নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে সবাইকে নিয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুটি শাখার নব-নির্বাচিত নেতারা।
সোমবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের নব-নির্বাচিত নেতারা এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং ড. আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।
নব-নির্বাচিত কমিটির নেতারা উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মহানগর উত্তরের নব-নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এরপর উত্তরের নব-নির্বাচিত থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এরপর দক্ষিণের অন্তর্গত থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
নব-নির্বাচিত কমিটির নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়। এমনকি উত্তরের নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানও এই হুড়োহুড়ির শিকার হন। সামনে আসা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলিতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এমনকি আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপও ঠেলাঠেলির মধ্যে পড়েন।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গঠিত আওয়ামী লীগ আমাকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি মনোনীত করেছে।
আজকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছেন। বঙ্গবন্ধু এদেশের স্বাধীনতার জন্য, গরীব-দুঃখী ও ভুখা মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আজীবন রাজনীতি করে গেছেন। আজ তারই কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশকে পরিচালনা করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের অথনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন সাধন করছে।
আমরা এই নেতৃত্বের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে, রাজধানীর সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাবো। আর এটাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ইউনিটি বা ঐক্যে বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ গ্রুপিংয়ে বিশ্বাস করে না। আমরা গ্রুপিং করব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এবং আমার সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মিলে যারা এদেশের সুশীল সমাজ, নাগরিক সমাজ, মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে নিয়ে দলের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাব।
কারণ জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের ভিশন হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমরা সেই লক্ষ্যেই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে সাজিয়ে তুলব।’
নব-নির্বাচিত নেতা হিসেবে আপনারা সামনে সাংগঠনিকভাবে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন- এ প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত বলেন, আমরা আমাদের সামনে বর্তমানে কোন চ্যালেঞ্জ দেখছি না। আজকে আমরা সবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। আমরা সংগঠনকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাব। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে আমরা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ও ড. আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে এই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ (দক্ষিণ) অতীতের ঐতিহ্য ও গৌরব সমুন্নত রেখে গৌরবোজ্জল ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি-জামায়াত এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীসহ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যা আছে সেই অপশক্তিকে ঠেকানোর জন্য আমরা সংগঠনকে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী করব দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’
রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বিভক্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মনোনীত হয়েছেন লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। মহানগর উত্তরের সভাপতি মনোনীত হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেক খান।
পাশাপাশি একই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করেন সৈয়দ আশরাফ।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে উত্তর ও দক্ষিণে দুই ভাগে বিভক্ত করে প্রায় ১৩ বছর পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এই শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা হয়। ২০০৩ সালের ১৮ জুন সম্মেলনে ঢাকার প্রাক্তন মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফকে সভাপতি ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুর পর ওমর আলী ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পেলেও ১/১১`র প্রেক্ষাপটে এমএ আজিজ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। গত ২৩ জানুয়ারি এমএ আজিজের মৃত্যুর পরে সভাপতি পদটি শূন্য হয়ে যায়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরপরই সংগঠনকে গতিশীল করতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয়। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরে উত্তরে কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং দক্ষিণে ড. আব্দুর রাজ্জাককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল নগরের কমিটি সমন্বয় করতে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকম-লীর এই দুই সদস্য ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত দুই প্রার্থীর নির্বাচনী সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন। দায়িত্ব নিয়ে তারা দুই ভাগে নগরীর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি এবং থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির খসড়া তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেন গত সেপ্টেম্বরে।

