নিউজ ডেস্ক : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গত দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও এই আসন থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতি। ঢাকার এই আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তিনি।
জানা গেছে, ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচনের লক্ষ্যে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারে নামছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নির্বাচনী এলাকা ভাষানটেক মোড়, ধামালকোট, কচুক্ষেত এলাকায় সোমবার একাধিক সভা-সমাবেশ করবেন এই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।
জানা গেছে, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনের মতো উক্ত আসনে বিপুল ভোটে জিততে চান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এই আসনের অন্তর্ভূক্ত গুলশান, বনানী ও সেনানিবাসের মতো অভিজাত এলাকা। প্রাক্তন সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্য হিসেবে এসব এলাকায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বড় ধরনের ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে ধারণা জাতীয় পার্টির।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী বলেন, আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহকে পরাজিত করে ঢাকা-১৭ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাঁচ বছর এমপি থাকাকালে তিনি দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব কাজে তিনি ছিলেন অগ্রগামী। যা এই পাঁচ বছরে এলাকার মানুষ বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কালামের কাছ থেকে পায়নি।
তিনি জানান, সংসদ সদস্য না হলেও বর্তমানে উক্ত সংসদীয় আসনের মানুষগুলোর সুখ-দুখে সবসময় পাশে আছেন আমাদের পল্লীবন্ধু এরশাদ। উক্ত এলাকা ঘিরেই তার অধিকাংশ কাজকর্ম। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে এই এলাকার মানুষ আবারো সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে উক্ত এলাকার এমপি হিসেবে দেখতে চান। এলাকাবাসীর অনুরোধের মুখে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ ঢাকা-১৭ আসন থেকে আগামীতে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের মতো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী জোট হলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে এই আসন ছেড়ে দেওয়া হবে। গত দশম নির্বাচনেও জাপা চেয়ারম্যানকে এই আসনে নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ওই আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি উক্ত আসনের সংসদ সদস্য। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এমপি প্রার্থী হওয়ায় আগামীতে আবুল কালামের কপাল পুড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

