ঢাকাMonday , 4 July 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটের শঙ্কায় গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা

Link Copied!

Garmentsঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলা ও ১৭ বিদেশি ও ৫ অস্ত্রধারীসহ ২৮ জন নিহতের ঘটনায় রপ্তানি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন দেশে সবচেয়ে বড় রপ্তানিখাত পোশাক শিল্পের মালিকরা। সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কট তৈরির আশঙ্কাও করছেন তারা। এ ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশিদের যে অনাস্থা তৈরি হবে তাকে ইমেজ সঙ্কটে পড়বে দেশ। আর এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগ খাতে।
তাদের মতে, গুলশানের ঘটনা ব্যবসায়ীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। গত কয়েক বছরে রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিদেশি নাগরিক হত্যার মতো ঘটনার পর বিদেশি ক্রেতাদের কাছে আস্থা পেতে নানা ধরনের কাজ করে আসছিল রপ্তানিকারকরা। আবার নতুন করে যোগ হওয়া এই ঘটনায় উদ্যোক্তাদের আবার বাধার মুখে ফেলবে, যা কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লাগবে।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর সঙ্গে। তিনি বলেন, গুলশানের ঘটনা পুরো দেশের জন্যই দুঃখজনক। গত সাড়ে তিন বছর ধরে একের পর এক সমস্যা সমাধান করে রপ্তানিকারকরা ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই একসঙ্গে এতোগুলো বিদেশি নাগরিক হত্যা। এর নেতিবাচক প্রভাব কতটুকু পড়বে, তা এখনো বুঝা যাচ্ছে না। তবে বিদেশি ক্রেতারা আমাদের দেশে আসবে কি না, তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে শঙ্কিত আমরা।
জিম্মি করে একসঙ্গে ১৭ বিদেশিকে হত্যার পরে দেশেই বায়ারদের (বিদেশি ক্রেতারা) সঙ্গে বিজনেস মিটিং করার সুযোগ হবে না। মিটিংগুলো করতে হবে দেশের বাইরে। আর তখন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিজনেস খরচ বেড়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন বিজিএমইএ’র সাবেক এই সভাপতি।
এসব ঘটনায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ আবার বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মনে করেন পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, এ ঘটনায় পোশাক শিল্প খাতের ক্রেতারা বেশ শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। আর এই শঙ্কা কাটাতে কত সময় লাগবে, তা এখনো বুঝা যাচ্ছে না। তবে এর নেতিবাচক প্রভাব একেবারেও কম না বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
শুক্রবার রাতে দেশে যে ঘটনা ঘটলো, এর ক্ষতি পুষিয়ে উঠা অনেক কষ্টকর হবে বলে মনে করছেন বিজিএমইএ সহ-সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পটি রপ্তানিনির্ভর। বায়াররা এ দেশে আসার সময় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকবে। আবার অনেক বায়ার অন্যদেশে পাড়ি জমাতে পারে। ফলে বাংলাদেশ রপ্তানির বড় বাজার হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এই উদ্যোক্তা।
গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে চলছিল পোশাক খাত। এই খাত এখন দেশের জিডিপির ১৩ শতাংশ এবং মোট রপ্তানির ৭৬ শতাংশ অবদান রাখছে। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ছাড়াও তৈরি পোশাক শিল্প সাড়ে ২২ লাখ নারী শ্রমিকের জীবনযাত্রার লক্ষণীয় পরিবর্তন সাধন করেছে।
এদিকে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের যেকোন দেশের নাগরিকরাই প্রথম দেখেন নিরাপত্তা। আর নিরাপত্তার যদি সঙ্কট থাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আসবেন না, এটাই সহজ সমীকরণ। আর এই পরিস্থিতির অবনতি হলে যেসব বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আছেন তারাও চলে যেতে পারেন। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদ।
যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের হতাশার পর সম্প্রতি সুসংবাদ দিয়েছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড ন্যাশনাল কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।
বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছে, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ২০১৫ সালে। ২০১৪ সালে নিট এফডিআই এসেছিল ১৫৩ কোটি ডলার। আর ২০১৫ সালে তা বেড়ে ২২৩ কোটি ডলারে (১৭,৩৯৪ কোটি টাকা) উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে এফডিআই বেড়েছে ৭০ কোটি ডলার। দক্ষিণ এশিয়ায় এই বিনিয়োগ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিতে ভারতকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ।