
যুবদের সামাজিক নেতৃত্বে দক্ষতা তৈরির উদ্দেশ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বিনিময় করছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের পরিচালক বারবারা উইকহ্যাম
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের যুব সমাজের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী মনোভাবের স্ফূরণ ঘটানোসহ তাদের সামাজিক নেতৃত্বে দক্ষতা তৈরির উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাঝে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আ, ন, আহম্মদ আলী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. ফাইজুল কবির, মো. ওমর ফারুক, মো. কামাল উদ্দীন বিশ্বাস, মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের পরিচালক বারবারা উইকহ্যাম, পরিচালক (সোসাইটি) ড. শাহনাজ করিম, প্রধান (সোসাইটি) তৌফিক হাসান।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর মিলে একটি ফেসিলিটেটর রিসোর্স পুল তৈরি করবে যারা বাংলাদেশজুড়ে যুবদেরকে সামাজিক নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবরা তার কমিউনিটিতে যেয়ে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করবে এবং কাজ শেষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ব্রিটিশ কহরিন্সলের যৌথ সনদ প্রাপ্ত হবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ ও ২০৪১-এ উন্নত বাংলাদেশ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে স্থানীয়, জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে সকল কার্যক্রমে যুবদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। যুবদের নেতৃত্ব বিকাশ ও সক্ষম সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নানামুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি আরো বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাথে আমাদের এই যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের যুবদের জন্য আন্তর্জাতিকমানের যুব নেতৃত্ব বিষয়ক কর্মসূচি প্রণয়ন ও সম্পাদনের দ্বার উন্মুক্ত করবে। সেইসাথে বাংলাদেশের যুবদের জন্য বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ‘সক্রিয় নাগরিক’ (Active Citizens)-এর নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ তৈরি করবে।
মিস বারবারা উইকহ্যাম বলেন, বাংলাদেশের যুবদের মাঝে নেতৃত্ব বিষয়ক দক্ষতা তৈরির জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিল অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে দেশের পরবর্তী যুব প্রজন্মকে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে হবে । ব্রিটিশ কাউন্সিল তার ফ্ল্যাগশীপ কর্মসূচি ‘সক্রিয় নাগরিক’ (Active Citizens)-এর উদ্যোগে ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ৪০ হাজার যুবকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করেছে। মিস বারবারা এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রদানকারী আরো অধিক সংখ্যক যুবদের নিয়ে কাজ করবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আ, ন, আহম্মদ আলী বলেন, যুবদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক। তিনি আরো বলেন, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার জন যুবকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবরা তাদের এলাকা/কমিউনিটিতে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করবে এবং তারা সমাহে ‘চেঞ্জ মেকার’-এর ভূমিকা পালন করবে।

