নীলফামারী প্রতিনিধি : মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রচারণার ডামাডোলে ভাসছে নীলফামারীর জলঢাকা পৌর এলাকা। পুরো পৌর এলাকা প্রার্থীদের পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা নানামুখী উন্নয়ন ও সমস্য সমাধানের বার্তা নিয়ে ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। এ প্রচারণা চলছে গভীর রাত পর্যন্ত।
নৌকা প্রতীকে ভোট দিলে এলাকার হবে উন্নয়ন, সুযোগ সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের। বাড়বে নাগরিক সুবিধা। ভোটারদের এভাবেই প্রভাবিত করে ভোট প্রার্থনা করছেন সরকার দলীয় প্রার্থী। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা, ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা, ব্যালট ছিনতাই হবে কিনা এমনকি গ্রেপ্তার আতঙ্ক নিয়েও নানামুখী আশঙ্কা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন অন্য প্রার্থীরা।
জলঢাকা পৌর এলাকার পাড়া মহল্লায় প্রার্থীরা হাতে লিফলেট নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। ভোটরদের কাছ থেকে মাথায় বুলিয়ে নিয়ে চেয়ে নিচ্ছেন দোয়া। অনেক ভোটার হাসি মুখে দোয়া দিচ্ছেন আবার দোয়া দেয়ার সময় অনেক ভোটারের মুখে নেই হাসি। অবস্থা দেখে মনে দোয়া দিয়ে হয় তাই দিচ্ছে। তবে সব প্রার্থীই বিজয় নিশ্চিত বলে আশা করছেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর নৌকা প্রতীক নিয়ে ছুটছেন ভোটারের বাড়ি বাড়ি। নৌকায় ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করলে জলঢাকা পৌরসভাকে করা হবে মডেল পৌরসভা। উন্নয়ন করা হবে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ হাটবাজারের। করা হবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা।
বিএনপি প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সল চৌধুরী কমেট ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থনা করছেন ভোট। তবে নির্বাচন কতটুকু অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এ আশঙ্কা তাকে সারাক্ষণ তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। তার কর্মীদের গ্রেপ্তার আতঙ্ক নিয়ে তিনি বড্ড চিন্তিত।
তিনি বলেছেন, ‘দল তার হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়েছে। জলঢাকা পৌরবাসীসহ দলের নেতাকর্মীরা আমার পাশে রয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেছি। অনেক কর্মী নিজের পয়সায় ভোটারদের পা-পান খাওয়াচ্ছেন। এমনকি আমাকে যারা ভালবাসেন তারাও এ কাজটি করছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত।’
নৌকা প্রতীক পাওয়ার আশায় জাতীয় পার্টি থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া বর্তমান মেয়র ইলিয়াস হোসেন বাবলু নারিকেল গাছ নিয়ে প্রার্থনা করছেন ভোট। তার মেয়াদে তিনি জলঢাকা পৌর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। শালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেছেন অনেক মামলা মোকদ্দোমা। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে তার প্রতীকে ভোট দেয়ার দাবি করছেন ভোটারদের কাছে। বিগত দিনের উন্নয়নের কারনে ভোটারদের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। এবারও পৌরবাসী তাকে নির্বাচিত করবেন বলে তিনি জানালেন।
লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পর্টির শাহ আব্দুল কাদের চৌধুরী বুলু ঝুলিয়ে দিয়েছেন পোস্টারের মালা। তবে তার প্রচারণা চলছে ধিমেতালে। তার কর্মী বাহিনী অনেকটাই দুর্বল। তবে তিনি বলেছেন লাঙ্গলে ভোট দিলে অবহেলিত জলঢাকা পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভায় রুপান্তরিত করা হবে।
অপর দু’প্রার্থী জামায়াতের মকবুল হোসেন জগ প্রতীক ও বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের শরিফুল ইসলাম পাখা প্রতীকের পোস্টার টানিয়ে দিলেও নেই তেমন প্রচারণা। মাঝে মধ্যে ভোটারদের বাড়ি গিয়ে তাদের প্রতীকে ভোট দেয়ার কথা বলছেন। তারা বলেছেন ভোটাররা সৎ যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে তাদেরই দিবে।
বসে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তাদের নির্বাচনী এলাকার আয়তন কম হলেও প্রচার প্রচারনা চলছে জোড়েসোড়ে। বিশেষ করে তাদের প্রচারণার দৌড়ে অনেকটাই অতিষ্ট ভোটাররা। ইতোমধ্যে একেকজন ভোটারের কাছে তারা ৪/৫ বার পর্যন্ত গিয়ে নিয়েছেন দোয়া চেয়েছেন ভোট।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাচন অফিসার সেকেন্দার আলী বলেন, মেয়র পদে ৬জন, কাউন্সিলর পদে ৪৪ জন ও সংরক্ষিত আসনে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীন সদস্যরা। প্রার্থীদের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

