নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার পরবর্তী তারিখে (২ জুন) আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাজধানীর বকশি বাজারস্থ আলীয়া মাদ্রাসার মাঠে অস্থায়ী তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার খালেদার আইনজীবীদের উদ্দেশে এ নির্দেশ দেন।
এদিকে মামলার কার্যক্রমের শুরুতে আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে হাজিরা দেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। এ সময় তিনি আদালতকে খালেদা জিয়া অসুস্থতার বিষয়ে অবহিত করে তার পক্ষে দুটি আবেদন করেন। আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।
পরে আবেদনের শুনানি শেষ হলে আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ২ জুন নির্ধারণ করেন এবং ওই তারিখে খালেদাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। গত ৭ মে থেকে এ পর্যন্ত ৫ বার খালেদার উপস্থিতির সময় পেছাল।
উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন— খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামি মোট ছয়জন। খালেদা ছাড়া অন্য পাঁচজন হচ্ছেন— বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
দুদকের এ দুই মামলায় এর আগে সাক্ষী হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নওশাদ মোহাম্মদের জেরা শেষ হয়। এ সময় মামলায় অন্য দুই সাক্ষী আমিরুল ইসলাম, কাস্টমার সার্ভিসেস ম্যানেজার অলোক কান্তি চক্রবর্তীকেও খালেদার পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক খান।
এ ছাড়াও এ মামলায় এখন পর্যন্ত চার সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এসব সাক্ষী হলেন— শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. মামুনুজ্জামান, সোনালী ব্যাংক ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট শাখার ক্যাশ অফিসার ওয়ালিদ আহমেদ, মেট্রো মেকার্স কর্মকর্তা চৌধুরী এম এন আলম ও মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের সাবেক সিনিয়র অফিসার সাইফুল আলম।
এর আগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
আর এ দুই মামলার বাদী হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান।

