নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ শিশু অপহরণ ও পাচারকারী চক্রের হোতা সাহাবুদ্দীন ওরফে সেলিম ওরফে সাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার রাতে গুলিস্তান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পাসপোর্ট ও একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকার বাসা থেকে বায়জিদ নামে আট বছরের এক শিশু নিখোঁজ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি তার মা মোছা. ডালিম বন্দর থানায় ছেলে অপহৃত হয়েছে মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি জানান অপহরণকারী তাকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করেছে। না দিলে তারা বায়জিদকে হত্যা করবে। পরে তিনি র্যাবের কাছে অভিযোগ করেন। মোছা. ডালিমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের আদমজীনগরে অভিযান পরিচালনা করে শিশু বায়জিদকে উদ্ধার করে ও অপহরণকারী চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ১৭টি অপহরণের কথা স্বীকার করে। এদের মধ্যে ৯ জনকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় তারা। এ ছাড়া বেশ কয়েকজনকে বিদেশে পাচার ও মাত্রাতিরিক্ত ওধুষ ব্যবহারের কারণে দুই শিশুর মৃত্যু বিষয়টি জানায়। তা ছাড়া এই চক্রের মূল হোতা সাহাবুদ্দীন সম্পর্কেও তারা তথ্য দেয়।
র্যাব-১১ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাকিল আহমেদ জানান, সাহাবুদ্দীনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে কুমিল্লা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা ও গাজীপুরসহ অনেক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ গতকাল রাতে ঢাকার গুলিস্তান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাহাবুদ্দীনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে শাকিল আহমেদ জানান, সাহাবুদ্দীনের জন্ম নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুলল্লায়। তিনি ট্রাক ও হিউম্যান হলার চালক ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি বন্দর থানা এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক হন। পরে এ সংক্রান্ত একটি মামলায় হয়ে চার মাস জেল খাটেন। ২০০৬ সালে নিজের নাম পরিবর্তন করে সেলিম ছদ্মনামে পাসপোর্ট করে সৌদি আরব চলে যান। ২৭ দিন পর তিনি দেশে ফেরত আসেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার এলাকার মেট্রো সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ড্রাইভার হিসেবে চাকরি নেন। সেখানে ৪০০ ব্যাগ সিমেন্ট আত্মসাৎ করে অন্যত্র বিক্রি করার অপরাধে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর তিনি পালিয়ে চাঁদপুরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেন। সেখানে তার শ্যালিকার সঙ্গে প্রেমে জড়ান এবং পালিয়ে বিয়ে করে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় ট্যাক্সি চালানোর পাশাপাশি শিশু অপহরণ ও পাচারকারী চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, চক্রের সদস্যরা পারস্পারিক যোগসাজসে ঢাকার সদরঘাট, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকা থেকে শিশু অপহরণ করতেন। গ্রেপ্তারের সময় সাহাবুদ্দিনের জব্দ করা পাসপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পযন্ত ১৫ মাসে মোট ৬ বার ওমানে যাতায়াত করেছেন। কোনো বারই তিনি এক মাসের বেশি সময় ওমানে অবস্থান করেনি।

