রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর সভায় স্ত্রী, শ্যালিকা, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে নাজমুল হক (৩৫) নামে এক জামাতা। পরে স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৩টার দিকে রায়পুর পৌর শহরের আব্বাস আলী সড়কের একটি বিউটি পার্লারে ও ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- নাজমুল হকের স্ত্রী মহিমা আক্তার স্বপ্না (২৪), শ্যালিকা সুফতা জান্নাত পলি আক্তার (২৩), শাশুড়ি অঙ্গুরের ছেনা (৫০), শ্বশুর মহি উদ্দিন বাবর (৬০) ও বিউটি পার্লারের কর্মচারী নাজমুনাহার (২৫)।
আহতদের প্রথমে রায়পুরের সরকারি হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে লক্ষ্মীপুর সদর ও নোয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে মহিউদ্দিন বাবরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ডাক্তার।
স্থানীয়রা জানান, ৭ বছর আগে বরিশালের বাসিন্দা আবদুস সাত্তার হাওলাদারের ছেলে নাজমুলের সঙ্গে মহিমা আক্তার স্বপ্নার বিয়ে হয়। বিয়ের পরে নাজমুলের আর্থিক সহযোগিতায় স্ত্রী ও শ্যালিকা পলি ‘স্বপ্ন বিউটি পার্লার’ নামে একটি পার্লার ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে বিরোধ দেখা দিলে স্বামীকে গত বছর তালাক দেন স্বপ্না।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে নাজমুল তার ছেলেকে নিয়ে যেতে ও তার বিউটি পার্লার খোলার টাকা ফেরত চান মোবাইল ফোনে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই বিউটি পার্লারের পেছন দিয়ে উঠে বাসার ভিতরে প্রবেশ করে নাজমুল দা দিয়ে কুপিয়ে পরিবারের সবাইকে জখম করেন। এ সময় চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে নাজমুলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, এ ঘটনায় অঙ্গুরের ছেনা বাদী হয়ে জামাতা নাজমুলকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত ও ৭ থেকে ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় নাজমুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে ও মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও র্যাব পরিদর্শন করেছেন।

