ঢাকাWednesday , 7 February 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কর্মসূচি নেই, তবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ

Link Copied!

খুলনা প্রতিনিধি : জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে খুলনা মহানগর বিএনপি আগাম কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালতে রায় ঘোষণা করা হবে। এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান আসামি। দোষী প্রমাণ হলে তাকে কারাগারে যেতে হবে।
রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে খুলনা শহর এবং জেলায় পুলিশের ধরপাকড় চলছে। ইতোমধ্যে শহরের অর্ধশত নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে বলে নেতারা জানিয়েছেন। সর্বশেষ গত সোমবার খুলনা মহানগর বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভার পর প্রকাশ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে রায় ঘোষণার দিন নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নিয়ে রাজপথে থাকতে বলা হয়েছে।
রায় ঘোষণা দিন মহানগর আওয়ামী লীগও কোনো কর্মসূচি রাখেনি। ওই দিন শহরে জনসভা করার কথা থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়। তবে দলের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষের যে কোনো হামলা মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত থাকবে বলে নেতারা জানিয়েছেন।
নাশকতা প্রতিরোধে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে পুলিশ মাঠে নেমেছে। বুধবার থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রবেশদ্বারে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। নগরীতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিট্রন পুলিশের পক্ষ থেকে বুধবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত নগরীতে সব ধরনের লাঠি, ছড়ি, আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হতে পারে। এমন ধারণা থেকে করণীয় নির্ধারণ করতে খুলনা মহানগর বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডাকা হয়। সভায় অধিকাংশ নেতা তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন। তবে কেউ কেউ ধ্বংসাত্মক কাজে না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের কথা বলেছেন।
সভায় উপস্থিত বিএনপির দুইজন নেতা জানান, শনিবার থেকে নগর ও জেলাজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। কয়েক দিনে বিএনপি, যুবদল, মহিলাদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অর্ধশত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও গ্রেপ্তারের খবর আসছে। এ অবস্থায় আগাম কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে ধরপাকড় আরও বাড়তে পারে। এ জন্য কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। স্বল্প সময়ের নোটিশে সবাই যাতে রাস্তায় নেমে আসতে পারে সেই প্রস্তুতি থাকবে।
মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, রায় ঘোষণার পরপরই তাদের কর্মসূচি শুরু হবে। কর্মসূচি ‘কী’ হবে- সেটা তখনই নির্ধারণ করা হবে। তবে সব কিছু হবে শান্তিপূর্ণভাবে।
বৃহস্পতিবার নগরীর হাদিস পার্কে পূর্ব-নির্ধারিত জনসভা বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় কার্যালয়ে বসে নেতা-কর্মীরা সময় কাটাবে। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান মনে করেন, সব কিছুই স্বাভাবিক থাকবে। ওই দিন কিছুই হবে না। অযথা উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রায়কে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য বলা হয়েছে। তাদের নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে থাকবে। তারা কোনো বিবাদে জড়াবে না। তিনি বলেন, ‘‘আইন সবার জন্য সমান। বর্তমান সরকার মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মনিরা সুলতানা বলেন, খুলনা শহরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সঙ্গে র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে কাজ করছে। নগরীর জেলখানা ঘাট, রূপসা ঘাট, পথের বাজার, গল্লামারী, রয়েল মোড়, শিববাড়ি মোড়, ডাকবাংলো মোড়সহ ১০টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে বিজিবিও মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।