ঢাকাThursday , 4 August 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জামায়াত নিয়ে ‍মুখ খুলে বেকায়দায় এমাজউদ্দীন

Link Copied!

emajuddinনিজস্ব প্রতিবেদক : জামায়াত বিএনপির জন্য আর সম্পদ নয়, তারা বোঝা হয়ে গেছে- এমন বক্তব্য দিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ। এই বুদ্ধিজীবীর বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার পর পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াত, এমনকি বিএনপি নেতারাও।
বিএনপির কোনো পদে নেই এমাজউদ্দীন। তবে গত এক বছরেও বেশি সময় ধরে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের চেয়েও দলের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সরকার পতনের ‘চূড়ান্ত’ আন্দোলনে থাকা বিএনপিকে আন্দোলন থামিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়া নিয়েছেন এমাজউদ্দীনের সঙ্গে কথা বলেই। বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নেবে- এই ঘোষণাটিও দিয়েছেন তিনিই।
আর এই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালিয়েছে এমাজউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে আদর্শ ঢাকা আন্দোলন। এই নির্বাচনের পরও নানা সময় দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এমাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপি নেত্রী। এমাজউদ্দীনও নানা সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের অবস্থানের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এমনকি তিনি এও বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তা দিলে শেখ হাসিনার অধীনেও আগামী সংসদ নির্বাচনে যেতে আপত্তি থাকবে না বিএনপির।
গুলশান ও আশুলিয়ায় জঙ্গি হামলার পর খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়ার পর আবারও আলোচনায় এমাজউদ্দীন আহমেদ। বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করে তিনি ও আরও কয়েকজন বুদ্ধিজীবী জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। জোট নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে সোজাসাপ্টাই সে কথা বললেন এমাজউদ্দীন। এরপর বিএনপির নেতারাও জামায়াত ছাড়া দরকার- এমন কথা বলেছেন। এই অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপির জামায়াত ছাড়ার ইঙ্গিত দেন এমাজউদ্দীন। তিনি বলেন,‘দলটি একটি বোঝায় পরিণত হয়েছে।এটি এখন আর সম্পদ নয়।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,২০ দলের মধ্যে এ দলটিকে আর ওইভাবে রাখার প্রয়োজন নেই।’
বিএনপিতে এমাজউদ্দীনের এই পরিমাণ প্রভাব থাকায় এই বুদ্ধিজীবীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা বা তার কঠোর সমালোচনা করতে পারছেন না বিএনপি নেতারা। তবে নাম প্রকাশ না করে একজন নেতা বলেছেন, তাঁর এভাবে কথা বলা উচিত হয়নি।
এমাজউদ্দীনের এই বক্তব্যের পরদিন সাংবাদিকদের ডেকে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এটা দলের বক্তব্য নয়। এটা এমাজউদ্দীনের ব্যক্তিগত অভিমত।’ জামায়াতও তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এই ইস্যুতে দৃশ্যত বেকায়দায় পড়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন। তার দাবি, গণমাধ্যমে তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের কথা বলিনি। আমার বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। এতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।আমি বলেছি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। এখানে জামায়াত কেনো বিষয় নয়।’
এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসনের বক্তব্য আমি কীভাবে বলবো? আমার বক্তব্যকে কেউ কেউ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। জামায়াতকে জোটে রাখা না রাখা সেটা বিএনপির বিষয়। যদিও অনেকে জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে জামায়াতকে বাধা বলে মনে করছেন।’
বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘স্যারের বক্তব্য মিডিয়াতে আসার পর এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কথা হচ্ছে। কেউ মনে করছে, ম্যাডাম জামায়াতকে জোটের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই তিনি এটা বলেছেন। আবার কারো ধারণা,স্যার না বুঝেই হয়তো কথাগুলো বলেছেন। তবে বিষয়টি পরিষ্কার নয়।’
এমাজউদ্দীনের বক্তব্যের পর জামায়াতের পক্ষ থেকেও একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,‘২০-দলীয় জোট এমাজউদ্দীন সাহেবকে জোটের কোন মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দেয়নি। জোটের পক্ষ থেকে কথা বলার অধিকার তাঁর নেই। তিনি সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূত ও অযাচিত আচরণ করছেন। এর জন্য অবশ্যই তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় জনগণ ধরে নিতে বাধ্য হবে তিনি বিশেষ গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য আলো ও অন্ধকারের খেলায় লিপ্ত রয়েছেন।’
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের বছর জামায়াতের সঙ্গে জোট করে বিএনপি। প্রথমে ওই জোটের নাম চার দলীয় জোট থাকলেও পরে ২০১৫ সালে তা ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়।
তবে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের জোট নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা হয়েছে। সবশেষ জঙ্গি দমনে বিএনপি প্রধানের জাতীয় ঐক্যের আহ্বানের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত থাকার কারণে ঐক্যের ডাকে সাড়া না দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। শুধু তাই নয়,বিএনপির পক্ষ থেকে জোটের বাইরে যেসব রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে তারাও জামায়াত নিয়ে আপত্তি তুলছেন।