নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে সম্পূর্ণভাবে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ চক্রান্তের ফলেই দেশের জনপ্রিয় শিক্ষক লেখক, বিজ্ঞানী, প্রখ্যাত সাহিত্যিক ড. জাফর ইকবাল সাহেবকে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় ছুরিকাঘাত করা হলো।’
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিএনপির মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো তদন্ত না করেই বলে দেওয়া হলো যে বিএনপি হলো এটার জন্য দায়ী। আসলে আওয়ামী লীগ এমন ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে।
জাফর ইকবালের ওপর হামলার পর ওই ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া এলো। মানববন্ধনে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে বিএনপি প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে অবাধ নির্বাচনের আয়োজন করতে পরিবেশ সৃষ্টির কথা বলেন তারা।
খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করতে বিভিন্ন ধরনের কলাকৌশল ও ছলচাতুরী করা হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাকে সংবিধান সম্মত আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাকে জামিন পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন কলাকৌশল করে ছলচাতুরীর মধ্য দিয়ে তার মুক্তিকে বিলম্বিত করা হচ্ছে।’
‘তাই আজ সমগ্র দেশের মানুষের কাছে, রাজনৈতিক দলের কাছে আজকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা আসুন, ঐক্যবদ্ধ হন, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করুন। এ দেশকে মুক্ত করার জন্য ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে একত্রিতভাবে আন্দোলন করি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আজ গণতন্ত্রের এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছি যেখানে গণতন্ত্র মৃত। এই দেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই। দেশনেত্রীকে সাজা দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ চক্রান্ত করে, নীল নকশার মাধ্যমে। তাকে (খালেদা জিয়া), বিএনপিকে, ২০ দলকে এবং দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এসব চক্রান্ত করা হচ্ছে।’
‘একটা কথা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশনেত্রী শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি সমগ্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কামী মানুষের নেতা। এজন্য তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করছি। এই আন্দোলন শুধু বিএনপির জন্য নয় গণতান্ত্রিক মুক্তির আন্দোলন। এই আন্দোলন দেশকে একটি অপশক্তির হাত থেকে মুক্ত করার আন্দোলন।’
আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না জানিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান বিএনপির মহাসচিব।
‘যারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নয়, তাদের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। পরিস্কার করে বলেছি, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সকল দলের সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সেই নির্বাচন অবশ্যই বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে।’
মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লাহ বুলু, ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।
২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জাগপার লুৎফর রহমান, জাতীয় পার্টির (জাফর) আহসান হাবিব লিঙ্কন, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনপিপি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ডিএল’র সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি উপস্থিত ছিলেন।

