ঢাকাFriday , 29 June 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আবেদন হারিয়েছে বামশক্তি

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করছেন সাবেক বামপন্থী নেতারা। সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি জনসমর্থন আদায়েও তারা রাখছেন সাফল্য। কিন্তু বামপন্থী দলগুলোতে থেকে তারা আবার জনগণকে আকর্ষণ করতে পারছেন না।
বাম দলগুলো বড় দলগুলোকে নানা সময় নানা পরামর্শ দিচ্ছে কীভাবে রাজনীতি করা উচিত, রাজনীতিতে গুণগণ কী পরিবর্তন আনা উচিত। কিন্তু নিজেদের মধ্যেই এই পরিবর্তন আনতে পারছে না তারা।
বাম দলগুলো এবং নেতারা নানা ইস্যুতে সব সময় সোচ্চার। গণমাধ্যমও তাদেরকে বেশ গুরুত্ব দেয়। ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির দিক থেকেও তাদেরকে নিয়ে নেতিবাচক খুব বেশি কথা শোনা যায় না। কিন্তু ভোটের ফলাফলে তাদের কোনো প্রভাবই নেই।
দেশের অন্যতম প্রধান বাম দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির একজন নেতা স্বীকার করেছেন, তারা ভোটের অংক বুঝতেই পারছেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরীও মনে করেন, বামদের কোনো অবস্থান নেই বাংলাদেশে। কিন্তু এটা বামরা স্বীকার করতে চায় না।
সদ্য সমাপ্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ছয় লাখ ৩০ হাজার ভোটের মধ্যে বামপন্থী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির কাজী মো. রুহুল আমীন ভোট পেয়েছেন ৯৭৩ টি। সাত মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তার অবস্থান সবার নিচে।
বামপন্থী অন্য কোনো দল এখানে প্রার্থী দেয়নি। যদি ধরে নেয়া হয়, তাদের অনুসারীদের ভোটও পেয়েছেন সিপিবির প্রার্থী, তাহলে সেটি গোটা বামপন্থী রাজনীতির আবেদন হারানোর প্রমাণ হিসেবেই দেখা যায়।
গত ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও পাঁচ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৫৩৪ ভোট পেয়ে সবার তলানিতে ছিলেন সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু।
এর আগে ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সিপিবি-বাসদ-এর সম্মিলিত প্রার্থী বজলুর রশিদ ফিরোজ এক হাজার ২৯ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
সে সময় ঢাকা উত্তরে একই জোটের আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন দুই হাজার ৪৭৫ ভোট এবং আওয়ামী লীগের শরিক জাসদের নাদের চৌধুরী পান এক হাজার ৪১ ভোট।
এমনকি আলোচনায় না থাকা ধর্মভিত্তিক দলগুলোও এখন বামপন্থী দলের চেয়ে ভালো ভোট পাচ্ছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ভোট পেয়েছে ২৬ হাজার ৩৮১ টি। এটি সিপিবির প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে ২৭ গুণেরও বেশি। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ইসলামী আন্দোলন সিপিবির প্রায় ২৭ গুণ বেশি ভোট পায়।
বাম দলগুলো বরাবর মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার। বড় দলগুলো এ নিয়ে কর্মসূচি না দিলেও নিজেদের মতো করে যতটাই হোক নানা বক্তব্য তুলে ধরে তারা। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, চালের দামসহ নানা ইস্যুতে রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নানা সময় চুপ থাকলেও বাম নেতারা রাজপথে নানা সময় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
পরিবেশ নিয়েও সব সময় উচ্চকণ্ঠ বামরা। বিশেষ করে তাদের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলন বেশ নাড়া দেয়। বিএনপির মতো বড় দলও বামদের এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে।
বাম নেতারা প্রায়ই দাবি করেন যে, দুই প্রধান দলের প্রতি বীতশ্রত হয়ে গেছে মানুষ। কিন্তু এই ‘বীতশ্রত’ মানুষদেরকে দলে টানতে পারছে না তারা। বরং দিনে দিনে তারা ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে সিপিবির পাঁচ জন নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদের বাইরে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন তখন বরিশালের একটি আসন থেকে জিতেছিলেন হাতুরি প্রতীক নিয়ে।
১৯৯৬ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এর একাংশের নেতা আ স ম আবদুর রব লক্ষ্মীপুরের একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এরপর কেবল ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর এবং পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের শরিক হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে কয়েকজন বাম নেতা ভোটে জিতেছেন। এটা নিশ্চিত যে, নিজেদের শক্তিতে নয়, জয় এসেছে আওয়মী লীগের সমর্থনে।