টাচার বহির্ভূত নাক গলানোর অপপ্রয়াস করেছেন। আমরা এটার নিন্দা করি এবং সেটা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’ বাংলাদেশে জাতিসংঘের প্রধানের বিবৃতিরও সমালোচনা করেন ইনু। বলেন, ‘এই দুটো বিবৃতিই নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের বিষয়ে সঠিক নয়।’
ইনু বলেন, ‘বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা যখন মাঠে নেমে কোন অরাজকতা ছাড়াই বিভিন্ন যানবাহনে লাইসেন্স সংক্রান্ত চেকিং করে তখন আমরা পুলিশকেও বলেছি তারা যেন শিক্ষার্থীদের একাজে বাধা না দেয়। এ ফাঁকে তারা বিভিন্ন পরিবহনে অনিয়মগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় এবং প্রশাসন এসময় তাদের পাহারা দিয়ে রাখে।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাইরে থেকে উস্কানি ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। বলেন, ‘তখন একটি মহল ন্যাক্কারজনক গুজব রটনা ও মিথ্যাচার করে। কতিপয় চিহ্নিত মহল আওয়ামীলীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে আক্রমণ করে। সেই ক্ষেত্রে যখন বাইরের উস্কানিদাতাদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের সংঘর্ষ হয় এবং আমরা শিশুদের রক্ষার চেষ্টা করি। তবে পরিস্কার কথা হচ্ছে শিশুদের উপর কোন দমন পীড়ন করা হয়নি।’
‘আমি সরকারের পক্ষ থেকে দেশের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে জাতিসঙ্ঘের এ বিবৃতি অনভিপ্রেত মনে করি। এটা অযাচিত বলে মনে করি।’ তথ্য মন্ত্রী বলেন, ‘যারা মিথ্যাচার করার চেষ্টা করেছে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’