নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মূল চক্রান্তকারী জিয়াউর রহমানের দল বিএনপির বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় শিল্পকলা একাডেমীতে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যুবলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
শোকাবহ ১৫ আগস্ট ঘটনার বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি। যে সমস্ত খুনি এখনো দেশের বাইরে বাইরে পলাতক আছে, তাদেরকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান। হানিফ বলেন, ‘যে দেশে খুনিরা ইতোমধ্যে পালিয়ে আছেন, যে দেশে আশ্রয় নিয়ে আছেন, আপনারা মানবতার কথা বলেন, যদি সত্যিকার অর্থেই মানবতার কথা চিন্তা করেন, তাহলে আত্মস্বীকৃত খুনিদের আমাদের দেশে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের শাস্তি কার্যকর করার সুযোগ দিন।’
তিনি বলেন, ‘সরাসরি যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বিচারে তাদের শাস্তি হয়েছে। নেপথ্যে চক্রান্তকারী যারা তারা এখনো বিচারের আওতায় আসেনি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মূল চক্রান্তাকারী হিসেবে জড়িত ছিল খুনী জিয়াউর রহমান। তিনি এই খুনীদেরকে শুধু পরামর্শ নয় সকল ধরনের সহযোগিতা দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের আগেও দিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের পরেও দিয়েছেন। ক্ষমতা দখল করে তিনি এই খুনিদেরকে পুরস্কৃত করেছেন, পুনর্বাসন করেছেন। সেই জিয়াউর রহমানের বিচার হয়নি। তাই আজকে বঙ্গমাতার জন্মদিনে আমরা জিয়াউর রহমানের মরনোত্তর বিচার দাবি করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতার বিরুদ্ধে যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার হয়েছে। এখনো তাদের বিচার চলছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক নিবন্ধন আদালত বাতিল করেছেন। জনগণও দাবি করছে, এদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। আজকে এরা গোটা জাতির কাছে ধিকৃত। ঠিক তেমনিভাবে ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তারাও সমভাবে ধিকৃত।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মূল চক্রান্তকারী ও খুনি জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি’র রাজনীতি করার কোন অধিকার বাংলাদেশে থাকতে পারে না বলে জাতি মনে করে। যারা এই দেশকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল, যারা এখনো বাংলাদেশকে পাকিস্তানের তাবেদার রাষ্ট্র হিসেবে ধ্বংস করতে চায়, তাদের এই বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার থাকতে পারে না।’
বঙ্গমাতার জন্মদিনে দেশবাসীর প্রতি এই দাবি যুবলীগকে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুস সাত্তার মাসুদ, আতাউর রহমান আতা, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। সভা সঞ্চালনা করেন দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান।

