নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক ফোরাম নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে’ এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) চান অথবা না চান একটা কথা আপনাকে বলি, এদেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রিয়, তারা গণতন্ত্রকে খুব পছন্দ করে। গণতন্ত্রের জন্য এদেশের মানুষ লড়াই করেছে, যুদ্ধ করেছে। এই গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ কিছু ভাবতে পারে না। সেহেতু আগামী ডিসেম্বর এবং জানুয়ারির মধ্যেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট ক্ষমতায় যাবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। এভাবেই দেশের সব সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা যখন ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল তখন কেউ বিশ্বাস করতে পারেননি শেখ হাসিনা একদিন দেশে ফিরে আসবেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তেমনিভাবে এখনও অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হয়ে আসবেন, তার ছেলে তারেক রহমান বাংলাদেশে আসবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা যা সত্য প্রমাণিত করেছেন তারেক রহমানের জন্যও সেটি সত্য প্রমাণিত হবে। কারণটা হলো শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তার মা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। আর এদিকে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাবা শহীদ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং তার মা বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং পাল্লা তো এই (তারেক) দিকে বেশি ভারি।’
সরকারের সমালোচনা করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কত হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে তার তদন্ত করতে পারলেন না। ১ হাজার কোটি টাকা ফার্মার্স ব্যাংক থেকে চুরি হয়ে গেলো, ৯৬ হাজার কোটি টাকা শেয়ারবাজার থেকে লুটপাট করা হলো, সেই অপরাধীরা কোথায়? তাদের তো ঠিকানা হওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় কারাগারে। আর যিনি দুর্নীতিবিরোধী পরিবারের আস্থার প্রতীক, সেই বেগম খালেদা জিয়াকে একটি মিথ্যা সাজানো মামলায় আটকে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত কারাগারে।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হাজী মোজাম্মেল হক মিন্টুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, কৃষক দল নেতা ইঞ্জিনিয়ার হৃদয় প্রমুখ।

