সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট নগরীর মিরাবাজার খারপাড়া এলাকায় মা ও ছেলে খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার যুবককে রিমান্তে নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার বটেশ্বর এলাকা থেকে নাজমুল ইসলামকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার মুক্তির চক এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে।
গত ১ এপ্রিলে সিলেট নগরীর মিরাবাজার খারপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে এসএসসি ফলপ্রার্থী রবিউল ইসলাম রোকনের (১৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখান থেকে তার মেয়ে শিশু রাইসাকে (৫) জীবিত উদ্ধার করা হয়।
বুধবার বিকেলে নাজমুলকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রোকেয়া খানম ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌসুল হোসেন।
এর আগে দুপুর আড়াইটায় কোতোয়ালি মডেল থানা কম্পাউন্ডে আসামিকে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে থানার অতিরিক্ত কমিশনার (এসি) গোলাম দস্তগির। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর থেকে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এক পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করে বটেশ্বর এলাকা থেকে নাজমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম মামলার এজাহারে না থাকলেও ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। এমনকি নিহত রোকেয়া বেগমের মেয়ে শিশু রাইসার মুখেও বার বার এই নাম উচ্চারিত হয়েছে।
তিনি আরো জানান, পেশায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নাজমুলের সঙ্গে রোকেয়া বেগমের দীর্ঘ দিনের পরিচয় ছিল। রোকেয়া বেগমের বিউটি পার্লারের ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার কথা ছিল নাজমুলের। হত্যাকাণ্ডের দিন ওই এলাকায় তার অবস্থান করার তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। তবে তিনি সরাসরি হত্যায় জড়িত কি-না, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রোকেয়া খানম বলেন, শিশুটিকে নাজমুলের ছবি দেখানোর পর চিনেছে। হত্যাকাণ্ডে কতজন জড়িত এই বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি শিশুটি। তদন্তের স্বার্থে মামলার অন্য আসামিদের ব্যাপারে বলতে চাননি পুলিশের এই কর্মকর্তা।
নিহত রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

