ঢাকাMonday , 14 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৃত্তিকা সম্পর্কিত সেবা পাবেন বিলুপ্ত দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলের কৃষকরা

Link Copied!

কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মকবুল হোসেন। পাশে উপবিষ্ট অন্যান্য অতিথিবৃন্দ

কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মকবুল হোসেন। পাশে উপবিষ্ট অন্যান্য অতিথিবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ৬৮ বছরের প্রতীক্ষার পর আত্মপরিচয় খুঁজে পেয়েছেন ছিটমহলের বাসিন্দারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিলুপ্ত এই ছিটমহলগুলোর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারি বিভিন্ন সংস্থাগুলোও দেশের এই নতুন নাগরিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ছিটমহলে কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)’র মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কৃষক সেবা (এসএমএফএস) প্রকল্পের  উদ্যোগে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় বিলুপ্ত দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলে কৃষকদের বিভিন্ন সেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল দাসিয়ার ছড়া সফর করেছেন। সফরকালে আয়োজিত কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুড়িগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মো. শওকত আলী সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মকবুল হোসেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন এসআরডিআই’র রংপুর জেলা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বেগম সামিয়া সুলতানা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে এসএমএফএস প্রকল্পের মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন অফিসার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ফুলবাড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাহবুবুর রশীদ, এসআরডিআই’র রংপুর জেলা কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ আহসান রেজা চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সেকান্দার আলীসহ অনেক কৃষক-কৃষাণি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কৃষক-কৃষাণিদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনয়নের পূর্বশর্ত কৃষিকাজে আধুনিক ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে মৃত্তিকার গুণাগুণ ও স্বাস্থ্যরক্ষার উপর জোর দেয়া হয়। এছাড়া, শস্য বিন্যাস, মৃত্তিকার গুরুত্ব,  স্বাস্থ্য সুরক্ষা, অবস্থা ও গুণাগুণ পরীক্ষা করে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রদান করেন প্রশিক্ষকরা। এ সময় মৃত্তিকার নমুনা সংগ্রহ করে কোথায় ও কিভাবে পরীক্ষা করাতে হবে সে বিষয়েও কৃষকদের ধারণা দেয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মকবুল হোসেন দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক দূরদর্শিতায় ছিটমহলের মানুষেরা আত্মপরিচয় খুঁজে পেয়েছেন, তারা আমাদের দেশের নতুন নাগরিক। দাসিয়ার ছড়াসহ সব ছিটমহলে কৃষকদের আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদের কৌশল সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে তাদের হাতে নতুন কৃষি প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে হবে, সুষম মাত্রার সার ব্যবহার করে অধিক ফলন ঘরে তোলার বিষয়টিও তাদের জানাতে হবে। এ জন্য এই এলাকার মৃত্তিকার ধরণ ও গুণাগুণ নির্ণয় কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং এর উপর ভিত্তি করে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকরা বিভিন্ন সেবা পাবেন। এ সময় তিনি জানান, ছিটমহলগুলোর মৃত্তিকা মানচিত্রে অন্তর্ভুক্তকরণ এবং কৃষি নির্দেশিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে দাসিয়ার ছড়ার মৃত্তিকা সার্ভে করেছি। এখানকার সংগৃহিত নমুনা এসআরডিআই’র গবেষণাগারে নিরীক্ষার পর অতি দ্রুত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এ ছাড়া এই এলাকাগুলো অনলাইন ফার্টিলাইজার ডাটাবেইজে যুক্ত হলে কৃষকরা আরো উপকৃত হবেন বলে জানান মো. মকবুল হোসেন।