নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রলম্বিত হবে কি না, সে বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের জোয়ারসাহারা এলাকায় বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজার পর থেকে খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং জামিন আবেদনের বিষয়ে আইনজীবীদের চেষ্টার মধ্যে বিএনপি নেত্রীকে আরও দুটি মামলায় আদালতে হাজিরার পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
আবার ২০১৫ সালে কুমিল্লায় বাসে পেট্রল বোমা হামলা চালিয়ে আট জনকে হত্যা, ২০১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে নড়াইলে করা একটি মামলা এবং ২০১৬ সালে ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এসব পরোয়ানায় এখন তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় কি না, এ নিয়েও প্রশ্ন আছে।
এ কারণেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বের হতে পারবেন কি না-সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তবে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সচিবালয়ে জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হাইকোর্টের আপিল করলে জামিন দিলে তো তিনি বাহিরে থাকবেন। এখন সেটা তো আদলতের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে, সবকিছু মিলিয়ে তাঁর কারাবাস আরও প্রলম্বিত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।’
‘আমি এ কথা বলতে পারি, সরকার এ ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করবে না, আগেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’
সরকারের কারণে রায়ের কপি পেতে বিলম্ব হওয়ায় আপিলেও দেরি হচ্ছে-বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের এমন অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন কাদের। বলেন, ‘মওদুদ আহমেদের মন্তব্য নিয়ে দেশের মানুষের সবসময়ই সংশয় থাকে। কারণ তিনি নিজেই ভুয়া কাগজ দিয়ে অবৈধভাবে বাড়ি দখল করতে চেয়েছিলেন।’
‘মওদুদ আহমেদের মত বিজ্ঞ আইনজীবী থাকতে কেন আদলতের কাগজপত্র পেতে দেরি হচ্ছে? এর জবাব তো আদালতই দেবে, সরকার এ জবাব দেবে কেন? আদালতের কাছে এ জবাবটা খুঁজুক মওদুদ আহমদ।’

