নিউজ ডেস্ক : ইতিহাসের নন্দিত বিপ্লবী চে গুয়েভারা। আজ ১৪ জুন। ১৯২৮ সালের এ দিনে জন্মেছিলেন তিনি। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। পুরো নাম আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সের্না। তবে তিনি পরিচিত চে গুয়েভারা নামে।
চে একাধারে ছিলেন মার্কসবাদী বিপ্লবী, চিকিৎসক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ ও সামরিক তত্ত্ববিদ। তিনি ছিলেন কিউবা বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব। টাইম পত্রিকার বিংশ শতাব্দীর সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তির তালিকায় ছিল চে গুয়েভারার নাম।
খুব শৈশব থেকেই সমাজের বঞ্চিত, অসহায়, দরিদ্রদের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হয় তার ভেতরে। সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে খুব অল্প বয়সেই তিনি রাজনীতি সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান লাভ করেন।
চে গুয়েভারা আর্জেন্টিনায় জন্মালেও বিপ্লব করেন কিউবায়। আর বিপ্লবের মধ্য দিয়েই মৃত্যুবরণ করেন বলিভিয়াতে। তিনি জীবিত থাকাকালে সমগ্র পৃথিবীকে প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পরও সমগ্র পৃথিবী আলোড়িত হয়েছে। বিপ্লব, বিদ্রোহ আর চে সমার্থক।
মৃত্যুর পর এ যাবৎ তার জীবন ইতিহাস নিয়ে পৃথিবীর প্রায় সবগুলো প্রধান প্রধান ভাষায় অসংখ্য বই লেখা হয়েছে। গবেষণা হয়েছে। এখনও তা অব্যাহত।
১৯৪৭ সালে চে গুয়েভারা বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রে অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন। এরপর তিনি সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকা ভ্রমণ করে শোষক ও শোষিত মানুষের মধ্যকার শোষণ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের ইচ্ছা পোষণ করেন। ১৯৫০ সালে হঠাৎ করে তিনি একটি তেল ট্যাঙ্কারে খালাসির চাকরি নিয়ে ত্রিনিদাদ ও ব্রিটিশ গায়ানা ভ্রমণ করেন। তারপর ১৯৫১ সালে বন্ধু আলবার্তো গ্রানাদাসহ ঐতিহাসিক মোটরসাইকেল ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়েন।
চে গুয়েভারা ভ্রমণের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও খুঁটিনাটি সব কিছুই ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। পরবর্তীতে ‘দ্য মোটরসাইকেল ডায়েরিস’ নামে তার একটি বই প্রকাশিত হয়। বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
১৯৫৫ সালের জুলাই মাসে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সাথে চে’র পরিচয় হয়। আর সেই পরিচয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন তার ছোটভাই রাউল ক্যাস্ত্রো। এরপর স্পেনীয় সেনাবাহিনীর একজন প্রাক্তন কর্নেল আলবার্তো বেয়োর কাছে গোপনে মেক্সিকোতেই গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু করেন। চে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণে অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।
তার বিপ্লবী জীবন বর্ণিল। ১৯৬৬ সালের ৭ নভেম্বর বলিভিয়ার নানকাহুয়াসু গেরিলা ঘাঁটিতে পৌঁছান চে। ১৯৬৭ সালের ২৩ মার্চ চে’র নেতৃতাধীন গেরিলা বাহিনী নিজেদের চিহ্নিত করে ‘বলিভিয়ার জাতীয় মুক্তিফৌজ’ নামে। ৮ অক্টোবর কেব্রাদা দেল ইউরোর যুদ্ধে গুরুতর আহত ও নিরস্ত্র অবস্থায় বন্দি হন চে। তাকে বন্দি অবস্থায় হিগুয়েরা গ্রামের সাধারণ স্কুল বাড়িতে ফেলে রাখা হয়। ৯ অক্টোবর দুপুরে এই মহান বিপ্লবী নেতাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মানুষের দৈনন্দিন জীবনে, প্রতিবাদে ও সংগ্রামের রক্তধারায় মিশে আছেন চে। শুধু লাতিন আমেরিকা নয়, বিশ্বের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের বিদ্রোহের সহযাত্রী আর্নেস্তো চে গুয়েভারা। জয়তু হে বিপ্লবী।

