গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সবারই চাওয়া একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। প্রার্থীদের চেয়ে সমর্থকদের মাঝেই উত্তেজনা যেন একটু বেশি। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
আয়তনের দিক থেকে দেশের বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন গাজীপুর নির্বাচনের আর মাত্র ১৭ দিন বাকি। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর নেতা-কর্মীরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মিটিয়ে ঐব্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সকাল ৭টা থেকে টঙ্গীর বড়বাড়ী এলাকা থেকে এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাড়ি ছয়দানা এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন।
নির্বাচনে ভোটারদের অবাধে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত ২০ দল সমর্থিত বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, প্রশাসনকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসন যদি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে জনগণকে নিয়ে জবাব দেয়া হবে।
হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, সরকার এতো উন্নয়ন করেছে। কই এখনও তো অনেক রাস্তাঘাটে চলাচল করা যায় না। তা কি তাদের চোখে পড়ে না। তারা যত ভুল করবে বিএনপির তত লাভ হবে।
এদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, নির্বাচন হবে উৎসবমুখর পরিবেশে সাধারণ মানুষ ঝাপিয়ে পড়েছে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে। আমরা চাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিয়ে সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে হবে। সিটি নির্বাচনে সেই গণজোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে ভোটাররাও চান অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যোগ্য ও নিরপেক্ষ প্রার্থীকে ভোট দিতে।
১নং ওয়ার্ডের ভোটার ডাক্তার খলিলুর রহমান জানান, সবসময় যাকে কাছে পাওয়া যাবে এবং সিটি এলাকার রাস্তাঘাট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা যার মাধ্যমে সহজে করা যাবে, মেয়র হিসেবেই তাকে ভোট দেয়া উচিৎ। দলমত নির্বিশেষে এ ধরনের প্রার্থীকেই আমাদের বেছে নেয়া উচিত।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে যা করা প্রয়োজন সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির।

