ঢাকাWednesday , 23 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রচারণায় পিছিয়ে আ. লীগ, কৌশলী বিএনপি

Link Copied!

electionসিলেট প্রতিনিধি : সারা দেশে এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতি অঙ্গনে চলছে প্রতিযোগিতা। দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে নিজ দলের শীর্ষ নেতারা। বসে নেই তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারাও দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দিন-রাত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভিন্ন চিত্র সিলেটে। বিএনপির তুলনায় প্রচারণায় পিছিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
সিলেটের তিনটি পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতা থেকে তৃণমূল নেতারা। তবে সিলেটের আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পাশে শুধু তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সিলেট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা তো দূরের কথা, জেলা ও মহানগর শীর্ষ কোনো নেতাকে দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে প্রচারণা করতে দেখা যায়নি।
এবারের পৌর নির্বাচনে সিলেটের ৩টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মেয়র পদে গোলাপগঞ্জ, কানাইরঘাট ও জকিগঞ্জে ২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গোলাপগঞ্জে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু। সেখানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া শাহীন। ওই পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী শাহীনের পক্ষে জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতা থেকে তৃনণমূল নেতারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপরদিকে পাপলু রয়েছেন বিপাকে। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের আরো দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এক্ষেত্রে দলীয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চলাতে গিয়ে পাপলু হিমশিম খাচ্ছেন। ওই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল জব্বার ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাবেল।
এ ছাড়া খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র থেকে একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। তারাও দলীয়ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সিলেট জকিগঞ্জেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। ওই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিন।
এ ছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে খলিল উদ্দিন দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে পাচ্ছেন না। দলের কিছু নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদের সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তাই ওই পৌরসভায়ও বিএনপির প্রার্থী বদরুল হক বাদল অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
ওই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীদের পাশাপাশি আঞ্জুমানে আল ইসলাম নেতা মাওলানা হিফজুর রহমানও শক্ত অবস্থানে থেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কানাইঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে প্রচারণায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান নৌকা প্রতীকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল মিজানও ভোটের জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে ওই পৌরসভায় জামায়াতের প্রার্থী অলিউল্লাহ থাকার কারণে বিএনপি প্রার্থী অনেকটা বিপাকে রয়েছেন।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে,  সিলেটের গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে গত পৌরসভা নির্বাচনে বিভেদ থাকলেও এবার তিন পৌরসভার সবকটিতে একক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থীরা খুব একটা আলোচনা তৈরি করতে না পারলেও বসে নেই দলীয় নেতাকর্মীরা। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তারা রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন।
নেতাকর্মীদের প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রাখতে ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি এবার মাঠে নেমেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষ নেতারা। গত কয়েকদিন ধরে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ‘নিখোঁজ’ এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, কেন্দ্রীয় নেত্রী শাম্মী আক্তার, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমদসহ জেলা শাখার একটি প্রতিনিধি দল।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আহমদ বলেন, ‘আমরা আমাদের দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারের কাছে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতা থেকে তৃণমূল নেতারা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করে যাচ্ছেন।’ শেষ পর্যন্ত এভাবে প্রচারণা চালাতে পারলে বিজয় নিশ্চিত হবে বলে আশা বিএনপির ওই নেতার।
বিএনপি নেতারা প্রচারণায় ঘাম ঝরালেও পিছিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। এখন পর্যন্ত কেবলমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে। অন্য কোনো নেতাকে মাঠে নামতে দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান বলেন, ‘দলের শীর্ষ সব নেতাদের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
তবে নির্বাচনে কেন্দ্রীয় কোন নেতা নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় অংশ নেবেন কি না তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।