ঢাকাWednesday , 2 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বছরজুড়ে পাওয়া যাবে দেশি-বিদেশি ফল

Link Copied!

Fruitহাসান রেজা : ফলপ্রেমিদের জন্য সুখবর। অদূর ভবিষ্যতে বছরজুড়েই পাওয়া যাবে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু ফল। বর্তমান সরকার ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত ফল উৎপাদন, পুষ্টির চাহিদা পূরণ, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বৃহৎ পরিসরে উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টির উন্নয়ন প্রকল্প’ ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। জুলাই ২০১৫ থেকে জুন ২০২০ মেয়াদে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) দেশের ৪৫টি জেলার ৩৬২টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
mangoসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ ফল উৎপাদন হচ্ছে। আর যে পরিমাণ ফল উৎপাদিত হয় তার প্রায় ৬০ শতাংশই পাওয়া যায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর-এ চার মাসে। শীত মৌসুমে ফলের উৎপাদন ও প্রাপ্তি খুবই কম। এ সময়টিতে ফলের অভাবে দেশের মানুষের বিশেষ করে গ্রামীণ মা ও শিশুদের অপুষ্টিজনিত রোগ দেখা যায়। এ ছাড়া, এ সময়ে ফল আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। ফলের এসব গুরুত্বপূর্ণ দিকসহ বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি জনগণের টেকসই পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রকল্পটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বৃহত্তর জেলা ও উপকূলীয় এলাকার অব্যবহৃত জমিতে উন্নত জাতের বাগান সৃষ্টির মাধ্যমে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উৎপাদনযোগ্য সম্ভাব্য বিদেশি ফল, সবজি ও মসলার চাষ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতেও বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালিত হবে। এতে আদিবাসী, গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী, বিশেষ করে নারীদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশীয় ও রপ্তানিযোগ্য ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
bananaসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটির কার্যক্রমের ফলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত ফলের একাংশ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির ফলে চাষিদের অধিক বাজার মূল্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। ডিএই’র বিদ্যমান হর্টিকালচার সেন্টারগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নসহ প্রস্তাবিত নতুন হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে মানসম্পন্ন ও নতুন জাতের চারা ও কলম উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। হর্টিকালচার সেন্টার হতে প্রকল্প এলাকায় উন্নত জাতের ফলের চারা ও কলম সরবরাহ করা হবে। এতে করে ফলের বাগান সম্প্রসারণে মাঠ পর্যায়ের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ফলবাগানী ও নারীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দান, প্রর্দশনী বাগানের সফলতা দেখে শেখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রদর্শনী ও অন্যান্য টেকসই পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্যান ফসলের আধুনিক প্রযুক্তিগুলো চাষী পর্যায়ে সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি। এ ছাড়া, দলীয় সভা, মাঠ দিবস, উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারণা, টক শো ইত্যাদির মাধ্যমে চাষি ও অন্যান্য সুবিধাভোগীদের মাঝে সচেতনতা, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
Orangeএ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মেহেদী মাসুদ দৈনিক পাঞ্জেরী’কে বলেন, আমের বিভিন্ন আগাম জাত যেমন চৈতি, বৈশাখী, গোলাপখাস, গোবিন্দভোগ, তেলি বোম্বাই এবং নাবী জাত যেমন বারি আম-৪, কাঁচামিঠা, গৌড়মতি, ভাল জাতের আশ্বিনা প্রভৃতির বাগান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে যাতে ৭-৮ মাসব্যাপী আম উৎপাদিত হয় সে লক্ষ্যে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ছাড়া, আমের মৌসুম শেষেই চাষিরা যাতে বারি মাল্টা-৪ ব্যাপকভাবে উৎপাদন করতে পারেন সে লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বারোমাসী কাঁঠাল চাষ বৃদ্ধির মাধ্যমে বছরের সবসময় ও দেশের সব এলাকায় কাঁঠাল প্রাপ্তির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, অপ্রচলিত ফল যেমন শরিফা, ডালিম, খেঁজুর, জাম্বুরা, সফেদা, বেল, কদবেল, টককুল, আতা, টক আতা, তাল ইত্যাদি ফলের চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যেও ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার বাণিজ্যিক মিশ্র বাগান প্রর্দশনী, ৩ হাজার মাঝারি বাণিজ্যিক মিশ্র ফল বাগান প্রর্দশনী, ১ হাজার ড্রাগন ফল বাগান প্রর্দশনী, ১৫ হাজার বসতবাড়ী প্রর্দশনী, ৭৫ হাজার খাটো/মাঝারি উচ্চতার নারিকেলের বসতবাড়ী প্রর্দশনী, আড়াইশ’ নতুন/অপ্রচলিত ফলবাগান প্রদর্শনী, ৩শ’ বিদ্যমান প্রদর্শনী পরিচর্যা/ব্যবস্থাপনা, ৫০টি করে আধুনিক সেচ ও সোলার/ড্রিপ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া, ১টি আরবান সেলস সেন্টার স্থাপন, ১টি ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং ৯টি নতুন হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণ করা হবে। ২ লাখ ১০ হাজার জন কৃষক, ৪৫০ জন স্প্রেম্যান, ১২ হাজার নার্সারি ম্যান, ৯শ’ জন মালি, ২১০ জন কর্মকর্তা, ১ হাজার ৫শ’ জন এসএএও/এসএএইচওকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাড়তি আরো প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন ফল উৎপাদন সম্ভব হবে। অতিরিক্ত উৎপাদিত এ ফল জাতীয় অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বাড়তি অবদান রাখবে। প্রায় এক লাখ ফল বাগানী এবং সমসংখ্যক কৃষক পরিবার প্রত্যক্ষভাবে প্রকল্প সুবিধা ভোগ করবে। এছাড়া আরও প্রায় ১২ লাখ নারী-পুরুষ ফল চাষে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করবে। এত করে গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ফলচাষীদের মাথাপিছু আয় প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ পুষ্টির অভাব দূর হবে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, মোটিভিশনাল ট্যুর, ফল মেলা ও উন্নত জাতের ফলের প্রর্দশনী বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
ডিএই’র মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, এই প্রকল্পটি নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা আশা করছি, প্রকল্পটির ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রমের ফলে বারো মাসজুড়ে প্রচলিত ও অপ্রচলিত বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল উৎপাদন সম্ভব হবে এবং তা দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে বিরাট অবদান রাখবে।