ঢাকাMonday , 23 May 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আম পাড়ার সময় বেঁধে দেয়ায় শঙ্কায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীরা

Link Copied!

Mango
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবারো প্রশাসন বাগান থেকে আম পাড়ার সময় বেঁধে দেয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এতে করে হয়রানির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, অপরিপক্ক আম কেমিকেল দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত রোধে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার আমের ব্যবসা করার জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে জেলার আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাজদার রহমান জানান, চলতি বছর জেলার ৫টি উপজেলায় ২৪ হাজার ৪শ ৭০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। আর প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে জেলায় এবার ২ লাখ ২০ হাজার মে. টন আম উৎপাদিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ বছর জেলার প্রায় প্রতিটি আমবাগানে প্রচুর মুকুল আসলেও মেঘলা আবহাওয়া ও পরাগায়ণ না হওয়ায় আমের গুটি কম আসে। তারপরও এপ্রিলের ১ম সপ্তাহে শিলাবৃষ্টি এবং অব্যাহত তাপদাহে এবার আমের ফলনে বড় বিপর্যয় নেমে আসে।
তিনি আরো জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় বড় আমবাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে গোপালভোগ, খিরসাপাত, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া, মোহনভোগ, আম্রপলি, ফজলি, সুরমা ফজলি, রানী পচ্ছন্দ, বৌ-ভুলানীসহ বিভিন্ন বাহারি জাতের সুস্বাদু আম।
আম গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন জানান, আবহাওয়ার তারতম্য এবং পরাগায়ণ না হওয়ার এবার আমের গুটি কম আসে। ফলে এবার যেসব গাছে আম এসেছে, সেসব গাছে আরো বাতাসের কারণে আমের ওজন ও সাইজ ভালো হবে। পাশাপাশি আমচাষীরা গত বছর ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আমের দাম ভালো পেয়েছিল। এবার অনেক আমচাষীরা এই ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। কেননা ফ্রুট ব্যাগ পদ্ধতির বেশিরভাগ আম ইউরোপসহ ইংল্যান্ডে রপ্তানি হয়েছিল।
তারপরও ২০১৪ সালে হরতাল, অবরোধ এবং গত বছর প্রশাসনের আম পাড়ার সময় বেঁধে দিয়েছিল। এ কারণে গাছেই আম পেকে নষ্ট এবং একসঙ্গে বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক লোকসানের শিকার হয়েছিল।
ছত্রাজিতপুরের আমচাষী একরামুল হক জানান, প্রাকৃতিক ফল আম আর প্রাকৃতিক নিয়মে আম পাকে। নদীর স্রোতকে যেমন আটকিয়ে রাখা যায় না, তেমনি আম কখন পাকবে তা সময় নির্ধারণ করা যায় না। তাই গতবারের মতো এবারো তারা আম বাজারজাতকরণে প্রশাসনের হয়রানি এবং ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করছেন।
ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চুটু জানান, এ বছর আমের ফলন অনেক কম। তারপর কিছু আগাম গুটি জাতের আম পাকতে শুরু করেছে। চাষী এবং ব্যবসায়ীরা আম বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি হিসেবে আড়তের ঘর মেরামত, ডালিসহ উপকরণ মজুদ করা শুরু করেছে। তবে, এবারের আমের ফলন কম হওয়ার সুযোগে ভারতীয় আমের আমদানি হতে পারে। তিনি গত ২ বছরের আম ব্যবসায়ীদের ক্ষতির দিক বিবেচনা করে এবার ভারত থেকে আম আমদানি বন্ধ রাখার দাবি করেন।
জেলার সবচেয়  বড় আমের বাজার কানসাটে আম আড়ৎদার সমিতির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান জানান, জেলায় এ বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার আম ব্যবসার প্রস্তুতি নিচ্ছে আম সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানের আমের ব্যাপারীরা আগের বকেয়া পরিশোধ করে জেলার কানসাট, শিবগঞ্জ, ভোলাহাটের আম ফাউন্ডেশন, রহনপুর, মল্লিকপুর, সদরঘাট আমবাজারের আড়তগুলোতে ব্যাপারীদের আগমন ঘটতে শুরু করেছে। আগামী ২৫ মে থেকে আগামজাতের গোপালভোগসহ গুটি আম দেশের বিভন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য অর্ডার শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন ব্যাংক, কুরিয়ার সার্ভিস, আবাসিক ও খাবার হোটেল মালিকরা আম ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে তাদের সেবা দেয়ার জন্য বড় বড় আমবাজার এবং আড়তে যাওয়া আসা শুরু করেছে। এ সময় জেলার অর্থনৈতিক অবস্থা চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি প্রায় দেড় লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কানসাটের আম ব্যবসায়ী পাভেল জানান, এ জেলার আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা বাপ-দাদার আমল থেকে সৎভাবে আমের ব্যবসা করে আসছে। এ অঞ্চলের আমচাষীরা কোনোদিনই আমে কার্বাইড বা ফরমালিন মেশায় না। এক্ষেত্রে এ জেলার আম নিয়ে গিয়ে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী মিশালে মেশাতে পারে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, জেলার সুস্বাদু আমের ঐতিহ্য এবং সম্মান ধরে রাখার জন্য অপরিপক্ক আম পেরে যাতে কেমিক্যাল দিয়ে আম পাকাতে না পারে, সেজন্য সকলের মতামতের ভিত্তিতে আগামী ২৫ মে গোপালভোগসহ গুটিজাত, ১ জুন হিমসাগর/খিরসাপাত, লক্ষনভোগ, ১০ জুন ল্যাংড়া ও বোম্বাই, ২৫ জুন ফজলি, ১ জুলাই আম্রপলি ও ১৫ জুলাই আশ্বিনা আম বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ সময়ের আগে যাতে কেউ আম পাড়লে মনিটরিং কমিটি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া, মৌসুমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, পিজিআর, ফরমালিন, ইভাফনের মাধ্যমে আম পাকানো বন্ধকরণে হাট-বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উদ্বুদ্ধকরণসভা, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় থাকবে।
তিনি আরো জানান, গত বছরের চেয়ে এবার ৭ দিন সময় এগিয়ে নেয়ায় আমচাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভোক্তাদের বিষমুক্ত আম খাবারের লক্ষে এ সিদ্ধান্ত অনেকেই মেনে নেবেন বলে মনে করেন তিনি।