ঢাকাSunday , 13 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনড় চিন্তিত আওয়ামী লীগ

Link Copied!

A.Legue_নিজস্ব প্রতিবেদক : পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আড়ালে আওয়ামী লীগের শতাধিক বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন। কেন্দ্র থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিলেও তেমন কোনো সাড়া মিলছে না। দলের কঠোর অবস্থান ও চাপে কয়েকজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও পুরোপুরি বশে আনতে পারেননি। বেশির ভাগ পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীর চেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে থাকায় তারা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক তৎপর রয়েছেন। দলের প্রার্থীদের জয়-পরাজয় অনেকাংশে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপরই নির্ভর করছে। কিন্তু মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে তাদের দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে দলটির হাইকমান্ড। এ দিকে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, অর্ধেক বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন পৌরসভায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি দলের পক্ষ থেকে।
একাধিক বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর সাথে আলাপকালে জানা গেছে, তৃণমূলের জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই না করেই প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। আবার দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাদের বেশির ভাগ মন্ত্রী-এমপিদের আশীর্বাদপুষ্ট। তবে কিছু কিছু পৌরসভায় বর্তমান মেয়রদের উপেক্ষা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকায় যোগ্য, দক্ষ ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের বাদ দিয়ে ভুল প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ফলে বহিষ্কার নিয়ে ভাবছেন না প্রার্থীরা। আপাতত নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নড়াইলের কালিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ওয়াহিদুজ্জামান হীরা। তার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন পৌরসভার বর্তমান মেয়র বি এম ইমদাদুল হক টুলু, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী সোহেলী পারভীন, আওয়ামী লীগ নেতা ফকির মুশফিকুর রহমান লিটন ও শেখ লায়েক হোসেন। তারা সবাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে টিকে থাকতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বর্তমান মেয়র বি এম ইমদাদুল হক টুলু  বলেন, বহিষ্কার নিয়ে আপাতত কিছুই ভাবছি না। স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছি। নির্বাচনে টিকে থাকব। নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি।
নড়াইল সদরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস। এই পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার আলমগীর হোসেনসহ তিনজন। সরদার আলমগীর হোসেন  বলেন, এলাকার জনগণের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাদের চাওয়া থেকেই নির্বাচন করছি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকতে চাই। বিপুল ভোটে তিনি জয়ী হবেন বলে আশাবাদী।
আখাউড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ বোরহান উদ্দিন। মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনে খুরশীদ হায়দার টুটুল দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল আকবর কল্লোল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা থাকলেও দলের চাপ থাকায় আজ শনিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথা জানান। মাহবুবুল আকবর কল্লোল বলেন, দলের চাপ আছে। তা ছাড়া প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। এখানে নির্বাচন করে লাভ নেই।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুল কাইয়ুম খোকন। তার বিপক্ষে হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি রাইসুল হাসান কেনেডি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল কাদির স্বপন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল ইসলাম চৌধুরী মামুন। তার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাইয়ুম। ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক চেয়ারম্যান তছলিম উদ্দিন চৌধুরী। তার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের নেতা ও সাবেক মেয়র মো: মাছুদ খান, ইঞ্জিনিয়ার মাসুম হোসেন ও আবু সাঈদ মোস্তফা কামাল।
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভায় দলের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বর্তমান মেয়র আনিছুর রহমান আনিছ। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শ্রীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রথম ভিপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আহসানউল্লাহ। শেরপুর সদরে গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া দলের মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির রোমান। নলিতাবাড়ি পৌরসভায় শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক দলের মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সভাপতি আ: হালিম উকিল। তিনি  বলেন, কেন্দ্র যেভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিল, তৃণমূল কমিটি তা মানেনি। তাই এলাকার মানুষের ভালোবাসা নিয়ে নির্বাচন করছি। আশা করি জয়ী হবো। সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ সদর, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পৌরসভায় আওয়ামী লীগের এক থেকে তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
এভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনড় অবস্থান নিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। তারা কখনো ঢাকায়, কখনো এলাকায় অবস্থান করছেন। সুযোগ পেলেই এলাকায় গিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। তবে কিছু পৌরসভায় তিন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী কমিয়ে একজনে আনতে সক্ষম হলেও এখন পর্যন্ত পুরোপুরি বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসে আনতে পারেননি। জানা গেছে, গত উপজেলা নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী-এমপিদের এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়িতে নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বেশি বিপর্যয় ঘটে। প্রথম ধাপে ১২ প্রভাবশালীর ১৪ উপজেলায় ও দ্বিতীয় ধাপে ১২ প্রভাবশালীর ১৩ উপজেলায় দল সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হন। এবারো বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনে টিকে থাকলে দলের প্রার্থীদের ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ  বলেন, সিলেট বিভাগের চারটি পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য। আজ (১৩ ডিসেম্বর) পর্যন্ত অপেক্ষা করব। প্রত্যাহার না করলে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য লে. কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান  বলেন, যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, বুঝিয়ে-সুজিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য। আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আশা করছি, তারা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন। তিনি বলেন, প্রতিটে দলেরই একটি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা আছে। যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।