ঢাকাTuesday , 24 May 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পোল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ, নিশ্চিত চাকরি

Link Copied!

polandনিউজ ডেস্ক : পূর্ব ইউরোপের সমৃদ্ধশালী দেশ পোল্যান্ডের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের এন্টি-মাইগ্রেশন পলিসি সত্ত্বেও দেশটিতে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ করে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে যারা তুলনামূলক কম খরচে পোল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন সাবজেক্টে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করতে আগ্রহী, চলমান সুযোগ তাদেরকে কাজে লাগাবার আহ্বান জানিয়েছেন ওয়ারশতে দায়িত্বরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান।
সুযোগের অপব্যবহার না করে উচ্চশিক্ষা সম্পন্নের পর বাংলাদেশে ফিরে গেলে ভালো চাকরির বাজারে তাদের হতাশ হতে হবে না বলে জানান এই কূটনীতিক।
পোল্যান্ডে বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং সাম্প্রতিককালে ক্ষমতার পালাবদলের পর সরকারের মাইগ্রেশন বিরোধী চলমান পলিসি নিয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলছিলেন রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘পোল্যান্ডে বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষার যথেষ্ট ভালো সুযোগ আছে দু’টো কারণে। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেকগুলো সাবজেক্ট আছে যা তারা এখন পর্যন্ত ইংরেজিতে পড়ায়। যে সমস্ত সাবজেক্ট বাংলাদেশে নেই বা সহজলভ্য নয়, বিশেষ করে বেশ কিছু টেকনিক্যাল সাবজেক্ট আছে যার সুযোগ নিতে পারে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে পড়ার খরচও কম। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করলে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা যারা লেখাপড়ায় আগ্রহী, তাদের জন্য আমি মনে করি পোল্যান্ড হতে পারে খুব সুবিধাজনক একটি অপশন বা একটি ভালো বিকল্প।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সমস্যা যেটা হয়তো কিছুটা হতে পারে তা হচ্ছে এদেশের বর্তমান সরকারের এন্টি-মাইগ্রেশন পলিসি। এর ফলে তাদের ভিসা পলিসি কিছুটা জটিল হলেও হতে পারে, যদিও তারা বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের নিরুৎসাহিত করছে না। পোলিশ সরকার অদূর ভবিষ্যতে যখন তাদের দূতাবাস ঢাকায় স্থাপন করবে, তখন হয়তো এই সমস্যাটা বেশ লাঘব হবে।
‘আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমি এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং তাদেরকে উৎসাহিত করছি বাংলাদেশ থেকে ছাত্র-ছাত্রী আনার জন্য। আশার কথা হচ্ছে, এখানকার বিশ্ববিদ্যালয় সবগুলোই এ ব্যাপারে আগ্রহী শুধু নয়, বলা চলে অতিমাত্রায় আগ্রহী। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে আমার মাধ্যমে ঢাকায় যোগাযোগ করেছে কীভাবে ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহ করা যায়। প্রয়োজনীয় বিষয়াদি তারা খতিয়ে দেখছে। বাংলাদেশ থেকে নতুন নতুন বেশ কিছু শিক্ষার্থী বর্তমানে আসছেও।’
রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমি সবাইকে যে বিষয়টি উৎসাহিত করতে চাই সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা টেকনিক্যাল সাবজেক্টগুলোতে আসলে প্রথমত তারা তাদের যে প্রতিভা সেটা দেখাতে পারার পাশাপাশি নতুন কিছু জিনিস শিখতে পারবে এবং সেই শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে সহজেই ফেরতও যেতে পারবে। পোল্যান্ড থেকে অর্জিত এই শিক্ষার কারণে বাংলাদেশে তাদের জন্য চাকরির বাজার তৈরি থাকবে বেশ পজিটিভলি।’
তবে পোল্যান্ডে যারা উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে আসছে বা আসবে তাদেরকে কিছু কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকারও প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে সরকার এখানে ক্ষমতায় আছে তারা তাদের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের মধ্যেই একটা পয়েন্ট রেখেছিল এবং সেটা ছিল এন্টি-মাইগ্রেশন। এমনকি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একসময় পোল্যান্ডকে যে কোটা বেঁধে দিয়েছিল এবং যেটা তারা স্বীকারও করেছিল যে ওই কোটা গ্রহণ করবে, সেটাও এখন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিনাই করে যাচ্ছে।’
রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান জানান, ‘শুধুমাত্র এখানকার সরকারই নয়, আমি দেখি যে, পোলিশ সোসাইটিও কোনো কারণে ঠিক এই মুহূর্তে এক্সট্রিমলি এগেইনস্ট মাইগ্রেশন তথা মারাত্মকভাবে মাইগ্রেশন বিরোধী। সুতরাং আমি মনে করি, পোলিশ সোসাইটির জন্য এখন আসলেই একটা সেনসেটিভ সময় মাইগ্রেশন ইস্যুতে পজিটিভ কোনো কথা বলা। আমি এটাও বুঝতে পারছি যে, মাইগ্রেশনটাকে এরা কালচারাল ইস্যু হিসেবেই দেখে প্রধানত। এখানে এটাকে তারা ঠিক ইকোনমিক ইস্যু হিসেবে দেখে না। সঙ্গত কারণে পোলিশরা বিষয়টিকে কালচারালি রিজেক্ট করছে এবং এটা তারা ঐতিহাসিকভাবেই করে আসছে।
‘পোল্যান্ডে বিদেশি জনগোষ্ঠীর মধ্যে কিছু ভিয়েতনামিজ আছে। অন্য কোনো দেশের লোকজন কিন্তু খুব একটা নেই, এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলোর লোকজনও এখানে প্রায় অনুপস্থিত। ইউক্রেনের সঙ্গে এখন তাদের সম্পর্ক অনেক ভালো হওয়ার পরেও ইউক্রেনিয়ানদেরকেও কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা মাইগ্রেশন সুবিধা দিচ্ছে না।’
বাংলাদেশের ভাবমূর্তির স্বার্থেই স্পর্শকাতর বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন পেশাদার কূটনীতিক মাহফুজুর রহমান। একই ইস্যুতে মাইগ্রেশন এক্সপার্টদের পরামর্শ হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে যারা সত্যিকার অর্থেই পড়াশোনা করতে পোল্যান্ডে আসতে ইচ্ছুক, তারা যাতে দেশ-বিদেশের কোনো দালাল চক্রের শরণাপন্ন না হয়ে নিজ দায়িত্বে তথা স্বীয় উদ্যোগেই এখানে আসে। পড়াশোনা শেষে যথাসময়ে বাংলাদেশে ফিরে যাবার মানসিক প্রস্তুতি এক্ষেত্রে একদিকে যেমন তাদের উচ্চশিক্ষায় সহায়ক হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের যে কোনো সম্ভাব্য হতাশা থেকেও দূরে রাখবে।
বিগত বছরগুলোতে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইডেনে আসা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি ভুয়া শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে হতাশার সাগরে ভেসেছে। বিষয়টি ইউরোপের সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সরকার তথা মাইগ্রেশন অথরিটির কাছেও ইতোমধ্যে খোলাসা হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপের কোনো দেশেই যেহেতু ইকোনমিক মাইগ্রেশনের সুযোগ নেই, তাই ‍উচ্চশিক্ষার জন্য শুধুমাত্র জেনুইন শিক্ষার্থীরা ইউরোপমুখী হলে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।