নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচন নিয়ে শতভাগ মানুষকে কখনও সন্তুষ্ট করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে জোটের মুখপাত্র দাবি করেন, নির্বাচন হচ্ছে যুদ্ধের মতো, এখন মাঠে যারা শক্তভাবে থাকবে তাঁরাই জিতবে।
শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন জোটের মুখপাত্র।
গত ১৫ মে খুলনায় এবং ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পর বিএনপি অভিযোগ করেছে তাদেরকে কারচুপি করে হারানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, অল্প কিছু কেন্দ্রে কারচুরি হয়েছে, সেই কেন্দ্রগুলোতে ভোট স্থগিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ বলেছে, জনগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করেছে।
এর মধ্যে গাজীপুরে ভোট শেষে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, সেখানে ভালো চিত্রও ছিল, খারাপ চিত্রও ছিল। আর সব মিলিয়ে এই চিত্রের জন্য উদ্বিগ্ন তারা।
আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ আবার বার্নিকাটকে গত নভেম্বরে তার দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে ভাবার কথা বলে জবাব দিয়েছেন।
নাসিম বলেন, ‘নির্বাচনেই তো জয়-পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। জয়-পরাজয় নিয়ে আলোচনা হবেই। শুধু বাংলাদেশেই নয়, দুনিয়ার সকল নির্বাচনে সবার মনজয় হয়েছে তা বলা যাবে না।’
‘আমেরিকা, বৃটেন, ভারত এবং মালেয়শিয়ার নির্বাচন নিয়েও অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। নির্বাচনে শতভাগ মানুষ সন্তুষ্ট হবে এমনটা আমরা বিশ্বাস করি না।’
‘নির্বাচন হচ্ছে যুদ্ধের মতো, এখন মাঠে যে শক্তভাবে থাকবে তাঁরাই বিজয়ী হবে। মাঠে অনুপস্থিত থেকে নির্বাচন নিয়ে কোন কথা বললে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’
গাজীপুরের ভোট নিয়ে বার্নিকাটের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্টদূতের বক্তব্য তার ব্যক্তিগত। গাজীপুর ও খুলনার জনগণ জানে ভোট কীভাবে হয়েছে। তারা সচেতনভাবে ভোট দিয়েছে। এটা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না।’
‘যে কোনো নির্বাচন নিয়ে যেকোন ব্যক্তি কিংবা সংগঠন তাদের পর্যবেক্ষণ দিতে পারে। পর্যবেক্ষণ দেয়ার ক্ষমতা সবারই আছে। সেটা সঠিক কি বেঠিক তা জনগণই নির্ধারণ করবে।’
নাসিম বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোন অভিযোগ থাকলে তাঁর তদন্ত করবে নির্বাচন কমিশন।
ইদানীং সব নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় বিএনপিকে অভিনন্দনও জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। জানান, বিগত সব সিটি নির্বাচনে ১৪ দল ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিল, আগামী তিন সিটি নির্বাচনেও (রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট) তারা ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে লড়বেন।

