নিউজ ডেস্ক : আজ বৃহস্পতিবার বরিশাল সফরে আসবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছয় বছর পর শেখ হাসিনার আগমনকে বর্ণিল করতে বরিশাল নগরীকে নতুন রপে সাজানো হয়েছে। হ্যাটট্রিক মিশনের লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে সিলেটের পর জনসভায় অংশ নিতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছেও চাওয়া পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে বরিশালবাসীর।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় শেষ মুহূর্তে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানের জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। পরিদর্শন শেষে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ছয় বছর পর বরিশাল আসছেন মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সফরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কারণে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানের জনসভা জনসমূদ্রে পরিণত হবে।’
সফর সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বরিশাল জেলার সীমান্তবর্তী বাকেরগঞ্জের লেবুখালীর পায়রা নদীর তীরে বিশেষ হেলিকপ্টারে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সেখানে শেখ হাসিনা সেনানিবাসের উদ্বোধন এবং ৭ পদাতিক ডিভিশনসহ ১১টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন করবেন। এ ছাড়া পটুয়াখালীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
পরে সেখানে জোহরের নামাজ আদায় এবং মধ্যাহ্ন ভোজ করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর সোয়া ২টায় বরিশাল নগরীতে যাবেন তিনি। বঙ্গবন্ধু উদ্যানের বিশাল বোর্ডে বরিশাল জেলার ৩৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর করবেন তিনি।
বিকেল ৩টায় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমীন।
স্বতন্ত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি : কৃষিভিত্তিক অঞ্চল বরিশালে স্বতন্ত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি উঠলেও দীর্ঘ ৪৬ বছরেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। আর কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হলেও কৃষি নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা না থাকায় এর উন্নতিও হচ্ছে না। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ বরিশালের বাবুগঞ্জেরে খানপুরায় অবস্থিত। এই অনুষদকে স্বতন্ত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতিকরণের দাবি উঠেছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ওই দাবি উত্থাপন করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।
অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ জানান, বরিশালের পবিপ্রবির বহিঃস্থ ক্যাম্পাস (বাবুগঞ্জ) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত অনুষদটির বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের বিবেচনায় অনুষদটি একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ কৃষি বি্শ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এটিকে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হলে বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া উপযোগী কৃষি গবেষণা ও দেশে দক্ষ কৃষি বিজ্ঞানীর চাহিদা পূরণ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।
বঙ্গবন্ধু সমন্বয় পরিষদের সভাপতি (এনএসভিএম অনুষদ) ও সহকারী রেজিস্ট্রার মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, পবিপ্রবির এই ক্যাম্পাসটি পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বার্ষিক স্বতন্ত্র বাজেট বরাদ্দ থাকায় পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের তেমন প্রয়োজন হবে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাওয়ার আগেই সবকিছু দিয়েছেন বরিশালবাসীকে। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর নিকট উন্নয়নের বেশকিছু দাবি উত্থাপন করা হবে। এর মধ্যে গুরুত্ব পাচ্ছে বরিশালে স্বতন্ত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প। আমি নিজে থেকেই এ দাবির যৌক্তিকতা প্রধানমন্ত্রীকে জানাব। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিমুখ করবেন না।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, বরিশাল বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত, বরিশালে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ভোলার গ্যাস বরিশালে আনা, বানারীপাড়া সন্ধ্যা নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি নেত্রীর কাছে তুলে ধরব।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরি দুলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবই দিয়েছেন। তারপরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে সেগুলোর কথা আমরা তাকে বলবো। সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে কিছু নতুন দাবির কথাও তুলে ধরব। সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কিছু দাবি এসেছে।
বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ স. ম ইমানুল হাকিম বলেন, ইতিমধ্যে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর বরিশালের প্রতি যে সুদৃষ্টি রয়েছে তা যেন আগামীতেও অব্যাহত থাকে সে কামনা করি। দক্ষিণবঙ্গে আজও চালকল নেই, চালকল হলে আমরা এখানকার চাল এখানেই পাব, চাষিরাও উপকৃত হবে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজল ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্মের মধ্য দিয়ে সবার অন্তরে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি সব সময় বরিশালের জন্য কাজ করেছেন। আমরা যারা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বরিশালে একটা অডিটরিয়ামের, যার কাজও প্রায় শেষের দিকে। শিল্পকলা একাডেমির আধুনিক ভবন তৈরি হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরো সমৃদ্ধ হবে।
প্রবীণ সাংবাদিক মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, যদি নির্দিষ্ট করে দাবির কথা ওঠে তবে ভোলার গ্যাস বরিশালে আনা, প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে বরিশালের গ্যাস-টারবাইন চালানো, কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীত করা, ঢাকা-বরিশাল নৌপথ ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় আনা, বিএম কলেজে আলাদা পরীক্ষার হল নির্মাণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত নির্মাণ করা উল্লেখযোগ্য।

