সিলেট প্রতিনিধি : চলতি মাসের শেষ দিকে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে পৌর নির্বাচন। এবার প্রথমবারের মতো পৌর নির্বাচন হচ্ছে দলীয় প্রতীকে। চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপক প্রস্তুতি। সিলেটও পিছিয়ে নেই। থেমে নেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, এমনকি যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সংগঠন জামায়াত ইসলামীও।
তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রকাশ্য হলেও সিলেটের বিএনপি-জামায়াত অনেকটা গোপনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। নীরবেই তারা নির্বাচনী কৌশল ও প্রার্থী বাছাই করছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আসন্ন নির্বাচনে সারা দেশের ২৩৫ পৌরসভার মধ্যে সিলেটের ৩টি পৌরসভাও রয়েছে। এ তিন পৌরসভা হচ্ছে জকিগঞ্জ, কানাইরঘাট ও গোলাপগঞ্জ।
ইতোমধ্যে ওই তিন পৌরসভায় প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হলেন- জকিগঞ্জ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মো. খলিল উদ্দিন, কানাইরঘাট থেকে লুৎফুর রহমান ও গোলাপগঞ্জ থেকে সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের পৌর নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের প্রথম দফার বৈঠকে সিলেটের তিন পৌর প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সারা দেশে দলীয় চূড়ান্ত তালিকা তৈরির পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওই তালিকায় স্বাক্ষর করবেন। এরপর প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এরপর তা প্রার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে।
এর আগে গত রোববার বিকালে সিলেটের তিন পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করার জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথকভাবে বৈঠক করে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।
পৃথক বৈঠকগুলোতে আসন্ন পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত জেলা নির্বাচনী প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করেন।
তিন উপজেলার মধ্যে কানাইরঘাটে ৯ জন, জকিগঞ্জে ১৩ জন ও গোলাপগঞ্জে ২ জন জেলা নির্বাচনী কমিটির প্রতিনিধিদের কাছে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন।
রোববার রাতেই সিলেট জেলা নির্বাচনী কমিটি ওই ২৪ প্রার্থীর তালিকা হাতে নিয়ে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার দলীয় এমপিরা উপস্থিত ছিলন।
রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে জকিগঞ্জ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মো. খলিল উদ্দিন, কানাইরঘাট থেকে লুৎফুর রহমান ও গোলাপগঞ্জ থেকে সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিনের নাম দিয়ে একটি তালিকা তৈরি করে ওইদিন রাতেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার বিকালে শেখ হাসিনাও ওই তিন প্রার্থী চূড়ান্ত করেন।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন করে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ওই তালিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করবেন।’
এদিকে, আওয়ামী লীগের মতো জাপাও চূড়ান্ত প্রার্থী নিশ্চিত করেছে। গত রোববার দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ওই তিনজনের সাক্ষাৎকার নিয়ে তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন।
দলীয় সূত্র জানায়, সিলেটের তিন পৌরসভায় জাপা মনোনীত প্রার্থী হলেন জকিগঞ্জে বর্তমান মেয়র আবদুল মালেক, কানাইরঘাটে উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমদ ও গোলাপগঞ্জে উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আখলাকুর রহমান।
জাপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি আবদুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, ‘তিন পৌরসভার প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়ে এরশাদ তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।’
আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি অনেকটা প্রকাশ্যে তাদের দলীয় প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করলেও বিএনপি-জামায়াত গোপনেই প্রার্থী তালিকা তৈরি করছে।
জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও কানাইরঘাটে জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় প্রার্থী নির্ধারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতারা কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন। কিন্তু জামায়াত নির্বাচনে কীভাবে অংশ নেবে তা এখনো পরিষ্কার না হওয়ায় বিএনপি নেতারা আছেন সিদ্ধান্তহীনতায়।
তবে প্রকাশ্যে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের নাম না বললেও গোপনে তিন পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
তিন পৌরসভার মধ্যে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী থাকবে। এ ছাড়া কানাইরঘাটে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী দেয়া হবে।
গোলাপগঞ্জে বিএনপির গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহীন ও মশিকুর রহমান মাহির মধ্যে যে কেউ হবেন। জকিগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বদরুল হক বাদলকে প্রার্থিতা দেয়া হতে পারে। আর কানাইরঘাট থেকে জামায়াতের ওলিউল্লাহর নাম শোনা গেছে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দিলদার হোসেন সেলিম বলেন, ‘তূণমূলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।’ সময় হলে সব জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান বিএনপির এই নেতা।

