নরসিংদী প্রতিনিধি : সাবেক স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১০ সালের ২৮ জুলাই তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
আব্দুল মান্নান ভূইয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্য। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে শুরু করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর মহাসচিবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্র ইউনিয়নের সাথে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তার ছাত্র রাজনীতির যাত্রা শুরু। ১৯৬০ সালে মান্নান ভূঁইয়া নরসিংদী কলেজ ছাত্র সংসদে সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৬৪-৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ছাত্র জীবনেই কারাবরণ করতে হয়েছিল। ছাত্রজীবন শেষে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ এ যোগ দেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যূত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৭৮ সালে ইউনাইটেড পিপলস পার্টির (ইউপিপি) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের আহবানে বিএনপিতে যোগ দেন। দায়িত্ব পান দলের অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহবায়কের। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদকও ছিলেন। ১৯৮৮ সালে তাকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৯৬ সালের ২৫ জুন পর্যন্ত টানা সাড়ে ৮ বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ২৬ জুন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাকে দলের মহাসচিব মনোনীত করেন। টানা ১১ বছর মান্নান ভূঁইয়া বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদ থেকে টানা চারবার নরসিংদী-৩ শিবপুর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
মুক্তিযুদ্ধেও অবদান ছিল তার। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নরসিংদীর শিবপুরসহ বিশাল এলাকা জুড়ে তিনি মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিন অঞ্চলের কমান্ডার ছিলেন তিনি।
আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ মনোহরদী উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের আসাদনগর গ্রামে নানা সৈয়দ আলী পন্ডিতের বাড়িতে। তাঁর পৈতৃক বাড়ি শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামে। শিক্ষা জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির পাশাপাশি তিনি এলএলবি ডিগ্রিও অর্জন করেছিলেন। ব্যক্তি জীবনে মান্নান ভূঁইয়া দুই ছেলের জনক। বড় ছেলে ভূঁইয়া আনিন্দ মোহায়মেন রাজন অস্ট্রেলিয়ায় একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত। ছোট ছেলে ভূঁইয়া নন্দিত নাহিয়ান সজন ব্যাংকার। স্ত্রী অধ্যাপক মরিয়ম বেগম ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসরে যান।
মান্নান ভূঁইয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১০টায় বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শিবপুরের ধানুয়া গ্রামে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শোক র্যালি বের করে। এছাড়া মান্নান ভূইয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শিবপুর আব্দুল মান্নান ভূইয়া আদর্শ বিদ্যাপীঠে কোরআনখানি, এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিকালে শিবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যাল মাঠে আবদুল মান্নান ভূঁইয়া পরিষদে উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
এতে মান্নান ভূঁইয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আলহাজ্ব মোফাজ্জল হোসেন খান সেজু, সদস্য সচিব ও শিবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ উল ইসলাম মৃধা উপস্থিত থাকবেন।

