নিজস্ব প্রতিবেদক : সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
বুধবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জিয়া নাগরিক ফোরাম’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের বক্তব্য্ রাখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
প্রাক্তন এই মন্ত্রী বলেন, ‘পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হলে, ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক থাকলে এবং শাহজাহান খানরা অনিয়মকে প্রশ্রয় না দিলে এ অবস্থা দেখতে হতো না।’
তার সরকারের সময়ে পরিবহন শ্রমিকরা নিয়ন্ত্রণে ছিলেন দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শাহজাহান খানরা শ্রমিকদের কন্ট্রোলের বাইরে নিয়ে গেছে। আমি যখন পরিবহন ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিলাম শাহজাহান খান তখন শ্রমিক নেতা। শাহজাহান খান ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছে আমার অফিসের সামনে। চাঁদা বৃদ্ধির দাবিতে। আমি বলেছি কোনো অনিয়ম প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারের মন্ত্রী শাহজাহান খানের কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যা।
‘পাকিস্তান আমলের ইয়াহিয়া খানের মতো হাসি হাসলেন শাজাহান খান। ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের মতো পৈশাচিক হাসি হাসছেন লীগের নেতারা। এই পৈশাচিক হাসি থেকে আমাদেরকে রক্ষা পেতে হবে।’
সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি চেয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়কে নিহত ২ শিক্ষার্থী হত্যার সাথে জড়িতদের এবং আন্দোলনকারী শিশুদের গায়ে যেসব পুলিশ সদস্যরা হাত তুলেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
এ সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কোটা নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের গায়ে যারা হাত তুলেছে তাদের বিচার করতে হবে। যারা ইন্ধন যুগিয়েছে তাদের বিচার করতে হবে। যেসব পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করছে, গুলি চালিয়েছে তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নেন না? তারা (কোটা আন্দোলনকারীরা) তো চাকরি চায়নি তারা মেধার মূল্যায়ন চেয়েছে।’
আয়োজক কমিটির সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ারের সভাপতিত্ত্বে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মহানগর সহ-সভাপতি ইউনুছ মেধা, সহ-সভাপতি ফরিদউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

